শুক্রবার, ১২ Jun ২০২৬, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন
মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সংঘাত ব্যাপক রূপ নিয়েছে। এ সংঘাতের রেশ এসে পড়েছে বাংলাদেশেও। আরাকান আর্মির সঙ্গে টিকতে না পেরে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) অন্তত ৬৮ সদস্য। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদর দপ্তর থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
গতকাল বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির মিয়ানমার সীমান্তের ওপারে দিনভর তীব্র গোলাগুলি হয়। মুহুর্মুহু গোলাগুলি ও মর্টার শেল নিক্ষেপের আওয়াজ পাওয়া যায় কক্সবাজারের উখিয়া সীমান্ত থেকেও। বান্দরবানের বাইশফাঁড়ি সীমান্তে এক ব্যক্তির বাড়িতে গোলা এসে পড়ে আগুন লেগে গেলে স্থানীয়রা ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যেই মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে আহত হন সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দা প্রবীন্দ্র ধর, রহিমা বেগম ও শামশুল আলম। এক পর্যায়ে নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুনধুম ইউনিয়নের তুমব্রু, কোনারপাড়া, ভাজাবনিয়া, বাইশফাঁড়িসহ সীমান্তবর্তী এলাকার লোকজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছোটাছুটি শুরু করে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ঘুনধুম ও তুমব্রু সীমান্তের কাছে পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও একটি মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শাহ্ মোজাহিদ উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘তুমব্রু সীমান্তে আতঙ্কিত মানুষদের নিরাপদে সরানোর ব্যবস্থাসহ পরিস্থিতি সম্পর্কে সজাগ থাকতে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে বলা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তা বিবেচনায় সীমান্ত সংলগ্ন একাধিক সড়ক বন্ধ রাখা হয়েছে।’ সীমান্তে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে প্রশাসনের পাশাপাশি বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘুনধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে থেমে থেমে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি চলছে। আর্টিলারি, মর্টার শেল ও গোলার বিকট শব্দে তুমব্রু সীমান্ত কাঁপছে। শূন্যরেখার আশপাশে প্রায় ৮০০ একর জমিতে বাংলাদেশের কৃষকরা ধান ও শাকসবজি চাষাবাদ করেন। সীমান্তে ব্যাপক গোলাগুলি ও বাংলাদেশ অংশে গুলি এসে পড়ায় চাষীরা আতঙ্কে খেতখামারে যেতে সাহস পাচ্ছেন না।’
সূত্র বলছে, বাংলাদেশ সীমান্তের ৪৮ কিলোমিটার এলাকায় থাকা বিজিপির বেশির ভাগ চৌকি এরই মধ্যে দখলে নিয়েছে আরাকান আর্মি। এখন বাকিগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় তারা। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা বাড়িয়েছে বিজিবি। নিরাপত্তা চৌকিগুলোতে সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে টহল জোরদার করা হয়েছে। কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির অধিনায়ক কর্নেল আবদুল্লাহ আল মাসরুকি জানিয়েছেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া বিজিপি সদস্যদের আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিরস্ত্র করে হেফাজতে নেয়া হয়েছে।