শনিবার, ০৪ Jul ২০২৬, ০৫:৫৮ অপরাহ্ন

ভোজ্যতেল-চিনির দামে নাভিশ্বাস ভোক্তার, পেঁয়াজে স্বস্তি নেই

অর্থনীতি ডেস্ক, নগরবার্তা.কম : নিত্যপণ্যের বাড়তি দামে দিশেহারা ভোক্তা। গত সাড়ে তিন মাস ধরে বাজারে পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে ক্রেতারা হিমশিম খাচ্ছেন। এছাড়া এক মাস ধরে ভোজ্যতেলের দামও বাড়তি। আর চলতি অর্থবছরের বাজেটে কর বাড়ানোর অজুহাতে চিনির দাম বাড়ানো হয়েছে। সর্বশেষ চলতি মাসে বিক্রেতারা কেজিতে ৭-৮ টাকা বাড়িয়েছেন।

শুক্রবার রাজধানীর বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা একাধিক ভোক্তা বলেছেন, একের পর এক পণ্যের দাম বাড়ানো হচ্ছে। অসাধু ব্যবসায়ীরা ছক করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়িয়ে যাচ্ছে। তারা ভোক্তার পকেট কেটে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। কিন্তু সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মৌলভীবাজার, নয়াবাজার ও শান্তিনগর কাঁচাবাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কোম্পানিভেদে পাঁচ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৪৫৫ থেকে ৫০০ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৪৫ থেকে ৫০০ টাকা। আর এক মাস আগে ৪৩০ থেকে ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এছাড়া খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ৮৬-৮৮ টাকা, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৮৪-৮৮ টাকা। আর এক মাস আগে বিক্রি হয় ৮০-৮৫ টাকা। শুক্রবার এই দাম বাড়ার চিত্র সরকারি সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার মূল্য তালিকায় দেখা গেছে।

সংস্থাটি বলছে, গত এক মাসে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ২ দশমিক ৬৯ শতাংশ বেড়েছে। আর খোলা সয়াবিনে বেড়েছে ৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।

এদিন রাজধানীর বৃহৎ পাইকারি বাজার পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের তেল ব্যবসায়ী জহিদুল ইসলাম জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়তি। এছাড়া বুকিং রেট (এলসি মূল্য) বেড়ে যাওয়ায় তেল আমদানি করতে বেশি টাকা খরচ করতে হচ্ছে। যে কারণে দাম বেড়েছে। তবে বুকিং রেট কমে গেলে আবারও তেলের দাম কমতে থাকবে।

নয়াবাজারে ভোজ্যতেল কিনতে আসা আরিফ বলেন, আমি প্রতি সপ্তাহে বাজার করি। এক সপ্তাহের নিত্যপণ্য একদিনে কিনে নেই। তাই দাম বাড়ার চিত্র খুব সহজে আমার কাছে ধরা পড়ে। এক মাস ধরে ভোজ্যতেলের দাম বাড়ছে। কিন্তু এ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো তৎপরতা নেই। এতে বিক্রেতাদের কাছে ভোক্তারা জিম্মি হয়ে পড়ছে।

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের বাজেটে কর বাড়ানোর অজুহাতে চিনির দাম বাড়ছেই। শুক্রবার রাজধানীর একাধিক বাজারের মুদি দোকানে প্রতি কেজি চিনি ৬৫-৬৬ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে বিক্রি হয় ৫৮ টাকা।

আর টিসিবি বলছে গত এক মাসে প্রতি কেজি চিনিতে ৭ দশমিক ৭৬ শতাংশ দাম বেড়েছে।

কারওয়ান বাজারের খুচরা মুদি বিক্রেতা মো. জলিল আহসান বলেন, বাজেটে বর বসানোর কারণে মিল মালিকরা চিনির দাম বাড়িয়েছে। এ জন্য খুচরা বাজারে কেজিতে সর্বোচ্চ ১৫ টাকা বেড়েছে।

এদিকে রাজধানীর খুচরা বাজারে সরবরাহ বাড়লেও পেঁয়াজের দরে ভোক্তার স্বস্তি নেই। শুক্রবার বাজারে প্রতিকেজি নতুন দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০-১১০ টাকা। গাছসহ পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬০-৭০ টাকা কেজি। মিয়ানমারের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১১০ টাকা। চীন ও মিসর থেকে আমদানি করা পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭০-৮০ টাকা। আর এই দুই দেশের একটু ছোট সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা কেজি।

কারওয়ান বাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. শাকিল বলেন, একের পর এক নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে। গত তিন থেকে চার মাস পেঁয়াজ কিনতে নাভিশ্বাস উঠেছে। সরবরাহ বাড়লেও দাম এখনও ১০০ টাকার ওপরে। সরকারকে এ বিষয়ে অবশ্যই পদক্ষেপ নিতে হবে।

নগরবার্তা.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com