রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ০৪:৪৬ পূর্বাহ্ন
এই দুর্যোগকালীন অবস্থা এবং চলমান রমজান মাসকে সামনে রেখে ‘উই, নট আই’ সংগঠনের সদস্যরা স্বল্পমূল্যে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্বল্পমূল্যে ইফতার কর্মসূচি-২০২১ এর আওতায় তারা মাত্র ১০ টাকায় সরবরাহ দিচ্ছেন পুষ্টিকর খাবার।
নিম্ন আয়ের পাশাপাশি সামর্থ্যহীন—যারা সম্মানের কথা ভেবে সাহায্য চেয়ে হাত পাততে কুণ্ঠাবোধ করেন—এই আয়োজন তাদের জন্যই।
অসংকোচে নামমাত্র মূল্যে কিনে খেতে পারেন এই খাবার। রমজানে ‘লকডাউন’ পড়ায় মানুষকে কম দামে খাওয়ানোর জন্য ইফতারের সময়কে বেছে নিয়েছেন তারা।
ঢাকার মিরপুর-১ এর সালিমুদ্দিন মার্কেট ও ৬০ ফিট-এর জোনাকি রোডে এই খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে।
‘উই, নট আই’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সহ-সভাপতি তাহসিন রিয়াজ জানান, তারা পুরোটাই নিজ উদ্যোগে খরচ করছেন। ১০ টাকা মূল্য নিলেও প্যাকেটপ্রতি তাদের খরচ হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা।
ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কোন পানীয় দিতে পারছেন না তারা। তাছাড়া যেহেতু অনেক মানুষের জন্য আয়োজন করতে পারছেন না; তাই সত্যিকারের প্রয়োজন যাদের, তাদের হাতে খাবার পৌঁছে দেওয়ার জন্য বিশেষ টোকেনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
ফিল্ড সার্ভে করার মাধ্যমে এই ফুড টোকেন সরবরাহ করা হচ্ছে।
গতবছর করোনাকালীন বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘প্রোজেক্ট একান্নবর্তী’ নামে একটি বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে কয়েক হাজার মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছে দেয় তারা।
পাশাপাশি রমজান মাসে দরিদ্র অসহায় রোজাদারদের জন্য ব্যবস্থা করা হয় স্বল্পমূল্যে ইফতার কর্মসূচি। সেই ধারাবাহিকতায় এ বছর স্বল্পমূল্যে ইফতার কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
তাহসিন বলেন, “মূলত সাধারণ মানুষের দানের ওপর নির্ভর করে তারা রোজ দরিদ্রদের প্রতি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন।”
তাই সমাজের সামর্থ্যবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। সাহায্য পাঠানোর জন্য এই লিংকে প্রবেশ করুন।
ইভেন্ট লিংক: https://www.facebook.com/183621335713826/posts/940627096679909/
তাহসিন বলছিলেন, ”মানুষ মানুষের জন্য, এই কথাটি সবাই জানি। অন্যের বিপদ দেখলে আমরা এগিয়ে যাই। নিজ পরিবারের সদস্য বা সন্তান হলে তো কথাই নেই—আমরা সর্বদা প্রস্তুত পাশে দাঁড়াতে।”
তিনি আরও বলেন, ”আমরা কী কখনো ভেবে দেখেছি যে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম একটি সুস্থ পরিচ্ছন্ন দেশ পাবে কিনা? সেই ভাবনা থেকেই ‘উই, নট আই’ সংগঠনটির জন্ম। শুরু থেকেই এই দেশকে একটি পরিচ্ছন্ন ও মানবিক এক দেশ হিসেবে দেখতে চেয়েছি আমরা। তাই এমন উদ্যোগ।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি জন্ম নেওয়া সংগঠনটি শুরু থেকেই আলোচনায় আসে তাদের মিরপুরব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানোর জন্য।
এছাড়াও তাদের মিরপুরে মডেল সিটি বানানোর উদ্যোগও ব্যাপক সাড়া ফেলে। দেশের জাতীয় দিবসগুলোতে তাদের এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তরুণ প্রজন্মকে ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ করে।
পাশাপাশি শ্রমিক দিবস, নারী দিবসে শ্রমিক এবং বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষদের তুলে ধরতে নানা উদ্যোগ নেয় তারা। তরুণদের দক্ষ করে তুলতে লিডারশিপ ক্যাম্পের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্কশপও আয়োজন করে সংস্থাটি। সংগঠনের উদ্যোক্তা ও সভাপতি রুমন রাইয়ান।
এদিকে ধরনের আয়োজনে একধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দেওয়াই স্বাভাবিক। খাবার সরবরাহ শেষে রাস্তায় খাবারের প্যাকেট ও অন্যান্য ময়লা পড়ে থাকাও অস্বাভাবিক নয়।