বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৪:০৮ অপরাহ্ন
বিগত বছর প্রযুক্তি খাতে অনেক উত্থান-পতন হয়েছে। এর মধ্যে টুইটার অধিগ্রহণের পর ইলোন মাস্কের বিভিন্ন উদ্যোগ এবং জেনারেটিভ এআইয়ের বর্ধিত ব্যবহার আলোচনায় ছিল। সামগ্রিকভাবে অনেক কোম্পানিই প্রবৃদ্ধিতে ছিল। যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্লেষকদের অভিমত ২০২৩ খুব একটা খারাপ কাটেনি। বিদায়ী বছর প্রযুক্তি খাতের সম্মুখসারিতে ছিল থ্রেডস ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি, অগমেন্টেড রিয়ালিটিনির্ভর অ্যাপলের ভিশন প্রো হেডসেট, গেমিং হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইসসহ বিভিন্ন বিষয়। এসব বিবেচনায় বিগত বছরের সবচেয়ে বড় বিজয়ীদের তালিকা প্রকাশ করেছে এনগ্যাজেট।
জেনারেটিভ এআই:
ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটির মাধ্যমে শেষ হয় ২০২২ সাল। ২০২৩ সাল ছিল জেনারেটিভ এআইনির্ভর। এ সময় এ প্রযুক্তির বিকাশ ও বিস্তৃতি প্রযুক্তি খাতে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিং এআই উন্মোচন করে মাইক্রোসফট। যেখানে ওপেনএআইয়ের পরবর্তী প্রজন্মের চ্যাটবট জিপিটি ৪ ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে। এরপর থেকেই এআই নিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির যুদ্ধ শুরু হয় বিং উন্মোচনের পর নিজস্ব চ্যাটবট বার্ড আনার ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় গুগল। তবে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ বিষয়ক এক প্রশ্নের ভুল জবাব দেয়ার পরই কোম্পানি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। মাইক্রোসফট ও গুগল ছাড়াও ২০২৩ সালে গোটা প্রযুক্তি বিশ্বের বাজওয়ার্ড ছিল এআই। ডিস্ট্রিবিউটেড এআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা টিমনিট জেব্রু ও মার্গারেট মিশেলের মতো গবেষকরা ক্রমাগতই এআইয়ের নৈতিক ব্যবহার নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।
অ্যাপল ভিশন প্রো:
বিশ্বের প্রথম এমপি৩ প্লেয়ার তৈরি না করলেও আইপড ও আইফোন তৈরির মাধ্যমে প্রচলিত পণ্যে উদ্ভাবনের নতুন মাত্রা যোগ করেছে অ্যাপল। ভিশন প্রো’র বেলাতেও তাই। তবে এখনো সবার সামর্থ্যের নাগালে আসেনি ডিভাইসটি। একই ভিআর খাতে অকুলাস ও এইচটিসি ভাইভ গ্রাহক টানছে প্রায় এক দশক ধরে। এর চেয়েও বড় অগ্রগতি দেখিয়েছে ভিশন প্রো। যা একসময় শুধু কল্পনা করা যেত, ভিশন প্রো হেডসেটে ঠিক সেটিই নিয়ে এসেছে অ্যাপল। হোক সেটা ব্যবহারকারীর ডেস্কের ওপর ভাসতে থাকা অ্যাপ বা তার বেডরুমের দেয়ালে পিন করে রাখা ভিডিও অথবা ৩ডি স্পাশিয়াল ভিডিওতে ব্যবহারকারীর পুরনো কোনো মুহূর্ত পুনরায় ফিরিয়ে আনা।
গেমিং হ্যান্ডহেল্ড ডিভাইস:
হ্যান্ডহেল্ড গেমিং পিসি আসলে ব্যবহারকারীর পছন্দের সবকিছুরই সমন্বিত রূপ, যা ‘গেমবয় অ্যাডভান্স’ বা পিএসপির চেয়ে বেশি সক্ষমতাযুক্ত। এছাড়া পছন্দের যেকোনো গেম খেলার সুবিধাও মেলে এতে। ২০২৩ সালে এমন বেশকিছু ডিভাইস বাজারে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে লেনোভোর লিজিয়ন গো, ওএলইডি ডিসপ্লেযুক্তক স্টিম ডেক ডিভাইস। একই শ্রেণীর আসুস রগ অ্যালির মতো ডিভাইসে উন্নত ডিজাইন দেয়া হয়েছে। এছাড়া আয়ানিও, জিপিডির মতো ছোট উৎপাদকরাও নিজস্ব পণ্য এনেছে বাজারে। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হলো এগুলোর দাম গতানুগতিক গেমিং ল্যাপটপের চেয়ে কম।
ফোল্ডেবল সেলফোন :
২০১৯ থেকে ফোল্ডেবলের বাজারে স্যামসাং শীর্ষে। তবে ২০২৩ সালে পিক্সেল ফোল্ড ও ওয়ানপ্লাস ওপেন নতুন প্রতিযোগী হিসেবে যুক্ত হয়েছে। সেলফোন দুটির কোনোটিই সেরা হওয়ার দাবি করতে না পারলেও ফিচারের দিক থেকে ডিভাইসগুলো সমৃদ্ধ। ওপেন ফোনটির মাধ্যমে একটি বুদ্ধিদীপ্ত কার্ডভিত্তিক মাল্টিটাস্কিং ব্যবস্থা তৈরি করেছে ওয়ানপ্লাস, ফলে খুব সহজেই একটি অ্যাপ থেকে অন্য অ্যাপে যাওয়া সম্ভব। স্যামসাংয়ের গ্যালাক্সি জি ফোল্ড ৫ থেকেও ওজনে হালকা ও দেখতে পাতলা হলেও ফোনটি খুবই ব্যয়বহুল। ডিভাইসটি কেনার সময় অন্য যেকোনো সেলফোন জমা দিলে এর দাম দেড় হাজার ডলারের বেশি হয়না। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীও কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নতুন এ ডিভাইস কেনার সুবিধা পেয়ে থাকেন। যে বছর স্যামসাংয়ের উদ্ভাবনের গতি কমে আসছে এমন ধারণা সৃষ্টি হয়, তখনই নতুন দুই প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি তাদের প্রতিযোগিতা বাড়িয়েছে।
থ্রেডস:
সামাজিক যোগাযোগে নতুন প্লাটফর্ম হিসেবে থ্রেডসের আত্মপ্রকাশ হয়। প্রকাশ্যে আসার পর ব্যবহারকারীর সংখ্যায় অ্যাপটি রেকর্ড করলেও পরবর্তী সময়ে কমতে শুরু করে। তবে সবকিছু ছাপিয়ে ১০ কোটি মাসিক ব্যবহারকারীর মাইলফলক স্পর্শ করে প্রযুক্তি খাতে চমক দেখিয়েছে মেটা মালিকানাধীন অ্যাপটি। ২০২৩ সালের মাঝামাঝিতে উন্মোচন ও এর কয়েক মাস পর ইইউ সদস্যভুক্ত দেশগুলোয় চালু হওয় থ্রেডস। কিন্তু তার পরও এটি অ্যাপলের সর্বোচ্চ ডাউনলোড করা অ্যাপের তালিকায় চতুর্থ অবস্থান দখল করেছে। এজাড়া মাস্টডনের মতো সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে ক্রস প্লাটফর্ম সুবিধাও চালু করছে থ্রেডস। থ্রেডসে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এর মতো উন্নত ফিচার না থাকলেও ইনস্টাগ্রাম ও মেটার সঙ্গে এর সম্পৃক্ততা ব্যবহারকারীদের সবচেয়ে বেশি আকৃষ্ট করেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী এখন থ্রেডসে এমন কিছু আছে, যা এক্সেও নেই।
নিউরালিংক:
মার্কিন নিয়ন্ত্রকদের বাধার মুখে পড়ে ২০২৩ সালে প্রবেশ করেছিল ইলন মাস্কের চিপ স্টার্টআপ নিউরালিংক। ২০২২ সালে এক পিটিশনে কোম্পানিটির মানুষের ওপর চিপ বসানোর পরীক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল এফডিএ। একই বছরের জুলাইয়ে এক মানব রোগীর ওপর নিজস্ব ডিভাইস বসিয়ে নিউরালিংকের চেয়ে একধাপ এগিয়ে গেছে প্রতিদ্বন্দ্বী সিংক্রোন। অন্যদিকে নিউরালিংকের বিরুদ্ধে প্রাণী নিপিড়নের অভিযোগে তদন্ত শুরু করেছে মার্কিন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ইউএসডিএ’। ২০২২ সালের নভেম্বরে মাস্ক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ছয় মাসের মধ্যে নিউরালিংকও পরীক্ষা চালাবে। এখনো তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। ২০২৪ সালে প্রবেশের সময় আগের চেয়ে অনেক সুবিধাজনক অবস্থায় আছে নিউরালিংক। এরই মধ্যে কোম্পানির গবেষণাগার পরিদর্শন করেছে ইউএসডিএ। সেখানে কেবল একটি লঙ্ঘনের ঘটনা খুঁজে পাওয়া যায়, যা ২০১৯ সালে নিউরালিংক নিজেই জানিয়েছে বলে জানা গেছে।