রবিবার, ১০ মে ২০২৬, ০২:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

প্রার্থীদের চিঠি দিতে শুরু করেছে আওয়ামী লীগ

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের চিঠি দেওয়া শুরু করেছে আওয়ামী লীগ। ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে সোমবার দুপুরে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার স্বাক্ষরিত এ চিঠির বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

এর আগে রোববার আওয়ামী লীগের ২৯৮ আসনে দলীয় প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়। ৷

মনোনয়নপত্রের চিঠি বিতরণ কার্যক্রম শুরুর সময় ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘নির্বাচনের পরিবেশ বিঘ্নিত করছে বিরোধীরা। ইতোমধ্যে সারা দেশে নির্বাচনী উৎসব শুরু হয়েছে।’

নির্বাচনে ২৫ থেকে ৩০টি দল অংশ নিতে যাচ্ছে দাবি করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিএনপি অংশ না নিলেও তাদের অনেক প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সব শেষ হওয়ার আগে এ প্রশ্নের ব্যাপারে কিছু না বলাই ভালো।’ ‘বিরোধীরা সহিংসতা করছে’, দাবি করে তিনি বলেন, ‘তারা চোরাগুপ্তা হামলা করছে। সরকারি দল দেশের শান্তির জন্য নির্বাচনকে বেছে নিয়েছে। শান্তিপূর্ণ নির্বাচন দরকার, আমরা নির্বাচন চাই। আমরা কেন শান্তিপূর্ণ জায়গাটাকে ডিস্টার্ব করব? কেন সহিংস পরিবেশ চাইব?’

আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশে নির্বাচন হয়, একসঙ্গে সবার মনোনয়ন কে ঘোষণা করেছে? আপনারা প্রতিবেশী দেশগুলোর থেকে একটু জানুন। আমরা মাত্র দুটি আসনে বাকি রেখেছি। সেটা আমাদের টেকনিক্যাল বিষয় থাকতে পারে, কৌশলগত বিষয় থাকতে পারে। সে কারণে আমরা দুটি আসনে প্রার্থীর নাম প্রকাশ করিনি। কৌশলগত দিক থেকে এখানে কোনো ত্রুটি হয়নি।’

বর্তমান সংসদের ৭১ জনের এবার মনোনয়ন না পাওয়ার বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংখ্যাটা বড় কিংবা ছোট, সেটা আমাদের দলের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্ত। আমরা কাকে বাদ দেবো, কাকে রাখব; বোর্ডের সিদ্ধান্ত। আমাদের একটাই কথা, উইনেবল এবং ইলেক্টেবল যে প্রার্থী, তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। সেই বিচারে যারা এসেছেন, তারা মনোনয়ন পেয়েছেন। যারা আসেননি, ধরে নিতে পারেন তারা পাননি। আমাদের ক্যাটাগরির মধ্যে যারা পড়েনি, তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি।’

আওয়ামী লীগের জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রশ্নে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কার সঙ্গে কী অ্যাডজাস্টমেন্ট হবে, কাকে কত সিট দেবো, আমরা কীভাবে জোট করব, জোটটা নির্বাচনের স্বার্থে কোন পথে সুবিধাজনক; অনেক কিছু আমাদের ভাবতে হবে। নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা এবং প্রত্যাহারেও সময় আছে।’

নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হবে কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কেউ অংশ নিলে নির্বাচন ফেয়ার, অংশ না নিলেই নির্বাচনের বৈধ নয়, অংশগ্রহণমূলক নয়; এই কথা দিয়ে কী জাস্টিফাই করবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দলীয় নেতাদের ব্যাপারে এখনো সুনির্দিষ্ট কিছু বলা হয়নি। এটা আমাদের আরও কিছু বিষয় নিয়ে ভাবনা-চিন্তার ব্যাপার আছে। আমাদের শরিক কারা হবে, যদি আমরা শরিকদের নিয়ে নির্বাচন করি, অথবা অপজিশন কে হয়, সবকিছু বিবেচনা করে, আমাদের ভোটারের উপস্থিতি বিষয়টা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত হবে। প্রার্থী ঘোষণার পরপরই সারা বাংলাদেশে উৎসব, মিছিল হচ্ছে। মনে হচ্ছে না সেখানে আওয়ামী লীগ আছে, বিরোধী দল নেই। পরিবেশটা একদম নির্বাচনের অনুকূলে। অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনে যে রূপ, সেটাই দেখা যাচ্ছে।’

‘ডামি’ প্রার্থী নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ‘কেস টু কেস’ হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডক্টর হাছান মাহমুদ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, এসএম কামাল হোসেন ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল। এরা প্রত্যেকেই দলের মনোনয়ন পেয়েছেন।

‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী অনুমোদন দলের কৌশল

এদিকে, সোমবার শহীদ ডা. শামসুল আলম খান মিলন দিবসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডা. মিলন চত্বরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। নির্বাচনে ‘স্বতন্ত্র’ প্রার্থী অনুমোদন দেওয়ার বিষয়টিকে দলীয় কৌশল বলে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দলের স্ট্র্যাটেজি ঠিক করে দলের অবস্থান অনুযায়ী ভবিষ্যৎ মাথায় রেখে দলীয় নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নেন এবং সিদ্ধান্ত দেন। নতুন নতুন সময়ে নতুন নতুন স্ট্র্যাটেজিও দলকে গ্রহণ করতে হয়। এ সময় যে কৌশল দরকার আমাদের, আমাদের নেত্রী সেই কৌশলই ঠিক করেছেন।’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হয়েও পরপর দু’দিন চেষ্টা করেও বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রবেশ করতে পারেননি জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘কাজেই এ নির্বাচনের ব্যাপারে আগ্রহ কতটা, সেটা এখানেই পরিষ্কার হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গী খোঁজার দরকার নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গী বাংলাদেশের জনগণ, জনগণই আমাদের সঙ্গী জনগণই আমাদের বন্ধু। জনগণই আমাদের শক্তির উৎস।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com