বুধবার, ২৪ Jun ২০২৬, ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন
মোমেনা চৌধুরী- মূলত মঞ্চ অভিনেত্রী হিসেবেই বেশি সমাদৃত। টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি। তার একক অভিনয়ের ‘লালজমিন’ নাটকটি দেশে ও দেশের বাইরে তিন শতাধিক বার মঞ্চস্থ হয়েছে। সম্প্রতি তিনি তার ‘লালজমিন’ নিয়ে দুবাই, নিউইয়র্ক, কানাডা সফর করে এসেছেন।
‘লালজমিন’ নিয়ে লম্বা সফরের অভিজ্ঞতা কেমন? লালজমিনের জার্নিটার কথা যদি বলি, দুবাই, নিউইয়র্ক, কানাডা- তিনটা জার্নির ফিল একই রকম প্রায়। বাংলাদেশের দর্শকদের যেমন করে পাই তাদের চাইতেও অনেক বেশি। কারণ যারা দেশের বাইরে থাকেন স্বাভাবিকভাবেই দেশের প্রতি তাদের আলাদা একটা টান থাকে। দেশের প্রতি মমতা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাকে স্মরণ করা এগুলো তারা ফিল থেকেই করেন। স্বাভাবিকভাবেই তাদের এসব কিছু মনে পড়ে যাওয়া- এটা সব জায়গাতেই হয়; তবে যারা দেশের বাইরে থাকেন তাদের একটু বেশি হয়। অনেক সিনিয়র আর্টিস্ট ছিলেন, প্রবাসী মুক্তিযোদ্ধারাও ছিলেন। দেশের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি আবেগে আপ্লুত হয়েছেন তারা। মঞ্চাভিনয়ের শুরুতে সবাই তাদের রেওয়াজ অনুযায়ী দাঁড়িয়ে আমাকে বিশেষ সম্মানের সঙ্গে বরণ করে নিয়েছেন। এটা আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছে।
এই প্রদর্শনীগুলো কতটা সফল হয়েছে? বিদেশে লাল জমিনের প্রদর্শনী করতে গিয়ে আমাকে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যা ফেস করতে হয়েছে। যেমন সেখানে আমার টিম মেম্বার নিতে পারিনি। শুধু দুবাইতে একজন সাজেদুর রহমান সেট ডিজাইন থেকে শুরু করে টেকনিক্যাল সব কাজ যত্নের সঙ্গে একাই করেছেন। আর আমেরিকা ও কানাডায় সেখানকার যারা থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত তাদের সাপোর্ট নিয়ে টেকনিক্যাল কাজ করেছি। দেশেও আমাকে নানা সমস্যা ফেস করতে হয়। তারপরও আমি বলব, প্রচণ্ড টান আর ভালোবাসা এবং আমার নিজের অদম্য মনোবলের কারণে সব জায়গাতেই লালজমিনের প্রদর্শনী সফল।
এ পর্যন্ত কততম প্রদর্শনী হলো লালজমিনের? দুবাই, নিউইয়র্ক, কানাডার ক্যালগারির পর ঢাকায় ১৭ আগস্ট শিল্পকলা একাডেমিতে আরও একটি প্রদর্শনী করি। ১৫ আগস্ট-এর শোকাবহ মাস উপলক্ষে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এটাসহ এ পর্যন্ত লালজমিনের ৩৩১তম প্রদর্শনী হয়েছে। সামনে অস্ট্রেলিয়া এবং সিঙ্গাপুরেও দুটি প্রদর্শনীর সম্ভাবনা রয়েছে। অনেকদিন ধরেই এ নিয়ে কথাবার্তা চলছে। এছাড়া দেশের বাইরেসহ নানা ব্যস্ততায় কলেজে-কলেজে লালজমিনের প্রদর্শনী বন্ধ ছিল। সেটা আবার আগামী মাস থেকে শুরু করব।
লালজমিন প্রদর্শনীর ক্ষেত্রে পৃষ্ঠপোষকতা কেমন পান?
আমি আমার ‘লালজমিন’-এর প্রদর্শনী সব জায়গাতেই নিজস্ব অর্থায়নে করে থাকি। বিদেশেও তা-ই হয়েছে। শুধু দুবাইয়ের প্রদর্শনীতে একজন স্পন্সর করেছেন। আমেরিকা, কানাডা দু’জায়গাতেই আমার নিজস্ব অর্থায়নে প্রদর্শনীর কাজ করতে হয়েছে। প্রদর্শনীতে কোনো পৃষ্ঠপোষকতা না থাকাতেও সমস্যা হয়েছে। মঞ্চনাটকে এমনিতেই স্পন্সর পাওয়া যায় না। এটা যদি গান হতো, নাচ হতো তাহলেও এই স্পন্সর পাওয়া যেত। কিন্তু মঞ্চনাটকে এটা সম্ভব না হওয়ায় আমাকে এই সমস্যা সব জায়গাতেই ফেস করতে হয়। দেশেও নিজের অর্থায়নে প্রদর্শনী করে থাকি। তবে যখন সংস্কৃতি মন্ত্রী হিসেবে যখন আসাদুজ্জামান নূর ছিলেন তখন তিনি একটা সাপোর্ট দিতেন। আমার খোঁজ-খবর নিতেন। এরপর কেউই আমার খোঁজ খবর নেননি। বলতে পারেন, সব জায়গাতেই আমি খালি হাতে ‘লালজমিন’ নিয়ে লড়াই করছি।
পর্দার জন্য নতুন কী কাজ করছেন?
দুটো সিনেমা নিয়ে আলোচনা চলছে। আর আমার নিয়মিত চলা ধারাবাহিক নাটকগুলো তো করছিই। এর মধ্যে টিভির জন্য দুটো একক নাটক ‘বিবেক’ এবং ‘অপেক্ষা’তে অভিনয় করেছি। দুটো নাটকেরই পরিচালক ছিলেন মাবরুর রশীদ বান্নাহ।