রবিবার, ২১ Jun ২০২৬, ১২:০৩ অপরাহ্ন
তৈরি পোশাক শিল্পের শ্রমিকদের মাসিক মজুরি বৃদ্ধি ও নির্ধারিত সময়ে বেতন পরিশোধের জন্য গত এক সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ করছেন শ্রমিকরা। গত ২৩ অক্টোবর থেকে আশুলিয়া, সাভার, গাজিপুরসহ বিভিন্ন শিল্প এলাকার ৭০টি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা বিক্ষেভে অংশ নেয়। যতদ্রুত সম্ভব নুন্যতম মজুরি ২৩ হাজার টাকা বাস্তাবায়নের দাবি তাদের। শিল্প পুলিশ সূত্র বলছে, ৭০টি কারখানার ৬০টি কারখানার শ্রমিকরাই এ আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে। ৬ষ্ঠ দিনের আন্দোলনে গতকাল রোববার গাজিপুরের কোনাবাড়িতে প্রায় ৬ হাজার শ্রমিক বিক্ষোভ করেন।
পোশাক খাতের আন্দোলন ও বর্তমান পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ান গতকাল রোববার নগরীর শ্রম ভবনে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ট্রেড ইউনিয়ন এবং ফেডারেশনের প্রায় ১০০ নেতা সভায় উপস্থিত ছিলেন। পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য শীঘ্রই ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তারা। সভায় শ্রম প্রতিমন্ত্রী জানান, মজুরি বোর্ডের সুপারিশ করার জন্য ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত সময় রয়েছে এবং আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে নতুন মজুরি কার্যকর করা হবে।
সূত্র জানায়, এর আগে গত শনিবার গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা মাসিক ২৩ হাজার টাকা বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ও তেলিচালা এলাকার শ্রমিকরা ২৩ অক্টোবর থেকে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করে আসছে। শ্রমিক নেতাদের অভিযোগ, কারখানা মালিকদের প্রতিনিধিদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১০ হাজার ৪০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব পোশাক শ্রমিকদের সবচেয়ে বেশি হতাশ করেছে। নতুন মজুরি ঘোষণার দীর্ঘ প্রক্রিয়া, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের উচ্চমূল্য শ্রমিকদের ক্ষোভকে বিক্ষোভে পরিণত করেছে। গত ২২ আক্টোবর কারখানার মালিকদের প্রতিনিধি সিদ্দিকুর রহমান শ্রমিকদের ২৩ হাজার টাকা মজুরির দাবিরে প্রেক্ষিতে এর অর্ধেক ১০ হাজার ৪০০ টাকা নুন্যতম মজুরির প্রস্তাব করেন।
শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সভায় শ্রমিক নেতারা জানান, গত এপ্রিলে ন্যূনতম মজুরি বোর্ড গঠনের পর ছয় মাস অতিবাহিত হওয়ার পর মালিকদের প্রস্তাব তাদের হতাশ করায় বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা কারখানা থেকে বেরিয়ে এসেছে। কিছু কারখানা আন্দোলনের অজুহাতে শ্রমিককদের চাকরিচ্যুত করেছে এবং কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে। আরো অভিযোগ করেন, অনেক সময় পোশাক কারখানার কর্মকর্তারা শ্রমিকদের গালিগালাজ করে, শ্রমিকদের মারধর করে এবং সামান্য বেতনের অংশও কেটে রাখে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট সোয়েটার শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের নেতা মন্টু ঘোষ বলেন, ছয় মাস অতিবাহিত হলেও নতুন মজুরি নির্ধারণ না হওয়ায় এ সংকট তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে নতুন মাসিক ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করাই এই সমস্যার একমাত্র সমাধান। আরেক শ্রমিক নেত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, মালিক পক্ষের প্রস্তাব শ্রমিকদের ক্ষুব্ধ করেছে। শ্রমিকদের দাবি অবশ্যই মানতে হবে।