বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ০৬:৩৪ পূর্বাহ্ন
এবার আর ব্যর্থ হতে চায় না বিএনপি। ২০১৫ সালে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচিতে সফলতা না পেলেও এবার সফল হতে চায় দলটি। এবার আগের মতো অনির্দিষ্টকালের জন্য অবরোধের কর্মসূচি ঘোষণা না দিলেও, বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত টানা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আগামী ১২ নভেম্বর থেকে তাদের টানা কর্মসূচি শুরু হতে পারে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
গত ২৮ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ পণ্ড হওয়ার পর একদিনের হরতাল এবং তিনদিনের অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছে বিএনপি। আগামীকাল (রোববার) থেকে আবারও শুরু হচ্ছে ৪৮ ঘণ্টার সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌ পথে সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি।
বিএনপির নীতি-নির্ধারণী ফোরামের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সরকার পতনের এক দফার চূড়ান্ত আন্দোলনে এবার টানা কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। মঙ্গলবার একদিনের বিরতি দিয়ে বুধ ও বৃহস্পতিবার আবারও অবরোধের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত রয়েছে। তবে পরের সপ্তাহ থেকে কোনো বিরতি না দিয়ে টানা অবরোধে যাওয়ার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিজয় না হওয়া পর্যন্ত ‘একদফা’র আন্দোলন চলতেই থাকবে। আগামীকাল রোববার সকাল থেকে ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ শান্তিপূর্ণভাবেই পালিত হবে। দলের নেতাকর্মী বা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সমমনা প্রত্যেকেই সরকারের কোনো উস্কানির মুখে পা না দিয়ে কর্মসূচি পালন করে যাবেন।
দলটির নেতাকর্মীরা জানান, ২৮ অক্টোবর তাদের সমাবেশে হামলা, সংঘর্ষ এবং পরবর্তী পরিস্থিতির জন্য তারা প্রস্তুত ছিলেন না। শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্যই তারা সেদিন সবচেয়ে বড় গণজমায়েত করেছিলেন। সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থান, গ্রেপ্তার, মামলা, হয়রানির মধ্যে শুরুতেই তারা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ভেঙে পড়ে। গ্রেপ্তার এড়াতে বাসা-বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয় বের করতেই তাদের অনেক বেগ পেতে হয়েছে। এখনো তারা কেউ নিরাপদ নয়, তবে প্রথমদিকের ধাক্কাটা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছেন। এবার সংগঠিতভাবে মাঠে নামার জন্য তারা সব রকমের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
দলটির মধ্যম সারির বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মহাসমাবেশের পরের দিনই রাজপথের কঠোর আন্দোলনের জন্য তাদের কোনো পূর্ব-পরিকল্পনা বা প্রস্তুতি ছিল না। সেদিন তাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। অনেক নেতাকর্মী আহতের পাশাপাশি বেশিসংখ্যক গ্রেপ্তার হয়েছেন। তবে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনায় তারা এবার নিজেদের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন। বিচ্ছিন্ন থাকা নেতাকর্মীদের আবারও এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া তারা শেষ করেছেন। এবার রাজপথে সংঘবদ্ধ শক্তি নিয়ে তারা নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।