বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:২৭ পূর্বাহ্ন
দলের ত্যাগী-পরীক্ষিতদের চেষ্টায় এক ধাপ এগিয়ে লোভী ও সুবিধাবাদীর জন্য বিএনপিকে দুই ধাপ পেছনে পড়তে হচ্ছে। ফলে দলটি ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে আন্দোলন, নির্বাচন, রাজনৈতিক কৌশল কোনো কিছুতেই পেরে উঠছে না। গত দুই বছরে দলের আন্দোলনের কৌশল, কর্মীদের চেষ্টা, সমমনাদের সমর্থনে ক্ষমতাসীনদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল। যা নির্বাচনের সময় চ‚ড়ান্ত বিজয়ে ভ‚মিকা রাখবে এমনি ভাবা হয়েছিল। কিন্তু দল জোটের কিছু নেতার বিশ্বাসঘাতকায় উল্টো বেকায়দায় আছে।
ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত বিএনপির সিনিয়র এক নেতা বলেন, বিএনপি একটা বড় দল। এই দলের জাতীয় টিম, এ-টিম-বি-টিম সি-টিম আছে। দলের কাজে জাতীয় টিম, এ-টিম ব্যাপক ইতিবাচক ভ‚মিকা রাখলেও মূল্যায়নে এগিয়ে থাকে বি-টিম। এজন্য প্রতিক‚লতার ডালপালার বিস্তার হয় বেশি। এখনো হচ্ছে। দলের প্রতিষ্ঠাতার মৃত্যুর পরে এবং ২০০৬ সালে বি-টিমের জন্য বারবার বেদাকায়দায় পড়তে হয়েছে। আবার সুদিনে তারা সর্বোচ্চ সুবিধা নিয়েছে। তাদের মধ্যে এখন অনেকে নেই। কিন্তু উত্তরসূরিরা আছে। স্থানীয় নির্বাচন বর্জনের মধ্য দিয়ে বিএনপি আন্দোলনের সূচনা করেছিল। সেই সময়ে স্থানীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রাথমিকভাবে বি-টিমের সদস্যরা বিএনপিকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করেছে। এবার জাতীয় নির্বাচনে গিয়ে চূড়ান্ত ভাবে বিএনপিকে বিপর্যস্ত করতে চাচ্ছে।
বিএনপির কাছাকাছি নামে নিবন্ধন পাওয়া ‘কিংস পার্টি’ নামে পরিচিতি পাওয়া দুটি দলে বিএনপির বেশ কিছু নেতা এর মধ্যে যোগদান করেছেন। আরও অনেকে আছেন এই পথে। বিএনপি শেষ পর্যন্ত ভোট বর্জন করলে এই নেতারা হয় ‘নামের মিলের দলে’; না হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হবেন। এরই মধ্যে কিংস পার্টিতে যোগদান এবং নির্বাচনের ঘোষণা দেওয়ায় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের বিএনপি থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সর্বশেষ শুক্রবার করা বহিষ্কৃতরা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও রাজশাহী জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মন্টু এবং ঢাকার ধামরাই পৌর বিএনপির সভাপতি দেওয়ান নাজিম উদ্দিন মঞ্জু। এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই দুই নেতাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর আগে জাতীয় নির্বাহী কমিটির দুই সদস্য খন্দকার আহসান হাবিব ও ফখরুল ইসলামকে ‘দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে বহিষ্কার করে বিএনপি। এসব নেতারা সবাই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনসহ (বিএনএম) বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন।