শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:৫৮ অপরাহ্ন
জেনারেটিভ এআইয়ের (জেনএআই) পরিধি ও ব্যবহার প্রতিনিয়ত বাড়ছে। উন্নত এ প্রযুক্তির মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানি যেমন নতুন পণ্য আনছে, তেমনি ব্যয় নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সাল নাগাদ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা খাতের ব্যয় ১০ হাজার কোটি ডলার কমে আসবে। আইডিসির প্রতিবেদনের বরাতে মেডিকেলবায়ারে প্রকাশিত খবরে এ তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, জেনএআইয়ের সহায়তায় হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোর ১০ শতাংশের মতো সময় বেঁচে যাবে।
আইডিসি ফিউজারস্কেপ: ওয়ার্ল্ডওয়াইড হেলথকেয়ার ইন্ডাস্ট্রি ২০২৪ প্রেডিকশন-এশিয়া/প্যাসিফিক ইমপ্লিকেশন শিরোনামে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে।
বর্তমান সব খাতসংশ্লিষ্টরা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার নিশ্চিতে আগ্রহী। এর অংশ হিসেবে জেনএআই স্বাস্থ্যসেবা খাতে রূপান্তরকারী শক্তি হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে। এটি স্বাস্থ্যসেবা খাতে কর্মসক্ষমতা ও হাইপার পার্সোনালাইজেশনকে প্রভাবিত করবে। স্বাস্থ্যসেবার খাতসংশ্লিষ্টরা তাদের প্রয়োজন ও সক্ষমতা অনুযায়ী ব্যবহারের ক্ষেত্র ও কার্যকরী মডেল অনুসন্ধান করছে। কেননা জেনএআই যে স্বাস্থ্যসেবা খাতের ভবিষ্যৎ এ বিষয় সম্পর্কে তারা অবগত বলে অভিমত বিশ্লেষকদের। এ খাতে জেনএআই বিস্তারের বেশকিছু ক্ষেত্রের কথাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
জেনএআই পিএক্স: ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৬০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান জেনএআইয়ের উন্নয়ন ও ব্যবহারে দ্বিগুণ বিনিয়োগ করবে।
রোগ নির্ণয়ে এআই: আগামী বছরের মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হাইব্রিড ওয়ার্ক মডেল গ্রহণ করবে।
সব জায়গায় এআইয়ের মাধ্যমে সহায়তা: ২০২৭ সাল নাগাদ ৫০ শতাংশ কোম্পানি জেনএআইয়ের মাধ্যমে রোগীদের তথ্য সংগ্রহ ও পর্যালোচনা করবে এবং যেকোনো জায়গায় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের সুবিধা নিশ্চিত করবে। এছাড়া ২০২৯ সাল নাগাদ হাসপাতালগুলোয় টেকসই ও আধুনিক করতে বিনিয়োগের হার ৫০ শতাংশ বাড়বে। বিশেষ করে খরচ কমানো, রোগীর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নসহ বেশি কিছু বিষয় রয়েছে।
আইডিসি এশিয়া-প্যাসিফিকের পাবলিক সেক্টর বিভাগের প্রধান লুইস ফ্রান্সিস বলেন, ‘যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার বিষয়টি এখন এ খাতের বড় সমস্যা। কিন্তু জেন এআইসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবায় থাকা বিভিন্ন ত্রুটির সমাধান হবে।’ তিনি বলেন, ‘টেকইকুইটি ধারণার মানে হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা খাতে প্রযুক্তির সহায়তায় কীভাবে ন্যায়সঙ্গত বা যথাযথ স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া সম্ভব। বিশেষ করে আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে কী পরিবর্তন আসবে সেসব বিষয়।’
আইডিসির হেলথকেয়ার ইনসাইটস বিভাগের সিনিয়র রিসার্চ ম্যানেজার মনোজ বলেন, ‘এশিয়া বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় স্বাস্থ্যসেবা খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমানে রোগীকেন্দ্রিক মডেলের সঙ্গে সর্বোত্র এআই ব্যবহারের একটি প্রচেষ্টা চলমান। জেন এআইয়ের সহায়তায় আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্যসেবা খাতে ব্যাপক পরিবর্তন আসবে এবং আমরা এর শুরুর দিকে রয়েছি।’
মনোজ আরো জানান, এ অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠানগুলো ডাটা ম্যানেজমেন্ট, এআই ও অটোমেশনে বিনিয়োগ বাড়ানোয় আগ্রহী। স্বাস্থ্যসেবা খাতে, এআইয়ের ব্যবহার ইতিবাচক হলেও এর সঙ্গে অনেক ঝুঁকিও রয়েছে। যে কারণে এ প্রযুক্তি ব্যবহারে জবাবদিহিতা ও তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিতের বিষয় নিয়েও ভাবতে হবে।