বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ০৫:২৩ পূর্বাহ্ন
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে দেশের জন্য ও গণতন্ত্রের জন্য ‘যুগান্তকারী’ ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমি অনেকবারই নির্বাচন করেছি। সেই ১৯৮৬ সাল থেকে আটবার আমার নির্বাচন করা হয়ে গেছে। তবে মানুষের এত আগ্রহ আগে আর কখনো দেখিনি। আমি মনে করি বাংলাদেশের জনগণ অনেক আনন্দিত। নির্বাচন যারা পর্যবেক্ষণ করেছেন এবং মতামত দিয়েছেন, এটাও অত্যন্ত উপযোগী। সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ।’
গণভবনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আগত বিদেশী সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে গতকাল তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বঙ্গবন্ধুর কনিষ্ঠ কন্যা ও শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানা, বঙ্গবন্ধুর নাতনি সায়মা ওয়াজেদ ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্যের পাশাপাশি উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মী ও পর্যবেক্ষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শেখ হাসিনা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি আমাদের দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য এটা অত্যন্ত যুগান্তকারী ঘটনা। নির্বাচনটা যে অবাধ, সুষ্ঠু হতে পারে সেই দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে পেরেছি। আপনাদের আগমন আমাদের দেশের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, মানুষের অধিকারটা আরো সুরক্ষিত হয়েছে। আপনারা যার যার দেশে ফিরে যাবেন, বাংলাদেশের কথা বলবেন। আপনাদের আগমন আমাদের গণতান্ত্রিক বিধি ব্যবস্থাকে আরো মজবুত ও শক্তিশালী করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনের ফলাফলের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের সব সময় এটাই চেষ্টা ছিল যে নির্বাচনটাকে সুষ্ঠু করা। মানুষের যে ভোটের অধিকার অর্থাৎ সে যাকে চায়, কে সরকারে থাকবে, সেটা মানুষই সিদ্ধান্ত নেবে। সেজন্য নির্বাচনের ব্যবস্থাকে সংস্কার করেছি। নির্বাচন চলাকালে প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সবাইকে নির্বাচন কমিশনের অধীন করে মানুষের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা—সেটাই লক্ষ্য ছিল।’
এবারের নির্বাচনকে ‘ব্যতিক্রমী’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সাধারণত আমরা দলের প্রার্থী ঠিক করে দিই বা সব দল তাদের প্রার্থী নির্বাচন করে দেয়। এবার আমরা আমাদের প্রার্থী নির্বাচিত করেছি। পাশাপাশি এ নির্বাচনকে উন্মুক্ত করে দিয়েছি, যে যার ইচ্ছামতো দাঁড়াতে পেরেছে।’
বিরোধী কোনো দল না থাকলে বাংলাদেশকে একটি সক্রিয় গণতান্ত্রিক দেশ বলা যায় কিনা এমন প্রশ্ন তোলেন এক বিদেশী সাংবাদিক। উত্তরে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সব দলেরই তাদের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আছে। কোনো দল যদি নির্বাচনে অংশ নিতে না চায় তার মানে এটা নয় যে দেশে গণতন্ত্র নেই। আপনাকে দেখতে হবে যে মানুষ নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কিনা।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ‘তারা কী করছে, আগুন দিয়ে মানুষ মারছে। ট্রেনে আগুন দিয়েছে। এটা কি গণতন্ত্র? আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। এ দেশে কেউ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না। মানুষ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পছন্দ করে না। আমরা আমাদের ধৈর্য দেখিয়েছি। আমরা মানুষের অধিকার নিশ্চিত করেছি।’
তিনি বলেন, ‘তারা নির্বাচনে অংশ নিতে চায়নি। তারা মানুষের ভোট কেন্দ্রে যাওয়া ঠেকাতে চেয়েছে। কিন্তু সেটা পারেনি। কারণ মানুষ সচেতন। এছাড়া যদি গণতন্ত্রের আর কোনো সংজ্ঞা থেকে থাকে তাহলে সেটা আলাদা। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এটা মানুষের অধিকার। যখন জনগণ অংশগ্রহণ করে, তারা তাদের সরকারের জন্য ভোট দেয়, তখন তাদের অংশগ্রহণই মূল বিষয়।’
গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী দল থাকাটা জরুরি, এটি উল্লেখ করে আরেক সাংবাদিক এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি বিরোধী দলে ছিলাম দীর্ঘদিন ধরে। আমাদের দলকে আমরা সংগঠিত করেছি। বিরোধী দলকে তাদের নিজেদের সংগঠিত করতে হবে। আপনি আমাকে বিরোধী দল গঠন করতে বলতে পারেন না। অবশ্য আপনি চাইলে আমরা সেটা করতে পারি। কিন্তু সেটা আসল বিরোধী দল হবে না।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যারা সমালোচনা করতে চায় তারা করতে পারে। সেটা তাদের স্বাধীনতা। আর ভুল-ঠিক নিয়ে আমার নিজস্ব বিশ্বাস আছে। আমি সেটাতেই বিশ্বাস করি। হ্যাঁ আমি ঠিক কাজটি করেছি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও অবাধ হয়েছে।’
ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ক্ষমা করা হবে কিনা, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘ড. ইউনূসের বিষয়টি শ্রম আদালতের বিষয়। তিনি শ্রম আইন লঙ্ঘন করেছেন। তার শ্রমিকদের ঠকিয়েছেন। শ্রমিকরা মামলা করেছেন। এখানে প্রধানমন্ত্রীর কিছু করার নেই।’
মতবিনিময়কালে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচন হয়ে গেছে, এখনো গেজেট হয়নি। তাই আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। গেজেটের পর শপথ হবে, এরপর আমাদের সংসদীয় দলের বৈঠক করতে হবে। সেখানে সংসদীয় দলের নেতা কে হবে সেটা নির্বাচন করতে হবে। তখন সরকার গঠন করতে রাষ্ট্রপতির কাছে যেতে হবে। সরকার গঠন হবে। এটাই সাংবিধানিক প্রক্রিয়া, তা অনুসরণ করতে চাচ্ছি।’