শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৯:১৭ অপরাহ্ন

হাওরে কৃষকের জান বাঁচাতে ধান কাটছেন ৪ লাখ শ্রমিক

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : হাওর অঞ্চলে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হলেও আগাম বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই কারণে তারা চলতি মাসের মধ্যেই ধান কাটার পরামর্শ দিয়েছেন।

কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে স্থানীয়ভাবে প্রয়োজন অনুযায়ী শ্রমিক না থাকায় কৃষকরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। তবে, সেই শঙ্কা থেকে তাদের উদ্ধার করতে উদ্যোগ নিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব এলাকার ধান কেটে কৃষকের ঘরে তুলে দিতে নিয়োগ করা হয়েছে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক।

সূত্র আরও জানায়, হাওর অঞ্চলের সাত জেলা—কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এই বছর ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৩৯৯ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে (২৫ এপ্রিল) পর্যন্ত কাটা হয়েছে ১ দশমিক ৯৮ লাখ হেক্টর জমির ধান।

আগাম ধান কাটা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘এ বছর এসব এলাকার অনেক জায়গা থেকে পানি দেরিতে নেমেছে। তাই ধান রোপণেও দেরি হয়েছে। এই কারণে অনেক জমিতে এখনো ধান পাকেনি। আগাম বন্যা হলে দেরিতে রোপণ করা ধান ঘরে তোলা যাবে না।’

এদিক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘হাওর অঞ্চলসহ বিভিন্ন জেলায় বোরো ধান পেকেছে। আগাম বন্যা না হলে বোরো ধানের কোনো ক্ষতি হবে না।’

কৃষি মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর সূত্র জানায়, ধান কাটাসহ সার্বিক বিষয়ে দেখভাল করার জন্য একটি সেল গঠন করা হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, কৃষকলীগ, ছাত্রলীগ ছাড়াও অন্যান্য রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন, স্কুল-কলেজের ছাত্র-শিক্ষকসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ এগিয়ে এসে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন।

এই প্রসঙ্গে কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম ভূইয়া বলেন, ‘চলতি মাসের মধ্যেই হাওর অঞ্চলের ধান কেটে ঘরে তোলার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এই কাজের জন্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৪ জন শ্রমিককে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন জেলা থেকে এসব শ্রমিককে বিশেষ পরিবহনে হাওর অঞ্চলে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।’

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বা আগাম বন্যা না হলে যে গতিতে ধান কাটা চলছে, আগামী ১০ দিনের মধ্যে কৃষকরা ধান ঘরে তুলতে পারবেন।’

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর বোরো ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৪ লাখ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। এ লক্ষ্যমাত্রার ২০ ভাগের জোগান আসে হাওর অঞ্চল থেকে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com