বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন
বাংলাদেশের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ভারতের কূটনৈতিক বার্তা সত্যি হলে দুর্ভাগ্যজনক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, আমরা আশা করবো, ভারত বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে মর্যাদা দেবে এবং এই দেশে সত্যিকার অর্থেই সব দলের অংশগ্রহণে, সবার সদিচ্ছায় একটি নিরপেক্ষ-নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যাপারে তারা পূর্ণ সমর্থন জ্ঞাপন করবে।
স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১৯ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কখনো মৌলবাদী শক্তি ক্ষমতায় আসবে না। ভারত যদি বাংলাদেশের মানুষের চাহিদা না বুঝে একটি দলের পক্ষে দাঁড়ায় তাহলে তা হবে এই অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। বাইডেনকে দেওয়া দিল্লির বার্তা যদি সত্য হয় তাহলে বলতে হবে যে, তারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা বাংলাদেশের মানুষের আস্থার ওপর আস্থা রাখি। তাদের শক্তির ওপর আস্থা রাখি।
ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আওয়ামী লীগ পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আজকে তারা মানুষের ভোটের অধিকার হরণ করেছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা হরণ করেছে, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করেছে। এই সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করেছে এবং এখন বাংলাদেশের মানুষকে জিম্মি করে তারা একটা রাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।
বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, দেশের জনগণ আজকে এক হয়েছে, সব দলগুলো এক হয়েছে, তারা তাদের অধিকার-ভোটের অধিকার, গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্য লড়াই শুরু করেছে। এই একদফা লড়াইয়ে নিশ্চয়ই জনগণ জয়ী হবে।
সম্প্রতি আনন্দবাজার পত্রিকা ও জার্মানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের পক্ষ নিয়ে মার্কিন দফতরে চিঠি দিয়েছে ভারত। নয়া দিল্লি মনে করছে, বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকার দুর্বল হলে তা ভারত এবং যুক্তরাষ্ট্র কারও পক্ষেই সুখকর হবে না। ওয়াশিংটনের মতো ভারত ও বাংলাদেশে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন চায় জানিয়ে ওই ক‚টনৈতিক বার্তায় নয়া দিল্লি বলেছে, হাসিনা সরকারকে অস্থির করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, তা ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার সার্বিক নিরাপত্তার জন্য ইতিবাচক নয়।