বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৬:২০ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ডেঙ্গুতে মৃত্যুহার পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ

বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এবং মৃত্যুর অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। চলতি বছরে বাংলাদেশে ডেঙ্গু আক্রমণ, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুর সংখ্যা এবং মৃত্যুহার গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পৌঁছেছে। এজন্য মশার বংশবিস্তারে বাংলাদেশের অনুকূল পরিবেশকে দায়ী করেনি সংস্থাটি।

গত শুক্রবার সংস্থার ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সাধারণ চলাচল ও ব্যবসা-বাণিজ্যে কোন ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করেটি সংস্থাটি।

সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ৬৯ হাজার ৪৮৩ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ও মারা গেছে ৩২৭ জন। মোট আক্রান্তের ৬২ শতাংশ শনাক্ত ও ৬৩ শতাংশ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে জুলাই মাসে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর মৃত্যুহার বেড়ে ০.৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা গত পাঁচ বছরের দ্বিগুণ।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আক্রান্ত অনুপাতে মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। এ বছরের ৭ আগস্টে তা শূন্য দশমিক ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে, যা পাঁচ বছরের মধ্যে দ্বিগুণ। এ ছাড়া সর্বোচ্চ আক্রান্তের বছর ২০১৯ সালে মৃত্যুহার ছিল (মোট মৃত্যু ১৬৪ হিসাবে) পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম শূন্য দশমিক ১৬ শতাংশ। পরের বছর ২০২১ সালে মৃত্যুহার ছিল শূন্য দশমিক ৩৭ শতাংশ ও ২০২২ সালে শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যদিও বাংলাদেশে ডেঙ্গু এনডেমিক বা স্থানীয় রোগ, কিন্তু বর্তমান ডেঙ্গুর বৃদ্ধি অস্বাভাবিক এবং আগের বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি। এ বছর এই ঢেউ শুরু হয়েছিল জুনের শেষের দিকে। আগের বছরের তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত মৃত্যুহার তুলনামূলকভাবে বেশি।

এ বছর বাংলাদেশে এডিস মশার ঘনত্ব এবং মশার প্রজনন স্থলের সম্ভাব্য হটস্পটের সংখ্যা গত পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে জানানো হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, উচ্চ তাপমাত্রা এবং উচ্চ আর্দ্রতা, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের প্রেক্ষাপটে কারণে সারা বাংলাদেশে মশার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পূর্ব পাকিস্তানে প্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ১৯৬০ সালে। তখন এ জ¦রের নাম ছিল ‘ঢাকা ফিভার’। স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ২০১০ সাল পর্যন্ত সাধারণত বর্ষা মৌসুমে মে-সেপ্টেম্বর ও উচ্চ তাপমাত্রার সময় ডেঙ্গু দেখা দিত। কিন্তু পরবর্তীকালে তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

সংস্থার তথ্যমতে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে চলতি বছর ২০২৩ সালের মে মাস থেকে বাংলাদেশে ডেঙ্গুর অস্বাভাবিক বিস্তার শুরু হয়েছে, যা এখনো অব্যাহত আছে। ২০০০ সাল থেকে রেকর্ড করা তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সর্বোচ্চ।

আরও ১৪ মৃত্যু : ঢাকার বাইরে ডেঙ্গু রোগী বেড়েই চলছে। দুই সপ্তাহ ধরে এই বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে এবং তা দ্বিগুণে পৌঁছায়। এই দুই সপ্তাহে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৯ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাইরে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ২৬৫ জন, যা ভর্তি রোগীর ৬৪ শতাংশ। বাকি ১২ হাজার ৮৩৪ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকায়, যা ভর্তি রোগীর ৩৬ শতাংশ।

সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায়ও (গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) ঢাকার চেয়ে বাইরের হাসপাতালে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এ সময় ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৪৩২ জন, যা এ কদিনে ভর্তি রোগীর ৬১ শতাংশ। বাকি ৯৪০ জন ভর্তি হয়েছে ঢাকায়।

এ নিয়ে এ বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২ হাজার ৫০৬ জনে। তাদের মধ্যে ঢাকায় ভর্তি হয়েছে ৩৬ হাজার ৯৮১ ও ঢাকার বাইরে ৩৫ হাজার ৩০৮ জন। এসব রোগীর মধ্যে এ মাসের গত ১২ দিনেই ভর্তি হয়েছে ৩০ হাজার ৬৭৪ জন ও মারা গেছে ১৩৬ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ১৪ জন মারা গেছে, যা পাঁচ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ৭ আগস্ট এই সংখ্যক রোগী মারা যায়। নতুন মৃত্যুর মধ্যে ঢাকায় ১১ জন ও ঢাকার বাইরে তিনজন রয়েছে। এ নিয়ে এ বছর এখন পর্যন্ত মারা গেল ৩৮৭ জন।

গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন-পুরাতন মিলে চিকিৎসা নিচ্ছিল ৯ হাজার ৮৩০ জন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৪ হাজার ৪২৩ জন এবং ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলায় ৫ হাজার ৪০৭ জন রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com