বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের নব গঠিত কমিটিতে টাকার বিনিময়ে বিতর্কিত লোকজনকে ঢুকানোর প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক টিমকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে। ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে রাজাকার সন্তান, বহিস্কৃত, বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি দেওয়ায় আওয়ামী লীগের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় নেতাদের অনিয়মের প্রতিবাদে অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ৩ টা থেকে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে পদবঞ্চিত নেতারা এই ঘোষণা দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে পদ বঞ্চিত নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা ছাড়াও ছাত্রলীগ ও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এমন নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অবস্থান কর্মসূচিতে নেতারা আবেগঘণ বক্তব্য দেন। এতে নিজের বক্তব্যে মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সদস্য ও শহর যুবলীগের সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম জাহাঙ্গীর বলেন, জেলা কমিটি থেকে কেন্দ্রীয় কমিটিতে ময়মনসিংহের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের কাছে কমিটি জমা দেওয়ার পর শেখ হাসিনাকে তোয়াক্কা না করে ২৬ জনের নাম কেটে মনমতো লোকজনকে কমিটিতে স্থান করে দিয়েছেন। এসব লোকজন রাজাকারপুত্র, বারবার দলথেকে বহিস্কৃত। আমরা ময়মনসিংহবাসী এই কমিটি মানিনা। কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, অসীম কুমার উকিলদেরকে আমরা ময়মনসিংহে অবাঞ্চিত ঘোষণা করছি।
জেলা যুবলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি প্রদীপ ভৌমিক বলেন, সাংগঠনিক টিমের দায়িত্বে থাকা শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল ত্যাগী নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে উনাদের মনমতো, অনেকেই বলে পয়সার বিনিময়ে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। আমরা নেত্রীর কাছে বলতে চাই অবিলম্বে এই সাংগঠনিক টিমকে ময়মনসিংহ থেকে বিদায় করেন। তা না হলে ময়মনসিংহে আওয়ামী লীগ খন্ডবিখন্ড হয়ে যাবে।
জেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আতাউর রহমান টিটুর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সহ সভাপতি মিনার হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য রাহাত হোসেন টিটো, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ রানা, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক আরিফুল হক লিটন, জেলা যুবলীগের সাবেক অর্থবিষয়ক সম্পাদক রেজাউল আলম ভুলু, জেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম শাহীন, মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী মঞ্জুর মোর্শেদ প্রমুখ।
২০২২ সালের ৩ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সার্কিট হাউস মাঠে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন হয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রের অনুমোদন পায় এই দুই কমিটি। অনুমোদন পাওয়ার পর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটির বিভিন্ন পদে থাকা নেতা, সদস্য ও উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে কমিটি থেকে বাদ দেওয়ার দাবিতে কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি থেকে ১৫ জন বিতর্কিত নেতার তালিকা প্রকাশ করা হয়।