বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ১১:৪৩ অপরাহ্ন

প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৩৫ ও খাসি ১৩ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : গত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ২৯ ভাগ কমিয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ ২৯ ভাগ কমিয়ে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত বছর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট চামড়ার মূল্য ছিল ৪৫-৫০ টাকা এবং মফস্বলে ৩৫-৪০ টাকা। সারা দেশে খাসির চামড়ার মূল্য ঠিক করা হয়েছে ১৩ থেকে ১৫ টাকা, গত বছর ছিল ১৮-২০ টাকা। এছাড়া বকরির চামড়া ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত বছর ছিল ১৩-১৫ টাকা।

গত বছরের তুলনায় ঢাকার বাইরে গরুর চামড়ার মূল্য কমানো হয়েছে ২০ শতাংশ, খাসি ২৭ শতাংশ এবং বকরি ২৩ শতাংশ। বোরবার কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার মূল্য নির্ধারণ নিয়ে ভার্চুয়াল সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচা চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা এবং কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে চাহিদা কেমন হতে পারে তার সঙ্গে বর্তমান মজুদ বিবেচনা করে এবারের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। ক্রেতা ও বিক্রেতা সব কূল রক্ষা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সাপ্লাই চেইনে যেন মূল্য পায়, সেজন্য এ দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।

চামড়ার দাম কমছে কেন জানতে চাইলে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, রফতানি কমে গেছে, কোভিড-১৯ স্থবির করে দিয়েছে। সব বিষয় বিবেচনা করে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে এবার কাঁচা চামড়া রফতানির সুযোগ রাখা হচ্ছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সেজন্য কমিটি করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে।

তিনি জানান, কোরবানির চামড়া সংরক্ষণের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত লবণ সরবরাহের উদ্যোগ নিয়েছে। লবণ না লাগিয়ে চামড়া যেন ঢাকায় পাঠানো না হয়, সে ব্যাপারে প্রচার চালানো হয়েছে। ঢাকাসহ সারা দেশে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

বাণিজ্য সচিব জাফর উদ্দীন জানান, পশুর কাঁচা চামড়া নির্ধারিত মূল্যে ক্রয়-বিক্রয়, সংগ্রহ, সংরক্ষণ, মজুদ এবং চামড়ায় প্রয়োজনীয় লবণ লাগানোর তদারকিতে একটি ‘কমপ্রিহেনসিভ মনিটরিং প্ল্যান’ গ্রহণ করা হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় যৌথ সমন্বয় কমিটি, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন দফতর/সংস্থার সমন্বয়ে মনিটরিং টিম এবং সব জেলা পর্যায়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে এ টিম কাজ করবে। তথ্য সচিব কামরুন নাহারসহ চামড়া শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা বক্তব্য দেন।

গত ঈদে ‘ন্যায্য মূল্য’ না পেয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাস্তায় ও আবর্জনার ভাগাড়ে চামড়া ফেলে গিয়েছিলেন ফড়িয়ারা।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদারগুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে প্রেসিডেন্ট মো. সাইফুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ হাইড অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আফতাব খান।

নগরকন্ঠ.কম/এআর/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com