বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৬:২৯ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

‘কাঁচা মরিচের যে দাম তাতে মরিচ ছাড়া তরকারি খেতে হচ্ছে’

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : গোপালগঞ্জের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে গেছে। আর এতে নাকাল ক্রেতাসাধারণ। প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দাম। আজ সোমবার বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অনেকেই কাঁচা মরিচের পরিবর্তে শুকনা মরিচ কিনছেন। এক সপ্তাহ ধরে গোপালগঞ্জ শহরের বড় বাজার, বটতলা, পাচুরিয়া, বেদগ্রাম, ভেড়ারহাট, সাতপাড়, বৌলতলী, উলপুরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে।

গোপালগঞ্জ শহরের অনুপম ভক্ত, সমীর রায়, মোহসীন উদ্দিন সিকদার উরফি গ্রামের ওয়াদুদ মৃধাসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হলে তাঁরা বলেন, কাঁচা মরিচ এখন কেনাই দায়। এক কেজি মরিচ যদি আড়াই শ টাকা হয়, তাহলে কিভাবে চলে। এ তো ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এখন ১০০ গ্রাম মরিচ কিনতে ২৫ টাকা লাগে। তাই মরিচ কিনতে গেলে তরকারি কিনতে কষ্ট হয়ে যায়।

শহরের পাঁচুড়িয়া এলাকার আকবার হোসেন বলেন, কাঁচা মরিচের যে দাম, এখন তো মরিচ ছাড়াই তরকারি খেতে হচ্ছে। বাজারে যে মরিচ পাওয়া যাচ্ছে তার মানও খারাপ। ঝাল নাই। দাম আড়াই শ। আমাদের পক্ষে এত দামে মরিচ কিনে খাওয়া সম্ভব না। তাই শুকনা মরিচ কিনে খাচ্ছি।

শহরের বাজার এলাকার বাসিন্দা অসীম রায়, শংকর শর্মা, আনিস কাজী বলেন, কাঁচা মরিচের দাম বেশি হওয়ায় বর্তমানে শুকনা মরিচ খাচ্ছি। শুকনা মরিচের তরকারি খাওয়ার পর বুক ও পেট জ্বলাপোড়া করে। এভাবে চলতে থাকলে তো অসুস্থ হয়ে পড়ব।

গোপালগঞ্জ বড় বাজারে তরকারি ব্যবসায়ী পংকজ রায় ও নির্মল বিশ্বাস, রফিক মোল্লা, দেলোয়ার কাজী বলেন, গোপালগঞ্জ বাজারে মরিচ আসে উত্তরবঙ্গ থেকে। দীর্ঘ সময় বন্যার কারণে মরিচক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কাঁচা মরিচ নষ্ট হয়ে গেছে। আর যা পাওয়া যায় তার মানও ভালো না। বর্তমানে এক কেজি কাঁচা মরিচ ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা বিক্রি করলেও লাভ হয় না। অন্য তরকারি বিক্রি করি। মরিচ না রাখলে তরকারি বিক্রি হয় কম। তাই বাধ্য হয়েই মরিচ রাখতে হয়। তার পরও মরিচ নিয়ে ক্রেতার সঙ্গে বিভিন্ন সময় বাগবিতণ্ডা হয়।

শহরের বটতলা বাজারের রফিক মোল্যা, উন্নতি বিশ্বাস ও অনিচ মোল্লা বলেন, কাঁচা মরিচের যে দাম, তাই অনেকেই খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। তার পরও আমরা দোকান চালানোর জন্য এক কেজি-দুই কেজি রাখি। কিন্তু অনেকে কাঁচা মরিচের পরিবর্তে শুকনা মরিচ কিনছেন।

আড়ত মালিক রেজাউল শেখ, শিবু বিশ্বাস ও দীপক বিশ্বাস, লিপন বিশ্বাস বলেন, মোকামে কাঁচা মরিচ পাওয়া যাচ্ছে না। বন্যায় মরিচক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমানে যে মরিচ পাওয়া যাচ্ছে, তার দাম অনেক বেশি। কাঁচা মরিচে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠছে না। আড়ত চালাতে বাধ্য হয়ে মরিচ আনতে হচ্ছে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com