বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৭:০২ অপরাহ্ন
ভারতের চেনা কন্ডিশনে খেলতে যাওয়ার আগে টাইগাররা আশার বেলুন ফুলিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বকাপে চরম হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দিয়েছে। আফগানিস্তান ও শ্রীলংকা ছাড়া কাউকেই হারাতে পারেনি। এমনকি আইসিসির সহযোগী সদস্য নেদারল্যান্ডসের কাছেও হারতে হয়েছে। অষ্টম স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করেছে টাইগাররা।
ভারতের মাটিতে চলমান বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার আগেই দেশের বিমান ধরতে হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। যতদিন দল ভারতে ছিল, ততদিন অনেকটা আড়ালেই ছিল দুই শীর্ষ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালের দ্বন্দ্ব। বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর সেসব বিষয় নতুন করে ওঠে আসছে। আলোচনা চলছে সাকিব ও তামিমের দেওয়া ভিডিও বার্তা ও সাক্ষাৎকার নিয়েও। এ নিয়ে অস্বস্তিতে পড়েছে স্বয়ং বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)।
মঙ্গলবার বিষয়টি গণমাধ্যমে তানভীর আহমেদ টিটু বলেন, ‘সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদ তো নতুন ক্রিকেট খেলছে না। তারা তাদের কোড অব কন্টাক্ট সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। বাংলাদেশের লিজেন্ডারি ক্রিকেটারদের তালিকায় তারা ওপরের দিকেই থাকবে। তারা যে কাজগুলো করেছে বা যেই ইন্টারভিউগুলো দিয়েছে, যেটা নিয়ে এত আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে, সেই জিনিসগুলো যদি বিশ্বকাপ শুরুর আগে না হতো। তাহলে আমরা আরও স্বস্তির জায়গাতে থাকতাম। ওইরকম যদি না হতো তাহলে হয়তো ভালো হতো।’
গণমাধ্যমেরও দায় দেখছেন টিটু, ‘এটার (বিশ্বকাপের আগে নানা ঘটনাপ্রবাহ) জন্য তাদের (সাকিব-তামিম) যদি দোষারোপের আওতায় নিয়ে আসা হয়, তাহলে সেখানে আমাদের সংবাদমাধ্যমেরও ভূমিকা ছিল। এটা বলায় হয়তো আপনাদের কেউ আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হবেন। আমি বরাবরই বলি, সংবাদমাধ্যম আর আমরা সবাই একদিকে। আমাদের যেরকম ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার সুযোগ আছে, আপনাদেরও এ সহযোগিতার জায়গাটা আছে।’
‘ক্রিকেট যদি থাকে, তখন আমরা সবাই থাকব। ক্রিকেট না থাকলে আমরা সবাই এ জায়গায় থাকতে পারতাম না। এ জায়গা থেকে চিন্তা করলে প্রশ্নগুলো না ওঠানোই ভালো ছিল’, আরও যোগ করেন বিসিবির এই কর্মকর্তা।
সাকিব সাক্ষাৎকারের আগে বিসিবি থেকে কোনো অনুমতি নিয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘(সাকিব সাক্ষাৎকার দিয়েছে) আমি ব্যক্তিগতভাবে জানতাম না। আমি সংবাদমাধ্যমে প্রথম দেখেছি। যখন আমরা এটা দেখতে পেয়েছি, তখন ইতোমধ্যে দল বিশ্বকাপ খেলতে চলে গেছে। যখন বিশ্বকাপ বা একটা টুর্নামেন্ট চলে তখন আমাদের ফোকাস থাকে শুধু ওই টুর্নামেন্টে। বাহ্যিক আলাপ আলোচনার সুযোগ থাকে না। এখন দল এসেছে, আমরা রিপোর্ট পাওয়ার পর এগুলো আলোচনা হবে। আমাদের শৃঙ্খলা কমিটি আছে। আমাদের রিপোর্ট পাওয়ার পর, এটা নিয়ে প্ল্যান অব অ্যাকশন যাই থাকবে সেগুলো ঠিক করা হবে। যদি শৃঙ্খলা কমিটি মনে করে, এ ধরনের কিছু করা দরকার, সে অনুযায়ী তারা ব্যবস্থা নেবে।’
বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের দল কাটিয়েছে ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়। তামিম ইকবালের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে না থাকা নিয়ে অনেক জল ঘোলা হয় সে সময়। বাংলাদেশ দল যেদিন দেশ ছাড়ে ঠিক সেদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ভিডিও বার্তায় তামিম ফাঁস করেন, ফিটনেস ইস্যু নয়, বরং বিসিবির আচরণে ক্ষুব্ধ হয়েই দল থেকে নাম সরিয়ে নিয়েছেন তিনি। সন্দেহের তীরের নিশানায় কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে ও অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। অবশ্য আত্মপক্ষ সমর্থন করেন সাকিবও।
এর আগে ২৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা যখন বিশ্বকাপ খেলতে ভারতের বিমানে উঠেন, তখন নিজের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি ভিডিও বার্তা দেন তামিম। সেখানে তাকে ব্যাটিং অর্ডার পাল্টে বিসিবি থেকে মিডল অর্ডারে নামানোর প্রস্তাব দেওয়ায় তিনি বিশ্বকাপ থেকে নিজের নাম সরিয়ে নেওয়ার কথা জানান।
বিশ্বকাপের জন্য বাংলাদেশ দল যেদিন দেশ ছাড়ে, সেদিনই দেশের একটি বেসরকারি স্পোর্টস চ্যানেলে প্রচারিত হয় সাকিব আল হাসানের সাক্ষাৎকার। খোলামেলা সে সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপের দল গঠন নিয়ে ব্যাখ্যা করেন সাকিব। শুধু তাই নয়, এই সাক্ষাৎকার ছিল তামিম ইকবালের বাদ পড়া নিয়ে সাকিবের আত্মপক্ষ সমর্থন। এক সময়ের বন্ধু ও জাতীয় দলের সতীর্থ তামিমের খোলামেলা সমালোচনা করেন সাকিব। যা নিয়ে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়ে।
দেশে ফেরা টাইগারদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। ঘরের মাটিতে নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে টেস্ট সিরিজ খেলবে টাইগাররা। তবে এই সিরিজের আগে কোচিং প্যানেলে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। বিশ্বকাপে দলের সঙ্গে যাওয়া কোচদের মধ্যে শুধু চন্ডিকা হাথুরুসিংহেই বাংলাদেশে ফিরেছেন। বাকি সব কোচই ছুটি কাটাতে নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন। কোচিং স্টাফদের মধ্যে হাথুরুসিংহে ও ফিল্ডিং কোচ নিক পোথাস ছাড়া বাকি সবার চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে ৩০ নভেম্বর। এদের মধ্যে পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ড এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছেন। বাকিদেরও নতুন করে চুক্তি করার সম্ভাবনা কম।
এমন অবস্থায় বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের তৃতীয় আসর শুরু করছে টাইগাররা। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজে বোলিং কোচের দায়িত্বে বিদেশি কাউকে দেখার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছেন টিটু। নিউজিল্যান্ড সিরিজে বোলিং কোচের দায়িত্ব থাকবে দেশীয় কোচের হাতে- জানিয়েছেন টিটু।