শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:৫৭ অপরাহ্ন
সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে শয্যা রয়েছে ২৫০টি। এর মধ্যে শিশু ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ ৪০টি শয্যা। গত কয়েকদিন ধরে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর চাপ বেড়েছে হাসপাতালটিতে। যার বেশির ভাগই শিশু। নির্ধারিত ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় রোগী বেশি থাকায় অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছে বারান্দায়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ দিনে ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত ১২০টি শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছে ১২টি শিশু। এছাড়া নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গত এক সপ্তাহে ৭২টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এর বাইরে বহির্বিভাগে প্রতিদিন শিশুসহ ১৫০ জন ঠাণ্ডাজনিত রোগের চিকিৎসা নিচ্ছে।
সিরাজগঞ্জের ২৫০ শয্যার বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে চারদিন ধরে রয়েছেন বেলকুচি উপজেলার মকুন্দগাতী এলাকার জাহিদুল ইসলাম। তার তিন মাস বয়সী সন্তান জিসানের চিকিৎসা করাচ্ছেন। ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে জিসান। জাহিদুল ইসলাম জানান তার চিকিৎসা চলছে, তবে খুব একটা উন্নতি হয়নি।
হাসপাতালের ৪০ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে জায়গা না পেয়ে মেঝেতে সন্তানের চিকিৎসা করাচ্ছেন সদর উপজেলার পিপুলবাড়ীয়ার হাসান ইমাম। তিনি জানান, তার ১১ মাস বয়সী সন্তান রিয়াদের দুদিন আগে ডায়রিয়া শুরু হয়। গত মঙ্গলবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। স্যালাইনসহ অন্যান্য ওষুধ চলছে। তবে শয্যা না পেয়ে মেঝেতে থাকতে হচ্ছে তাদের।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার রায় বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় শিশুরা নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। ভর্তি হওয়া শিশুদের সব ধরনের চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।’ এ সময় শিশুদের শীত ও ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখা, বাসি খাবার না খাওয়ানো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পরামর্শ দেন তিনি।
হাসপাতালের শিশু বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. আমিনুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘শিশুদের ঠাণ্ডা থেকে দূরে রাখতে হবে। গরম কাপড় পরাতে হবে। পুষ্টিকর খাবার বেশি বেশি দিতে হবে। নবজাতকদের মায়ের বুকের কাছে রাখতে হবে। ঘন ঘন বুকের দুধ পান করাতে হবে।’