মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন
মুক্তির সাত দিনেই বিশ্বব্যাপী ৭০০ কোটিরও বেশি আয় করে ফেলেছে ‘জওয়ান’। এই অভাবনীয় সাফল্যে ছবির অভিনেতা থেকে শুরু করে কলাকুশলীরা উন্মাদনায় ভাসছেন। ছবিটির সাফল্য উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার মুম্বাইয়ের যশরাজ ফিল্মস স্টুডিওতে অনুষ্ঠিত হয় সংবাদ সম্মেলন।
এদিন সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক অ্যাটলি কুমার, শাহরুখ খান, বিজয় সেতুপতি, দীপিকা পাড়ুকোন, অ্যাটলি, সানিয়া মালহোত্রা, ঋদ্ধি ডোগরা, লহর, আলিয়া কুরেশি, সুনীল গ্রোভার। তবে মায়ের জন্মদিন থাকায় উপস্থিত থাকতে পারেননি ছবির মূল নায়িকা নয়নতারা। উপস্থিত না থাকলেও সবার জন্য একটি ভিডিও বার্তা পাঠিয়েছেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পরিচালক অ্যাটলি কুমার বলেন, ‘আমি একজন ভক্ত। একজন ভক্ত হিসেবে আমি যখন সিনেমা দেখি এবং সেখানে কোন জায়গাটা ওয়াও লাগে। ভক্তরা পর্দায় কোন বিষয়গুলো দেখে মুগ্ধ হয় সেটা আমি জানি আর সেটাই আমি পর্দাতে নিয়ে আসার চেষ্টা করি। আমার কোন ফর্মুলা নেই বা থিওরি নেই। আমার চোখে আমি যেটা দেখি সেটাকেই পর্দাতে দেখানোর চেষ্টা করি। এমন নয় যে, শুধু সেটা শুধু সিনেমা থেকে। আমি শেখার চেষ্টা করি এরপর আমার ক্যারিয়ারে যা শিখেছি সেখান থেকে কিছু নেওয়ার চেষ্টা করি। এরপর আমার স্ত্রী প্রিয়া, আমার মা-বাবার কাছ থেকেও শিখি। যেটা আমি ভালোবাসি, যেটা আমার কাছে ভালো লাগে সেটাই আমি দেখানোর চেষ্টা করি। এটাই আমার সিক্রেট বলা যায় সিনেমা লেখা বা বানানোর ক্ষেত্রে।’
সিনেমাটি এমন ব্লকবাস্টার হবে জানতেন কিনা, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সৃষ্টিকর্তা আমার উপর বেশ দয়ালু। আমি পাঁচটা সিনেমা করেছি, সবগুলোই ব্লকবাস্টার। আমি জানি যে, আমি নতুন কিছু দিতে পারব। কিন্তু শাহরুখ স্যারের বিষয়ে আমি কিছুটা চিন্তিত ছিলাম। কারণ, তিনি মাসেরও মাস, একদমই অন্যকিছু। আমি থালাপাতি বিজয় স্যারের সঙ্গে শেয়ার করেছিলাম বিষয়টা। তখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন যে আমি কি করতে চাইছি? তখন আমি বলেছিলাম, আমি এই সিনেমাটাতে জীবন দিয়ে দেব। শাহরুখ স্যার যখন হ্যাঁ বলেছেন ছবিটি করতে তখন আমি জানতাম ছবিটি ব্লকবাস্টার হবে। কিন্তু আমি চেয়েছিলাম সেটাকে অন্য লেবেলে নিয়ে যেতে, আরও অনেক উপরে। তখন বিজয় স্যার আমাকে বলেছিলেন, পুরো পৃথিবীর জানা উচিত যে তুমি কেমন পরিচালক। যাও কাজ শুরু করো। এরপর বাকিটা তো ইতিহাস। তিনদিনেই ব্লকবাস্টার সিনেমা আর এখন তো আমরা উড়ছি।
সবশেষে অ্যাটলি বলেন, সব পরিচালকেরই একটা ভিশন থাকে, আমারও তাই। আমি চেয়েছিলাম উনাকে এমনভাবে উপস্থাপন করতে যেভাবে উনাকে আগে কেউ দেখেনি। আমি যখন শাহরুখ স্যারকে স্ক্রিপ্টটা দেই এরপর তিনি জানালেন, তার পছন্দের চরিত্র হচ্ছে আজাদ। কিন্তু আমি উনাকে বলেছিলাম, আপনি ভুল স্যার, পুরো পৃথিবী বিক্রম রাথোরকে মনে রাখবে। আমি আমার বাবাকে ভীষণ ভালোবাসি তাই বাবা চরিত্রটা আমাকে বেশি টানে। এই ছবির বিক্রম রাথোর চরিত্রটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, এটা স্যার আমার জন্য করেছেন। যখন প্রথম দৃশ্যটা করি বিক্রম সিগার হাতে স্মোকিংয়ের মধ্য দিয়ে বের হয়ে আসছে, এমন শাহরুখকে আগে কেউ দেখেনি। আমি স্যারকে বললাম, এটা আপনার জন্য স্যার। ত্রিশ বছর ধরে তিনি সিনেমা করছেন। উনাকে আমি একটা অন্যরকম কিছু দিতে চেয়েছিলাম। সম্পাদনা দেখার পর স্যার বললেন, আমি ভুল। সবাই তো দেখি বিক্রমের প্রশংসা করছে। জওয়ান শাহরুখ খানের কাছে লেখা আমার এক প্রেমপত্র। তার সঙ্গে কাজ করতে পেরে আমি অভিভূত।’
সংবাদ সম্মেলনে শাহরুখ বলেন, ‘আমি বরাবরই দক্ষিণি ছবির ভক্ত। আগে ডাব করা হতো না। তা-ও আমি বোঝার চেষ্টা করতাম। এখন দক্ষিণের ছবি দেখতে অসুবিধা হয় না।’
শাহরুখ আরও বলেন, ‘আমার বড় ছেলে একদিন আমাকে বলেছিল, সে আর সুহানা আমার স্টারডম দেখে বড় হয়েছে। এই স্টারডমের উন্মাদনা তারা দেখেছে। বড় ছেলে বলে, আমাকে এখন কমপক্ষে এমন পাঁচটা ছবি করতে হবে, যার সাফল্য আব্রাম যেন অনুভব করতে পারে।’