শনিবার, ০৯ মে ২০২৬, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন
চীনকে বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম উন্নয়ন ও কৌশলগত অংশীদার আখ্যায়িত করে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করতে বেইজিংয়ের কাছে আরো সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গণভবনে গতকাল চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের ভাইস মিনিস্টার সান হাইয়ান তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান। অ্যাম্বাসাডর অ্যাট-লার্জ এম জিয়াউদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এম তোফাজ্জেল হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচরাইটার এম নজরুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ বিষয়ে ব্রিফ করেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় শেখ হাসিনাকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অভিনন্দন পৌঁছে দেন সান হাইয়ান।
সান হাইয়ান বলেন, ‘দেশবাসীর ভাগ্য পরিবর্তনের সংগ্রাম এবং বাংলাদেশী জনগণের প্রতি ভালোবাসা ও মমতার কারণে শেখ হাসিনার পুনরায় প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন শি জিনপিং। কেননা দেশ ও জনগণের প্রতি শেখ হাসিনার দেশপ্রেম এবং তিনি জনগণের ভাগ্য পরিবর্তনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলেন। এর ফলে তিনি বিজয়ী হয়েছেন।’
চীনের ভাইস মিনিস্টার তার সরকার ও সিপিসির পক্ষ থেকেও শেখ হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনরায় নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হওয়ায় সান হাইয়ান তাকেও অভিনন্দন জানান। তিনি আশা করেন, ‘সায়মা ওয়াজেদ বিশ্বব্যাপী অটিজম নিয়ন্ত্রণে ব্যাপক ভূমিকা পালন করবেন।’
সান হাইয়ান আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে এবং দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশে রূপান্তরিত করার কাজ দ্রুতগতিতে চলবে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনের উপমন্ত্রী ১৯৯১ সাল থেকে তার একাধিক বাংলাদেশ সফরের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘এ সময় আমি বাংলাদেশের অভূতপূর্ব ও অবিশ্বাস্য উন্নয়ন এবং দেশবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের প্রচেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছি।’
জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জানান, ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে কারণ, তিনি সফলভাবে দেশবাসীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছেন যে ‘আমরা করতে পারি।’ প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘ সময়ের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতাকেও কৃতিত্ব দিয়ে বলেছেন, ‘সরকারের ধারাবাহিকতা বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সহায়তা করেছে। সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং দেশবাসীকে উন্নত জীবন দিয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের এখনই সময়। আমাদের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করতে অতীতের চেয়ে চীন আরো বেশি সহযোগিতা করতে পারে।’
বাংলাদেশের প্রকৃত পরিবর্তন দেখতে সান হাইয়ানকে গ্রামীণ এলাকা ঘুরে দেখার পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চীনের ভাইস মিনিস্টার এ সময় চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন। সেই সঙ্গে ক্রমবর্ধমান কর্মসূচিগুলো আরো বাড়ানোর মাধ্যমে চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।