শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৯:১৮ অপরাহ্ন

সতর্কতার সঙ্গে কারখানা খোলার সিদ্ধান্ত নিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা এবং সরকারি ছুটির মধ্যেই গার্মেন্টস কারখানা চালু করার আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সতর্কতার সঙ্গেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। কারখানা খোলা ইস্যুতে গঠিত কমিটিকে এ বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তারা।

অন্য দিকে শ্রমিক নেতারা বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কারখানা না খোলার পক্ষে মত দিয়েছেন। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক জন শ্রমিকের করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার তথ্য জানিয়ে তারা বলেছেন, এ অবস্থায় কারখানা চালু করা হলে অনেক শ্রমিক সংক্রমিত হতে পারে।

অন্য দিকে মালিক পক্ষ বলছেন, দীর্ঘ সময় কারখানা বন্ধ রাখা হলে অনেক শিল্প বাঁচিয়ে রাখা সম্ভব হবে না। এ পরিস্থিতিতে যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে কারখানা চালু করা যায়, সে উপায় খুঁজছেন তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে রানা প্লাজার সপ্তম বার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘কোভিড-১৯: সংকটের মুখে শ্রমিক ও মালিক-সরকারি উদ্যোগ ও করণীয়’ শীর্ষক এক ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠানে এ মতামত উঠে আসে।

আলোচনায় সরকারি ছুটির মধ্যেও শ্রমিক ছাঁটাই ও কারখানা লে অফ (সাময়িক বন্ধ) করার প্রসঙ্গ উঠে আসে। শ্রমিক নেতারা এটিকে আইন বিরোধী বলে উল্লেখ করেন। অন্য দিকে রানা প্লাজা দুর্ঘটনার সাত বছরে কারখানার নিরাপত্তার মানে অনেক অগ্রগতি হলেও এখনো শ্রমিক মালিক দূরত্ব কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় কমেনি। বক্তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

মূল প্রবন্ধে সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মহামারির কারণে দেশে লকডাউন থাকায় পোশাক কারখানার শ্রমিকরা তাদের জীবন-জীবিকা নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে তারা যাতে আগামী মাসের বেতন ঠিকমতো পান তা নিশ্চিত করতে হবে। গার্মেন্টসে ছয় মাসের বেতন নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, যদিও চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সাময়িক টানাপড়েন চলছে, কিন্তু তাতে করে এই দুই দেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে বলে মনে হয় না। বর্তমানে রপ্তানিখাতে যে স্থিতাবস্থা বিরাজ করছে, ভবিষ্যতে তা কাটিয়ে উঠে ব্যবসার সুযোগ ধরে রাখার প্রতি উদ্যোক্তাদের মনোযোগী হতে হবে।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন ভার্চুয়াল আলোচনাটি সঞ্চালনা করেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক এই মন্দার মাঝে পোশাক খাতের কার্যাদেশগুলো যেন অন্য দেশগুলোতে চলে না যায় সেক্ষেত্রে উদ্যোক্তা ও ক্রেতাদের দরকষাকষি অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে আপাতত এই সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সকল পক্ষকেই সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশ পোশাক উত্পাদক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)-এর সহসভাপতি আরশাদ জামাল দীপু বলেন, উদ্যোক্তা ও কারখানার মালিকগণ বৈশ্বিক এই মহামারির ফলে সৃষ্ট সংকট গভীরভাবে বিশ্লেষণ করছে। এই অভিজ্ঞতা সবার জন্য নতুন। রানা প্লাজার মতো ট্র্যাজেডি ছিল জাতীয় পর্যায়ের সংকট কিন্তু এখন আমরা একটি বৈশ্বিক সংকটের মুখে পড়েছি। এজন্য হয়তো কিছু সমন্বয়ের ঘাটতি দেখা গিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে উদ্যোক্তা ও কারখানা মালিকগণ দেশের আইন অনুযায়ী শ্রমিকদের পর্যাপ্ত সহযোগিতা করবে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com