বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ১২:১১ অপরাহ্ন
রোববার (২২ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে ঢাকায় মহাসমাবেশ সফল উপলক্ষে দলের নেতাকর্মীদের নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে এক যৌথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভা শেষে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘বর্তমানে লুটেরা ও বেআইনি সরকার জোর করে ক্ষমতায় টিকে আছে। তারা গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে। নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি রসাতলে নিয়ে গেছে। তারা আবারও একতরফা নির্বাচন করতে চায়। আমাদের অসংখ্য নেতাকর্মীকে মিথ্যা ও গায়েবি মামলায় সাজা দেওয়া শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩৬০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আইনজীবীদের ভবন উদ্বোধন করতে গিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তা কোনো নির্বাহী প্রধান বলতে পারেন না।
তিনি বিচারাধীন মামলা নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রমাণিত হলো যে, আওয়ামী লীগ সরকার সরাসরি প্রভাব বিস্তার করে ফরমায়েশি রায় দিতে নির্দেশ দিচ্ছে। বিএনপির নেতাদের সাজা দেওয়ার চক্রান্ত কার্যকর করছে।’
সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আদালতকে ব্যবহার করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘দেশের সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন করছি। আমাদের দাবি একটাই অবিলম্বে সরকারকে পদত্যাগ করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। কারণ এই সরকারের অধীনে কখনোই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এটা দেশে-বিদেশের সবাই বলছেন।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘প্রতিদিন রাজপথে আন্দোলন দানা বাঁধছে। আমাদের দ্বারা কোথাও অহিংস ঘটনা ঘটেনি। তবুও আমাদের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে মাত্র ৪ দিনে ৪৮টি মামলা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা আমাদেরকে হুমকি দিচ্ছে। এটা চরম দূর্ভাগ্যজনক। আসলে তারাও বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারের সঙ্গে এক হয়েছে।’
সরকারি দলের বিরুদ্ধে এখনই মামলা হতে হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, যে হুমকি তারা দিয়েছেন, বিশেষ করে গতকাল প্রধানমন্ত্রী হুমকি দিয়েছেন, তার আগে ওবায়দুল কাদের বলেছেন- হাত ও দাঁত ভেঙে দেওয়া হবে। কিন্তু এসব বিষয়ে তারা (প্রশাসন) কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। উল্টো বিরোধী দলকে নির্মূল করার জন্য সরকারের সঙ্গে একজোট হয়ে কাজ করছে।
এ সরকার আবারো এক তরফা নির্বাচন করার পায়তারা করছে বলে অভিযোগ করে ফখরুল বলেন, যেটা ২০২৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে করেছে, এবারো সেই পায়তারা হচ্ছে।
তিনি মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী ২৮ অক্টোবর আমাদের মহাসমাবেশ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। সারা দেশের নেতাকর্মীরা আমাদের মহাসমাবেশে অংশগ্রহণ করবেন। পুলিশ প্রশাসনের উদ্দেশে বলবো- কোথাও কিন্তু আপনারা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবেন না! এটা কিন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায় হবে। ওবায়দুল কাদের যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে তাদের উদ্দেশ্য বোঝা যায় তারা বিনা কারণে আমাদের অফিসে আক্রমণ করেছে। আমরা আবারও বলছি- ২৮ অক্টোবরের মহাসমাবেশ হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। এ জন্য নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আমাদের থাকবে। আমরা কোনো নেতাকর্মীকে অবস্থান নেওয়ার নির্দেশ দিইনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা মনে করি এই সরকার বর্তমান সংসদ অধিবেশনে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিল পাস করে নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে পারে। অন্যথায় দেশে যে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তার জন্য এই সরকারকেই দায় বহন করতে হবে। কারণ তারা জানে জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারলে এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারবে না। সেজন্যই তো বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলায় সাজা দেওয়া হচ্ছে। এই সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ হচ্ছে দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকতুল্লাহ বুলু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহবায়ক মো. আবদুস সালাম সালাম, ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব লিটন মাহমুদ, মহানগর উত্তর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, মাহবুবের রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ প্রমুখ।