মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রে অপ্রাপ্তবয়স্কদের থেকে ১১০০ কোটি ডলার আয় করেছে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো গত বছর অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছ থেকে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি আয় করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত হার্ভার্ডের নতুন এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। এসব সাইটের মধ্যেও রয়েছে ইউটিউব, স্ন্যাপচ্যাট, মেটা মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম। খবর এপি।

১৩ বছরের কম বয়সীদের কাছ থেকে ২০২২ সালে সবচেয়ে বেশি বিজ্ঞাপন থেকে আয় করেছে ইউটিউব। যার পরিমাণ ৯৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অন্যদিকে ১৩-১৭ বছর বয়সীদের কাছ থেকে ইনস্টাগ্রাম সবচেয়ে বেশি আয় করেছে, যার পরিমাণ ৪০০ কোটি ডলার।

গবেষকরা জানান, সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলো তাদের প্লাটফর্মের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাই সোশ্যাল মিডিয়ার ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন এ জাতীয় বিধিনিষেধ এবং প্রযুক্তি সংস্থার স্বচ্ছতা তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য তৈরি ক্ষতিকারক বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়া কোম্পানিগুলোর বিপুল আয়ের তথ্য বের করতে গবেষকরা প্রধান সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোয় ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবকারকারীদের নিয়ে জরিপ চালিয়েছে। গবেষণায় আদমশুমারি, কমনসেন্স মিডিয়া ও পিউ রিসার্চ জরিপের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। গবেষকরা ২০২২ সালের মার্কিন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আয় এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মে ব্যবহারকারীদের ব্যয় করা দৈনিক সময় হিসাব করতে ইমার্কেটার ও কুস্টোডিও ডাটা পর্যালোচনা করেন। শেষে তারা সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলোর আয়ের একটি মডেল তৈরি করেন।

এদিকে আইনপ্রণেতারা দীর্ঘদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়ার নেতিবাচক প্রভাবের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সুনিপুণ অ্যালগরিদমগুলো শিশু-কিশোর ও বাচ্চাদের মধ্যে অতিরিক্ত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার আসক্তি তৈরি করছে।

২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কিছু রাজ্যে তরুণদের সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার বন্ধ করার জন্য একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। সে সময় সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহারে মানসিক স্বাস্থ্য ও অন্যান্য উদ্বেগের কথা উল্লেখ করা হয়। এরপর ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুকের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান মেটাও কয়েক ডজন মামলার মুখোমুখি হয়। সেখানে বাদীরা অভিযোগ করেন, সোশ্যাল মিডিয়ার প্লাটফর্মগুলো যুবকদের মানসিক স্বাস্থ্যকে আরো খারাপ করছে।

গবেষণার লেখক ব্রাইন অস্টিন জানান, সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো দাবি করে যে তারা শিশুদের সুরক্ষায় নিজস্ব বিধিমালা মেনে কাজ করছে। কিন্তু তারা এখনো তা করতে পারেনি। কোম্পানিগুলো যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার ক্ষেত্রে বিলম্বের কারণে তারা প্রচুর আর্থিক মুনাফা অর্জন করেছে। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্মগুলো অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কত অর্থ আয় করে তা জানায় না। শিশুদের জন্য তৈরি অনলাইন বিজ্ঞাপনগুলো দীর্ঘদিনের চিন্তাকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে। এর মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতারণার শিকার হতে পারে শিশু-কিশোররা।

আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিক্স জানায়, শিশুদের সমালোচনামূলক চিন্তার দক্ষতা বিকাশের পর্যায়ে থাকে। সুতরাং তারা বিজ্ঞাপনের প্ররোচনামূলক ভুল তথ্যের কাছে দুর্বল হয়ে পড়ে।

সোশ্যাল মিডিয়া এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উদ্বেগ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফেডারেল ট্রেড কমিশন সম্প্রতি নীতিমালা পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বছরের কম বয়সীদের জন্য তৈরি বিজ্ঞাপনগুলো বন্ধ করার দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com