মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৮:১৪ অপরাহ্ন
প্রযুক্তি খাতে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করেছে। বিভিন্ন প্রযুক্তি জায়ান্ট বর্তমানে এ কম্পিউটিং খাতে বিনিয়োগ করছে। তবে এ প্রযুক্তি নিয়ে প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ এখনো রয়ে গেছে। কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে অগ্রগতি বিশ্বব্যাপী সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। খবর টেকটাইমস।
কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে অগ্রগতির সঙ্গে বর্তমান এনক্রিপশন সিস্টেমের দুর্বলতাগুলো উঠে এসেছে। এসব দুর্বলতা দূর করতে বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোকে পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট এ বিষয়ক একটি বিল পাস করেছে। যেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের অগ্রগতির বিপরীতে শক্ত ক্রিপ্টোগ্রাফিক সুরক্ষার প্রয়োজনটি তুলে ধরা হয়েছে।
দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে আনা পলা অ্যাসিস কোয়ান্টাম কম্পিউটারের সাইবার নিরাপত্তায় ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, এটি এমন একটি বৈপ্লবিক প্রযুক্তি যা অতি সহজে প্যারালাল ক্যালকুলেশনের মাধ্যমে যেকোনো এনক্রিপশন সিস্টেম অনায়াসে ভাঙতে পারে। ফলে বড় মাত্রার সাইবার নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
স্যান্ডবক্সএকিউ-এর সিইও জ্যাক হিদারি জানান, কোয়ান্টাম কম্পিউটার এতটাই শক্তিশালী যে তাত্ত্বিকভাবে এ মেশিন আমাদের জানা সব ধরনের সাইবার এনক্রিপশন কোড ভেঙে ফেলতে সক্ষম। এছাড়া এখনো অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এ ধরনের সাইবার নিরাপত্তাবিষয়ক সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য যথাযথভাবে প্রস্তুত নয়। তাই প্রতিষ্ঠানগুলোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির একীভূত করার ক্ষেত্রে সাবধানতার সঙ্গে এগোতে হবে।
জ্যাক হিদারি আরো জানান, কোয়ান্টাম কম্পিউটারের অগ্রগতির সঙ্গে মিল রেখে ব্যাংকগুলোর পোস্ট কোয়ান্টাম প্রটোকল গ্রহণের দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে। তা না হলে ই-কমার্স ও অনলাইন ব্যাংকিংয়ের মতো এনক্রিপশননির্ভর শিল্পগুলো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
এছাড়া ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের আলোচনায় কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে চীনের শক্তিশালী প্রচেষ্টা ও কোয়ান্টাম প্রযুক্তির কার্যকর নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
সুইজারল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় ইটিএইচ জুরিখের প্রেসিডেন্ট জোয়েল মেসোট মনে করেন, বিধিমালা বা আইনের মাধ্যমে এআই নিয়ন্ত্রণের চেয়ে কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ আরো সহজ হবে। এ প্রযুক্তিটির ক্ষেত্রে কার্যকর বিধিমালা বা আইন বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে তিনি আশাবাদী।
এদিকে ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইউরোপীয় কমিশন ও জাতিসংঘ কোয়ান্টাম কম্পিউটিংকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। এরই মধ্যে এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, সেমিকন্ডাক্টর ও বায়োটেকনোলজির সঙ্গে সম্পর্কিত সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত ও মূল্যায়নের কাজ শুরু করেছে ইইউ।
বিশ্বে কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ে প্রযুক্তিতে রূপান্তরের গতি দিন দিন বাড়ছে। প্রযুক্তিটির নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এখন থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নিতে হবে। তাহলে সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ঝুঁকি কমে আসবে বলে মনে করছে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা।