শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ন

কৃষিতে যন্ত্র: বেড়েছে উৎপদান, কমছে খরচ

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : এক সময় লাঙ্গল-জোয়াল আর হালের বলদ ছিল কৃষকের চাষাবাদের প্রধান মাধ্যম। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া বদলে দিয়েছে সবকিছু। কৃষিতে এসেছে আধুনিক যন্ত্রের প্রয়োগ। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি খরচও কমেছে, সময়ও কম লাগছে।

কৃষির সব উপকরণ এখন আধুনিকীকরণ করা হয়েছে। লাঙ্গল-জোয়াল আর হালের বলদের স্থান দখলে নিয়েছে ট্রাক্টর (হাই স্পিড রোটারি টিলার)। বীজ বোনার জন্য পাওয়ার টিলার চালিত ইনক্লাইন্ড প্লেচ সিডার, ধান কাটার জন্য কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারসহ বিভিন্ন কৃষি কাজে আধুনিক যন্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানিসহ বেশ কিছু কৃষির আধুনিক যন্ত্র উদ্ভাবন করা হয়েছে।

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বর্তমানে ৭০ থেকে ৮০ ভাগ চাষের কাজ আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়েই হচ্ছে। জমি তৈরি থেকে ফসল কাটায় আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারে কৃষি সেক্টরে বিল্পব ঘটতে শুরু করেছে।

বর্তমানে কৃষিতে ব‌্যবহৃত আধুনিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে একটি হলো কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার। এর মাধ্যমে ধান কাটা, মাড়াই, খোসা থেকে দানা আলাদা- সবই করা যায়। এই মেশিন দিয়ে ধান কাটা ও মাড়াইয়ে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ খরচ কমছে। কৃষক স্বল্প সময়ে কম খরচে ধান ঘরে তুলতে পারছেন। সরকার এ মেশিনটিতে ৫০ শতাংশ ভর্তুকি দেয়ায় কৃষকদের মধ্যে ব‌্যাপক আগ্রহ তৈরি হচ্ছে।

জমির বীজ বপন, সার প্রয়োগ ও কীটনাশক দেয়ার জন্য আছে ব্রডকাস্ট সিডার। বীজ বপনের জন্য সিডড্রিল। মাটি সমান করার জন্য রয়েছে ল্যান্ড লেভেলার।

এ ছাড়া আমাদের দেশের কৃষি বিজ্ঞানীরা উদ্ভাবন করেছেন বারি গুটি ইউরিয়া প্রয়োগের যন্ত্র। স্বচালিত ধান ও গম কর্তন যন্ত্র। শক্তি চালিত ভুট্টা মাড়াই যন্ত্র, আম পাড়ার যন্ত্র, আম শোধন যন্ত্র, কম্পোস্ট সেপারেটর যন্ত্র, বারি কফি গ্রাইন্ডার, বারি বাদাম মাড়াই যন্ত্র, বারি হলুদ পলিসার, বারি সোলার পাম্প ও বারি কার্টন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কৃষি কাজের জন্য চাহিদা মাফিক শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রামে কৃষি শ্রমিক ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ করে। ২০৩০ সালে ১৫ থেকে ২০ শতাংশে নেমে যাবে এ সংখ‌্যা। তাই কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ছাড়া বিকল্প নেই। কায়িক শ্রমের বদলে আধুনিক কৃষিযন্ত্রে কাজ করায় তরুণ-বেকারদেরও আগ্রহ বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘খাদ্যশস্যে চাহিদা মেটাতে অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলানো জরুরি। বর্তমানে প্রতি হেক্টর জমিতে গড় উৎপাদন ৪.১০ টন।’

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে বর্তমানে ১৬ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার জন্য প্রতিদিন প্রতিজনের ৫০৯ গ্রাম হিসাবে বছরে তিন কোটি ছয় লাখ ৫৫ হাজার মেট্রিক টন খাদশস্যের চাহিদা রয়েছে। দেশে খাদ্য উৎপাদন চার গুণ বেড়ে চার কোটি ৩২ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়েছে। শাক-সবজি, ফলসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনে সাফল্য এসেছে। আগামী ২০৩০ সালে খাদ্যশস্যের চাহিদা হবে ৫.৫ কোটি টন। সে লক্ষে কাজ করছে সরকার।’

কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘কৃষিকাজে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে উৎপাদন বেড়েছে। এগিয়ে আসছে শিক্ষিত বেকরারা যুবকরাও। বোরো ধানসহ সব ধানের উৎপাদনে কৃষিকে শতভাগ যান্ত্রিকীকরণ করা হবে। ধান রোপন, কাটা, মাড়াই এবং শুকানোসহ সব কাজে যন্ত্র ব্যবহার করা হবে। সে লক্ষে এ বছর ভর্তুকি মূল্যে ২০০ কোটি টাকার কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লানটার-সহ বিভিন্ন কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষককে বিতরণ করা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণের জন্য ৩২০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে শিগগিরই অনুমোদন হবে। কৃষি ও কৃষকের জন্য যা করা দরকার সব সরকার করবে।’

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com