বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০৩:১৯ অপরাহ্ন
এম.এ. সাবলু হৃদয় সিলেট: যে মাছ দেখলেই লোভ লাগে, জিভে জল এসে যায়, খেতে ইচ্ছে করে- তাই হয়তো সুদৃশ্য, দৃষ্টিনন্দন এ মাছের নাম রাখা হয়েছিল রানি মাছ। আগে মাছের বাজারে গেলেই দেখা মিলত রানি মাছের। এখন আর তেমন চোখে পড়ে না। হঠাৎ দেখা মিললেও তা যৎসামান্য। সিলেটের বিভাগের জলাশয় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে সুস্বাদু এ ‘রানি মাছ’। দৃষ্টিনন্দন এ মাছ এক সময় সারা বছরই সিলেটের নদী, খাল-বিল ও হাওর-বাওরে পাওয়া যেত। কিন্তু এখন নেই বললেই চলে।
সিলেটের নদ-নদী হাওরে আগে এ মাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যেত। নদী কিংবা বিলে বাঁশের চোঙা ফেলে রাখা হত। পরদিন এ চোঙা তুলে রানি মাছ পাওয়া যেত। জেলেদের জালেও এ মাছ ধরা পড়ত। কিন্তু এখন জালেও এ মাছ ধরা পড়ে না। সেচ করেও খুব একটা পাওয়া যায় না। অনেক স্থানে এ মাছটিকে বউ মাছ, বেটি মাছ, পুতুল মাছ, বেতাঙ্গী মাছ প্রভৃতি আঞ্চলিক নামে ডাকা হয়। রাণীমাছ প্রায় ৬-৭ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এরা খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাওর ইত্যাদির তলদেশে পরিষ্কার পানিতে বসবাস করতে পছন্দ করে। মে থেকে অক্টোবর মাসের মধ্যবর্তী সময়ে প্রজনন করে থাকে। অক্টোবরের শেষ থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত যখন বিলের পানি কমে যেতে থাকে তখন এরা জালে ধরা পড়ে বেশি।
জেলেরা বলেন, এক সময় সিলেটের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীতে সারা বছরই ‘রানি মাছ’ ধরা পড়ত। তবে, বর্ষা মৌসুমে বেশি পরিমাণে এ মাছ পাওয়া যেত। জেলেরা বিভিন্ন জাতের জাল ও চাঁই দিয়ে এ মাছ ধরতেন। নদীতে এখন আগের মতো রানি মাছ পাওয়া যায় না। শুষ্ক মৌসুমে এ মাছের দেখাই মেলে না। বর্ষাকালে মাঝে মধ্যে খুব অল্প পরিমাণে এ মাছ ধরা পড়ে।
মাছ ক্রেতা ছয়ফুল আলম পারুল বলেন, বেশি দিন আগের কথা নয়- পাঁচ-সাত বছর আগের কথা। হেমন্ত-শীত মৌসুমের সকালে মৎসজীবীরা আমাদের পাড়ায় মাছ বিক্রি করতে আসতেন। তাদের কাছ থেকে প্রচুর তরতাজা সুস্বাদু মাছ পাওয়া যেত। এখনো অবশ্য মৎসজীবীরা মাছ বিক্রি করতে আসেন, তবে রাণী মাছগুলোকে আর দেখা যায় না। রাণীমাছগুলো দেখতে দেখতে প্রায় চোখের আড়ালই হয়ে গেল! ছোটবেলায় অনেক রানি মাছ খেয়েছি।
কাজির বাজারের একাধিক মৎস্য ব্যবসায়ী জানান, রানি মাছের কদর খুব বেশি। কিন্তু মাছটি এখন পাওয়াই যায় না। আগে মাছের ফাঁদে অন্য জাতের সঙ্গে রানি মাছও পাওয়া যেত। মানুষজন শখ করে এ মাছ কিনত। কিন্তু এখন শখ আছে মাছটি নেই। লোকজন খোঁজাখুঁজি করে। কিন্তু আমরা মাছটি দিতে পারি না। পানিতে থাকলে তো এ মাছ ধরা পড়ত। পানি থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এ মাছ।