বৃহস্পতিবার, ২৫ Jun ২০২৬, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেছেন, বারবার তার ওপর আঘাত এসেছে কিন্তু তিনি বেঁচে গেছেন। এজন্য দেশের কাজ তিনি করতে পেরেছেন, করে যাচ্ছেন।
সংসদ নেতা বলেন, ‘এজন্য আমি দুশ্চিন্তাগ্রস্ত নই। জন্মালে মরতেই হবে, কিন্তু যতক্ষণ প্রাণ আছে, এ দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাব।’
প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা গতকাল বৃহস্পতিবার একাদশ জাতীয় সংসদের ২৫তম ও শেষ অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এসব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
জনগণকে তার শক্তির উৎস উল্লেখ করে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘আমার দেশে ফেরা, কাজ করা, যার পেছনে একটাই শক্তি ছিল সেটা বাংলাদেশের জনগণ। এ জনগণের শক্তি নিয়েই আমি চলছি। বাবা-মা-ভাই সব হারিয়েছি। আমার পরিবার বলতে মনে করি এই বাংলাদেশ এবং দেশের জনগণকে। সেই মানসিকতা এবং আন্তরিকতা নিয়েই আমি দেশের কাজ করি।’
দেশবাসীকে অগ্নিসংযোগকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একমাত্র নৌকা মার্কাই উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দিতে পারে আর বিএনপি পারে শুধু ধ্বংস করতে। এই বাংলাদেশকে নিয়ে আর কেউ যেন খেলতে না পারে, সেজন্য আমি দেশবাসীর সহযোগিতা চাই।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত দেশে ধারাবাহিক গণতন্ত্র ছিল বলেই দেশ এগিয়েছে। সেটাকেই এরা ধ্বংসের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। কাজেই আমি দেশবাসীর কাছেই জানতে চাই, তারা কোন বাংলাদেশ চায় এই ধ্বংসস্তূপ নাকি উন্নত বাংলাদেশ।’
সংসদে ২৮ অক্টোবর বিএনপির সমাবেশ এবং পরদিন বিএনপি আহূত হরতালে সন্ত্রাস-নৈরাজ্য-সাংবাদিক নির্যাতন আর পিটিয়ে পুলিশ সদস্য হত্যার মর্মস্পর্শী ফুটেজ প্রদর্শন করে তিনি বলেন, ‘এ দৃশ্য আর দেখা যায় না। সাংবাদিকরা কী অপরাধ করেছে। তাদের যেভাবে নির্যাতন করেছে, কুপিয়েছে অথচ তারা তো বিএনপির সংবাদ সংগ্রহেই গিয়েছিল? যারা ক্ষতিগ্রস্ত আমরা তাদের পাশে আছি। সাধ্যমতো সহযোগিতা করে যাচ্ছি। যাদের বাস পুড়িয়েছে, যাদের গাড়ি পুড়িয়েছে, এর আগেও সবাইকে আমি সহযোগিতা দিয়েছি। ইনশাআল্লাহ বাকিদেরও আমরা সেই সহযোগিতা দেব।’
তিনি বলেন, ‘দেশবাসীর কাছে আমি এ আহ্বান জানাব, আপনারা এদের ধরিয়ে দিন। আপনার গাড়ি পোড়ালে এদের ধরে আগুনে ফেলেন। যে হাত দিয়ে গাড়ি পোড়াবে সেই হাত পুড়িয়ে দিন। তাহলেই ওরা থামবে, না হলে থামবে না এবং এটা দেশের মানুষকেই ঐক্যবদ্ধ হয়ে করতে হবে। দেশের মানুষের সহযোগিতা পেলে এদের এই দুর্বৃত্তপনা কমানো যাবে, এটা আমি বিশ্বাস করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এটাই মানুষকে বলব ভয়ের কিছু নেই। এরা মুষ্টিমেয় অতএব এদের বিরুদ্ধে সবাইকে এক হয়ে রুখে দাঁড়ানোর জন্য আামি আহ্বান জানাচ্ছি। উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক, মানুষের অধিকার সুরক্ষিত থাকুক, সেটাই আমরা চাই।’
তিনি বলেন, ‘যখন মানুষের কল্যাণে কাজ করি তখন কে কোন দল করে সেটা আমি দেখি না, মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখেছি। তাদের জন্য কাজ করেছি। তাদেরই সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। কেননা জাতির পিতার স্বপ্নের উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।’
বিএনপির সৃষ্টিকারী জিয়াউর রহমান তার বাবা-মা-ভাইদের হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, আর খালেদা জিয়া ও তারেক জিয়া তাকে বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগের ২১ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে। তারা আবারও কোন অবস্থায় দেশকে নিতে চায়, সে প্রশ্নও ছুড়ে দেন তিনি।
‘বিএনপি-জামায়াত নির্বাচন বানচালের জন্য সন্ত্রাস করছে’ উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী গত প্রায় ১৫ বছরে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত অগ্রগতির বিশদ পরিসংখ্যান তুলে ধরেন। এ সংক্রান্ত ছোট একটি পুস্তিকাও সংসদ সদস্যদের কাছে সরবরাহ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শ্রমিকদের নিম্নতম মজুরি ২০০৬ সালে ছিল মাত্র ১ হাজার ৪৬২ টাকা। আমরা তিন দফায় বৃদ্ধি করে ৮ হাজার ৩০০ টাকায় উন্নীত করেছি। আমি জানি জিনিসপত্রের দাম নিয়ে অনেকে হা-হুতাশ করছেন। কিন্তু আমরা এই যে উৎপাদন বাড়ালাম, জনসংখ্যা কিন্তু এতগুণ বাড়েনি। তাহলে এগুলো গেল কোথায়? মানুষের ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। অর্থনৈতিক উন্নতি হয়েছে। খাদ্যগুণ বেড়েছে। সেটাই হলো বড় কথা।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেশকে ভালোভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। জিডিপির আকারে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের ৩৫তম অর্থনীতির দেশ। আর এ সময়ে নির্বাচন ব্যাহত করতে বিএনপি ও জামায়াত অগ্নিসন্ত্রাস ও সহিংসতা করে চলছে।’
একাদশ জাতীয় সংসদের শেষ অধিবেশনের সমাপনী দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক সাতটি বিল পাস হয়েছে। ৯ কার্যদিবসের এই অধিবেশনে ২৫টি এবং ২৭২ কার্যদিবসের এই একাদশ সংসদে ১৬৫টি বিল পাস হয়। একাদশ সংসদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিরোধী দল জাতীয় পার্টি সক্রিয় ভূমিকা পালন করায় প্রধানমন্ত্রী তাদের ধন্যবাদও জানান।
বিএনপিকে শাস্তি পেতেই হবে : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাবেশের নামে ২৮ অক্টোবর বিএনপির সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশ হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এগুলো আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের বলব, এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং দায়িত্ব পালনকালে আপনাদের ওপর যারা হামলা করেছে তাদের আসল চরিত্র আন্তর্জাতিকভাবে আপনাদের তুলে ধরা উচিত।’
শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাটিতে ফেলে পেটানো আমার মনে হয় বাংলাদেশে এ ধরনের ন্যক্কারজনক হামলার ঘটনা আর দেখা যায়নি। এর জবাব বিএনপিকে দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো কোনো পত্রিকা এটাকে আবার কভার দেওয়ারও চেষ্টা করেছে। তাদের ধিক্কার জানাই।’
সেদিন গায়ের জ্যাকেটে ‘প্রেস’ স্টিকার লাগিয়ে যুবদলকর্মীর সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে যারা এ ধরনের অপকর্ম করেছে তারা ধরা পড়ে গেছে। সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশ হত্যার শাস্তি এদের পেতেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রী নির্যাতিত ও ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সাংবাদিকদের পাশে থাকার বিষয়েও সবাইকে আশ্বস্ত করেন। অনেক মিডিয়ায় নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হওয়াকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে তিনি সাংবাদিকদের জন্য নতুন ১০ম ওয়েজবোর্ড ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান। আগামীতে জেলায় জেলায় সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সহসভাপতি মধুসূদন মণ্ডল শোকপ্রস্তাব পাঠ করেন। পরে সবাই দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দীপ আজাদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
বিএফইউজের সাবেক সভাপতি ও মহাসচিবদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেওয়া হয়। প্রবীণ সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মনজুরুল আহসান বুলবুল, আবদুল জলিল ভূঁইয়া, শাবান মাহমুদ এবং ওমর ফারুক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
১৩টি সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি এবং একটির সভাপতির অনুপস্থিতে সাধারণ সম্পাদক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। তারা হচ্ছেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম খোকন, ময়মনসিংহ সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউল কবির খোকন, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. শামসুল ইসলাম, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আবু তাহের, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ফারুক আহমেদ, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মনতোষ বসু, কুষ্টিয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম বিপ্লব, রাজশাহী সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন শেখ মিন্টু, দিনাজপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওয়াাহিদুল ইসলাম, বরিশাল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি স্বপন খন্দকার, গাজীপুর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি দীপক চৌধুরী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রাম আমরাও করেছি। আন্দোলনের নামে এ ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক। ২৮ অক্টোবর সমাবেশ করতে চেয়েছিল বিএনপি ও আরও ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দল, আমরা বাধা দিইনি। তারা কথা দিয়েছিল শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করবে। দেখা গেল তারা সেখানে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু করেছে। সাংবাদিকদের টার্গেট করে তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতন চালানো হয়েছে, এটা অমানবিক। সাংবাদিকদের মাটিতে ফেলে পেটানো হয়। এটা কেন করা হলো সে প্রশ্নের জবাব বিএনপিকে দিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘পুলিশের ওপর অত্যাচার হলো, যা এর আগেও আমরা দেখেছি। পুলিশকেও মাটিতে ফেলে পেটানো হয়, অচেতন হয়ে যাওয়ার পরও মারা হয়। তাদের কোপানো হয় এবং ঢিল মারা হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, তারা শান্তি সমাবেশ করতে এসে এই ইটপাথর, অস্ত্র কোথায় পেল? তারা যে কোপাল, সেটা (ধারালো অস্ত্র) কোথায় পেল? তার মানে তাদের উদ্দেশ্যটাই আগাগোড়া খুব খারাপ ছিল। অগ্নিসন্ত্রাস এবং জ্বালাও-পোড়াও এটাই এদের চরিত্র। নির্বাচন ঠেকানোর নামে ২০১৩, ১৪ ও ১৫ সালে এ রকম সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং অগ্নিসন্ত্রাস তারা করেছিল। সেখানে নির্বাচন তারা ঠেকাতে পারেনি ও অংশগ্রহণ করেনি। হত্যা, খুন, গুম এগুলোই তারা খুব ভালো পারে।’
সেদিনের নৈরাজ্যের বর্ণনা দিতে গিয়ে ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের আগ্রাসনের সঙ্গে এর তুলনা করে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ হাসপাতালে ঢুকে হামলা, অত্যাচার-নির্যাতন, অ্যাম্বুলেন্স পোড়ানো, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে ধাওয়া করা ও হামলার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি আমলে পুলিশ দিয়ে সাংবাদিকের ওপর বর্বর নির্যাতনের কথাও এ সময় স্মরণ করিয়ে দেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে এদের কোনো অধিকার নেই। যারা সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদে বিশ্বাস করে তাদের কোনো অধিকার নেই। তারা এ দেশের মানুষের কল্যাণ চায় না। এ দেশের মানুষের তারা শত্রু, এটাই আমি মনে করি।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় দেশের তথাকথিত সুশীলসমাজ, সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্তর্জাতিক সংগঠন এমনকি মানবাধিকার সংস্থাগুলো যারা সামান্য ঘটনা ঘটলেই প্রতিবাদে মুখর হয়ে ওঠে, তাদের বিষয়টি নিয়ে চুপ করে থাকার এবং কোনো কথা না বলার কঠোর সমালোচনা করেন।
ওয়েজবোর্ড গঠনে ঢাকার বাইরের সাংবাদিকদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি লক্ষ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সাংবাদিকদের তার সরকার ঘোষিত জাতীয় পেনশন স্কিমের চারটি ধাপের যেকোনোটি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেন, যাতে চাকরিঅন্তে বা দুর্যোগ-দুর্বিপাকে নিজের ও পরিবারের কাজে লাগে। তিনি বলেন, যারাই যে কাজ করেন না কেন তাদের একটি অবসরভাতার ব্যবস্থা সরকার এই পেনশন স্কিমে করে দিয়েছে।
সাংবাদিকদের জমি-সংক্রান্ত আবেদন তার কাছে দেওয়ার বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘একটা জমির আবেদন দিয়েছেন আমি দেখব। জেলাভিত্তিক আবাসন প্রকল্প তৈরি করে দেব। সেখান থেকে আপনারা আবাসন যাতে পান, সে ব্যবস্থা করব।’
তিনি বলেন, তার সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পে যেখানে আবাসন সুবিধা সৃষ্টি করা হয়েছে সেখানে সাংবাদিকদেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সেখান থেকে বিধি মোতাবেক এককালীন একটা টাকা দিয়ে এবং মাসিক দীর্ঘমেয়াদি ভিত্তিতে সাংবাদিকরা কোনো ফ্ল্যাট চাইলে নিতে পারেন।
তার নিজের সিডমানি দিয়ে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট করে দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে সেখানে আরও ১০ কোটি টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেন এবং গণমাধ্যমের মালিক এবং সাংবাদিকদেরও কিছু কিছু করে সেখানে অনুদান জমা করার অনুরোধ জানান তিনি।
’৯৬ সালে তার সরকারের বেসরকারি খাতকে উন্মুক্ত করে দেওয়ার মাধ্যমে মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, দেশে এখন যত সংবাদপত্র রয়েছে উন্নত দেশেও এতটা নেই। এর বাইরেও দেশে বর্তমানে ৩৩টি বেসরকারি টেলিভিশন সম্প্রচারে আছে। আরও ১৫টা সম্প্রচারের অপেক্ষায় বলে জানান তিনি।
‘বাংলাদেশে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা উচ্চমানের এবং এ পেশা মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে আছে,’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা ওয়েজবোর্ড সম্পর্কে বলেন, ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন মালিকদের দায়িত্ব। কিন্তু সেটা না করে তারা যদি এখন মামলা করে সেটা খুব দুর্ভাগ্যজনক। নবম ওয়েজবোর্ড করা হয়েছে এবং ১০ম ওয়েজ বোর্ডের প্রস্তুতি চলছে।
নির্বাচন খুব সামনে এবং নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর সরকারের রুটিনওয়ার্ক ছাড়া তেমন কিছু করার থাকে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১০ম ওয়েজবোর্ডের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে, এই ব্যবস্থাটা আমরা নেব। ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকদেরও এর আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।’ তা ছাড়া সাংবাদিকদের কল্যাণে ‘গণমাধ্যম কর্মী চাকরি শর্তাবলি আইন’ প্রণয়নের চিন্তাভাবনাও তার সরকারের রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা নিজেও সাংবাদিক ছিলেন। যার কারণে আপনাদের মাঝে এলে আমি দাবি করি, আমি আপনাদেরই পরিবারের একজন।’ আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে এ ধারা অব্যাহত রাখতে তাদের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্যও সবালর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বাসস