বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন
ফিলিস্তিনিদের জন্য সার্বভৌম রাষ্ট্র গঠনে মার্কিন মতামতের প্রকাশ্য বিরোধিতা করেছেন মিত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জানুয়ারি) এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কথা বলেন তিনি। খবর বিবিসি।
এসময় যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ করে নেতানিয়াহু জানান, গাজায় যুদ্ধ শেষে ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের যে তৎপরতা হোয়াইট হাউজ শুরু করেছে তা নাকচ করে দিয়েছেন তিনি।
গাজায় পরিপূর্ণ বিজয় আসার আগ পর্যন্ত যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন নেতানিয়াহু। হামাসের ধ্বংস ও ইসরায়েলি বন্দিদের ফিরিয়ে আনতে আরো কয়েক মাস সময় লেগে যাবে বলেও জানান।
গাজায় হামাস-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর এ পর্যন্ত প্রায় ২৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ঘর-বাড়ি হারিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন প্রায় ২০ লাখ মানুষ।
গাজায় চলমান ইসরায়েলি ধ্বংসযজ্ঞের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক চাপে রয়েছে। দীর্ঘদিন থেকেই দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিষয়ে তেল আবিবকে কূটনৈতিক চাপ দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রসহ অনেক রাষ্ট্র। কিন্তু বৃহস্পতিবারের সংবাদ সম্মেলনে এ সমাধানের প্রস্তাব নাকচ করে দেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী তার দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ফিলিস্তিনিদের জন্য আলাদা রাষ্ট্র গঠনের বিরোধিতা করে আসছেন। গত মাসে এও বলেছিলেন, দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের বিরোধিতা করতে পেরে তিনি গর্বিত।
কিন্তু ওয়াশিংটনের কূটনৈতিক চাপের প্রকাশ্য খণ্ডন এবং বর্তমান সামরিক গতিপথ বজায় রাখার সংকল্প পশ্চিমাদের সঙ্গে বিরোধকে সামনে নিয়ে এল।
গতকালের সংবাদ সম্মেলনে নেতানিয়াহু জানান, জর্ডান নদীর পশ্চিমের সব ভূমির ওপর ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে। এটি ফিলিস্তিনের সার্বভৌমত্বের ধারণার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হলেও ইসরায়েল এমনটাই করবে। মার্কিন বন্ধুদের উদ্দেশ্যে বলেন, এ সত্যটি বলি যে আমাদের নিরাপত্তার ক্ষতি করবে এমন কোনো বাস্তবতা চাপিয়ে দেয়ার বিরুদ্ধে আমি।
নেতানিয়াহুর সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বলেছেন, তার সরকার দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের জন্য কাজ করা বন্ধ রাখবে না। গাজাও পুনর্দখল করা হবে না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর এ মন্তব্য তার সরকারকে সমর্থনকারী অতি-ডানপন্থী মন্ত্রীদের খুশি করবে।
দেশ-বিদেশে অনেকেই এ যুদ্ধের মানবিক মূল্যে ক্রমশ আতঙ্কিত হচ্ছেন, নেতানিয়াহুর মন্তব্য তাদের হতাশ করবে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, হামাসকে ধ্বংস করার ‘অসম্ভব লক্ষ্যের’ চেয়ে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে বেশিরভাগ ইসরায়েলি।
৭ অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় এক হাজার ২০০ ইসরায়েলি নিহত হন। জিম্মি করে নেয়া হয় প্রায় ২৫০ জনকে, যাদের কয়েক ডজন অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির সময় মুক্তি পেয়েছেন। এছাড়া গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর কয়েকশ’ ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন।