শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ০১:৪৩ পূর্বাহ্ন

কলকাতা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ট্রানজিট হয়ে পণ্য যাবে ত্রিপুরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : ভারতের কলকাতা শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী সমুদ্র বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রানজিট হয়ে ভারতীয় পণ্য যাবে ত্রিপুরা রাজ্যে।

আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রানজিট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) থেকে।

জাহাজে ভারতীয় পণ্যবাহী কন্টেইনার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানোর পর সেগুলি আবার চট্টগ্রাম থেকে সড়ক পথে আখাউড়া হয়ে ত্রিপুরা রাজ্যে চলে যাবে।

ট্রানজিট কার্যক্রমে প্রথম পরীক্ষামূলকভাবে কলকাতা বন্দর থেকে সেঁজুতি নামের একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে মঙ্গলবার দুপুরে। এই জাহাজে বাংলাদেশি আমদানিকারকদের পণ্যবাহী কন্টেইনারের পাশাপাশি ৪টি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রানজিট কন্টেইনার রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে ট্রানজিট হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে আজ থেকে। এই লক্ষ্যে চট্টগ্রাম বন্দর প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে সম্পাদিত ‘অ্যাগ্রিমেন্ট অন দ্য ইউজ অব চট্টগ্রাম অ্যান্ড মোংলা পোর্ট ফর মুভমেন্ট অব গুডস টু অ্যান্ড ফরম ইন্ডিয়া’ শিরোনামে চুক্তির আওতায় এই ট্রানজিট কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

ভারতের কলকাতার শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী সমুদ্র বন্দর থেকে বাংলাদেশি পতাকাবাহী এমভি সেঁজুতি নামের একটি কন্টেইনারবাহী জাহাজ মঙ্গলবার চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। এই জাহাজে সর্বমোট ১১১টি পণ্যবাহী কন্টেইনার রয়েছে। বাংলাদেশি আমদানিকারকদের বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি ৪টি ট্রানজিট কন্টেইনারে রয়েছে ভারতীয় পণ্য। এর মধ্যে দুই কন্টেইনার ডাল এবং দুই কন্টেইনারে ইস্পাতসামগ্রী রয়েছে। এসব পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে খালাস করে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সেরে আবার সড়ক পথে আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে চলে যাবে। ট্রানজিট পণ্যবাহী জাহাজের চট্টগ্রামের স্থানীয় এজেন্ট ম্যাঙ্গো শিপিং লাইন ট্রানজিট কন্টেইনার ত্রিপুরা পৌঁছার পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

বন্দর সচিব জানান, চট্টগ্রাম বন্দরকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহারের প্রেক্ষিতে ট্রানজিট পণ্য বোঝাই কন্টেইনারের বিপরীতে চুক্তি ও নীতিমালা অনুযায়ী পোর্ট চার্জসহ অন্যান্য যাবতীয় চার্জ ও ফি আদায় করা হবে। এর মাধ্যমে লাভবান হবে চট্টগ্রাম বন্দর।

এছাড়া, ট্রানজিট কার্যক্রম পরিচালনা চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতারও একটি দিক বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম বন্দরের সদস্য (প্রশাসন) জাফর আলম। নির্ধারিত ফি বা চার্জ পরিশোধের পরই কন্টেইনারসমূহ চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ত্রিপুরা পৌঁছানোর অনুমতি দেয়া হবে। একই নিয়মে আগাম দিলেও আরো বেশি বেশি পণ্য কলকাতা থেকে চট্টগ্রাম বন্দর ট্রানজিট হয়ে ত্রিপুরাসহ ভারতের অন্যান্য রাজ্যে পরিবাহিত হবে বলে জানা গেছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com