মঙ্গলবার, ২৩ Jun ২০২৬, ১০:১৮ অপরাহ্ন
বেশ কয়েক বছর ধরেই দুই বাংলার তারকাদের হরহামেশা কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের তারকারা কলকাতায় আবার সেখানকার অভিনয়শিল্পীরা ঢাকাই সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসা কুড়াচ্ছেন।
গত বছর দুয়েক ধরে এপার বাংলার তারকারাই বেশি কাজ করছেন। এর মধ্যে আবার চলতি বছর ফের টলিউডের নায়িকাদের আনাগোনা বেড়ে গেছে। বিশেষ করে অতি সম্প্রতি ওপার বাংলার বেশ ক’জন অভিনেত্রী এদেশীয় সিনেমায় অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন।
পার্ণো মিত্র, ইধিকা পাল, দর্শনা বণিক, ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, সায়ন্তিকা ব্যানার্জি এবং সর্বশেষ স্বস্তিকা মুখার্জির মতো তারকারা ব্যস্ত হচ্ছেন ঢাকাই সিনেমায়। অবশ্য বাংলাদেশি সিনেমায় এই অভিনেত্রীরাই প্রথম নয় এর আগে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত, কোয়েল মল্লিক, শুভশ্রী গাঙ্গুলি, শ্রাবন্তীর মতো অভিনেত্রী কাজ করেছেন। স্বস্তিকা মুখার্জিও ১৩ বছর আগে এফ আই মানিকের ‘সবার উপরে মা’ নামের একটি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন শাকিব খানের বিপরীতে। পাশাপাশি এর আগে যৌথ প্রযোজনার ছবিতে কাজ করে গেছেন সায়ন্তিকা ব্যানার্জি।
তবে কয়েকদিন ধরে কলকাতার এই অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জির এদেশে কাজ করা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে। চলছে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগসহ বিভিন্ন ধরনের মন্তব্য। নাট্যপরিচালক তাজু কামরুল পরিচালিত, মনিরুল ইসলাম প্রযোজিত ‘ছায়াবাজ’ সিনেমায় শুটিং চলাকালে নৃত্যপরিচালক মাইকেল বাবুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে কাজ শেষ না করেই তিনি কলকাতায় চলে গেছেন। অথচ ‘ছায়াবাজ’ সিনেমায় শুটিং চলাকালে নতুন আরও একটি সিনেমার কাজের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সায়ন্তিকা। এর মধ্যে আবার গত ঈদে মুক্তি পাওয়া বছরের সেরা
ব্যবসাসফল সিনেমা ‘প্রিয়তমা’য় কাজ করে ব্যাপক আলোচনায় এসেছেন কলকাতার টিভি অভিনেত্রী ইধিকা পাল। শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করে বাংলাদেশে তো বটেই, জীবনের প্রথম সিনেমায় অভিনয় করে ওপার বাংলার নাট্য ও সিনেমা দর্শকদের কাছে রীতিমতো তারকা বনে গেছেন এই অভিনেত্রী। ‘প্রিয়তমা’ সিনেমায় সহজ সরল এক প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসিত হওয়ার সুবাদে পাচ্ছেন নতুন নতুন কাজের প্রস্তাব ইধিকা।
আর ছোট পর্দার ধারাবাহিকের কাজ তো রয়েছেই। অন্যদিকে ‘এমআর-৯ : ডু অর ডাই’ সিনেমায় হলিউড এবং বাংলাদেশের শিল্পীদের পাশাপাশি কাজ করেছেন ভারতের অভিনেত্রী স্বাক্ষী প্রধান। আলোচিত এই অভিনেত্রী ২০১৯ সালে টিভি ধারাবাহিক ‘নাগিন-৩’ এবং ২০১৯ সালে জিফাইভের ‘পয়জন’ সিরিজে অভিনয় করে পরিচিতি পান। পাশাপাশি ‘রাগিনি এসএমএস’, ‘পয়জন-২’, ‘পেশওয়ার’সহ বেশ কয়েবটি সিরিজে কাজ করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি উপস্থাপক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেছেন তিনি। সর্বশেষ বাংলাদেশের সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি। এছাড়া কামরুজ্জামান রুম্মান পরিচালিত ‘লিপস্টিক’ সিনেমায় দর্শনা বণিক অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় তারকা আদর আজাদের বিপরীতে।
এছাড়া কিছুদিন আগে বাংলাদেশের অনন্য মামুন এবং অভিনন্দন দত্ত পরিচালিত ‘স্পর্শ’ নামক একটি সিনেমার নিরবের বিপরীতে অভিনয় করতে বাংলাদেশে এসেছিলেন ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত। তিনি অবশ্য অনেক আগে থেকেই এই বাংলাদেশের সিনেমায় পরিচিত মুখ। এদেশের পাশাপাশি বেশ কিছু যৌথ প্রযোজনার সিনেমায় অভিনয় করেছেন। ১৯৯৭ সালে ‘স্বামী কেন আসামী’ সিনেমায় অভিনয়ের মাধ্যমে এদেশের সিনেমায় তার অভিষেক হয়। এরপর একে একে তিনি ‘রাঙ্গা বউ’, ‘আমি সেই মেয়ে’সহ বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে বাংলাদেশের দর্শকদের মন জয় করে নেন। এছাড়া পাওলি দাম ‘স্বত্তা’ নামের সিনেমায় শাকিব খানের বিপরীতে অভিনয় করেও সুনাম অর্জন করেন। এর আগে এদেশের সিনেমায় কাজ করেছেন পূজন মজুমদার পরিচালিত শাপলা মিডিয়া প্রযোজিত ‘পিয়া রে’ সিনেমায় কৌশানি মুখার্জি, মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ‘যদি একদিন’ সিনেমায় শ্রাবন্তী অভিনয় করেন।
অন্যদিকে ওপার বাংলার সিনেমাতেও বাংলাদেশের শিল্পীরা নিয়মিতভাবেই কাজ করছেন। সেই তালিকাও নেহায়েত ছোটও নয়। ওপার বাংলায় বেশ কিছু সিনেমায় অভিনয় করে প্রশংসিত হয়েছেন বাংলাদেশের জয়া আহসান। ভারতের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারসহ একাধিক পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। জয়ার মতোই কলকাতায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে ঢাকাই সিনেমার আরেক আলোচিত অভিনেত্রী নুসরাত ফারিয়া। এমনকি বাংলাদেশের সিনেমার চেয়ে সেখানকার চলচ্চিত্রেই বেশি কাজ করছেন তিনি। এ নিয়ে কয়েকদিন আগে গণমাধ্যমে তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের নির্মাতারা তাকে নিয়ে ভাবেন না।
এ কারণেই কলকাতার সিনেমায় বেশি ব্যস্ত তিনি। এছাড়া রাফিয়া রশীদ মিথিলা, বিদ্যা সিনহা সাহা মিম, আজমেরী হক বাঁধন, তাসনিয়া ফারিণও কাজ করছেন টালিগঞ্জের সিনেমায়। তবে বাংলাদেশের অভিনয়শিল্পী বিশেষ করে অভিনেত্রীরা ওপার বাংলায় অভিনয় করা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অনেক ক্ষোভের কথা শোনা গিয়েছিল। সেই হিসেবে বাংলাদেশের টলিউডের শিল্পীদের অভিনয় নিয়ে কোনো ক্ষোভ এদেশের শিল্পী বা কলাকুশলীদের মধ্যে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া ঠিক তেমনভাবে দেখা যায়নি। যদিও কেউ কেউ বলছেন, যেসব সিনেমা এবং চরিত্রে ওপার বাংলার অভিনেত্রীরা কাজ করছেন, সেখানে বাংলাদেশের শিল্পীরাও তাদের চেয়ে ভালো কাজ করতে পারতেন।
কেউ কেউ আবার একথাও বলছেন, যৌথ প্রযোজনার সিনেমা নির্মাণে শিল্পী ও কলাকুশলী নেয়ার ক্ষেত্রে দুই দেশের রেশিওর বিষয়েও বেশ আলোচনা হয়েছে। এক্ষেত্রে ওপার বাংলার শিল্পী ও কলাকুশলীরা বেশি প্রাধান্য পেয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে সে যাই হোক, যৌথভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণ বা সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের বিষয়ে দুই দেশের শিল্পীদের মেলবন্ধন অনেকটাই এই সিনেমাশিল্পের মাধ্যমেই হয়েছে। সেই হিসেবে দুই দেশের শিল্পীরা একে অপরের সিনেমার কাজে অংশ নিয়ে দুই দেশের সংস্কৃতিকেই সমৃদ্ধ করতে ভূমিকা রাখছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সাংস্কৃতিক এই আদান-প্রদান দুই দেশের জন্যই জরুরি।