সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০২:৫৯ অপরাহ্ন
২০১৬ সালের ৫ জুন ছেলেকে স্কুলবাসে তুলে দিতে গিয়ে চট্টগ্রামের জিইসি এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলি ও ছুরিকাঘাতে নিহত হন সে সময়কার পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারের স্ত্রী মাহমুদা খানম মিতু। ওই সময় তার সাথে থাকা শিশুপুত্র মায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন।
মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই বলছে, প্রত্যক্ষদর্শী সেই ছেলের সাথে কথা বলতে চান তারা। কিন্তু এখনও তাকে খুঁজে পায়নি পিবিআই।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন-পিবিআই এর ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘সে তার মাকে রক্ষা করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলো। সে অনেক কিছু দেখেছে। আমরা খুঁজছিলাম তার সঙ্গে কথা বলা দরকার। সে যেন বুঝতে না পারে। গত রাত পর্যন্ত চেষ্টা করেছি তার সঙ্গে কথা বলতে। তার আত্মীয়-স্বজনকে ম্যাসেজ দিয়েছি, আমাদের কলটি যেন রিসিভ করে। আমাদের ম্যাসেজটি যেন বুঝতে পারে।’
৫ দিনের রিমান্ডের চারদিনেও বাবুল আক্তার তেমন কোন সহযোগিতা করেননি। পিবিআই বলছে, বাবুলের স্বীকারোক্তি না পেলেও তথ্যপ্রমাণ রয়েছে তাদের হাতে
বনজ কুমার মজুমদার আরো বলেন, ‘একজন লোক যদি অনুতপ্ত হন তার কৃতকর্মের জন্য, সে তখন স্বেচ্ছায় সহযোগিতা করবেন। রিমান্ডে আমরা সেই সুযোগটি নিতে চাই যে উনি আমাদের সহযোগিতা করবেন কি করবেন না। তবে সহযোগিতা না করলেও অন্য সব ডিজিটাল, অ্যানালগ, বিভিন্ন সাক্ষ্যপ্রমাণে মামলা সব সময় আগাতে সকল ধরনের সুযোগ থাকে। সবাইকেই যে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে হবে এটাও না।’
এদিকে মিতু হত্যা মামলার আরেক আসামি ৫ বছর ধরে নিখোঁজ মুসাকেও খুজছে পিবিআই। বনজ কুমার মজুমদার জানান, ‘মুসাকে খুঁজতে লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আমরা দেখছি মুসার কি অবস্থা। মুসা যদি বাংলাদেশে থাকে তাহলে পিবিআই পাবে।’
।পিবিআই বলছে, প্রয়োজন হলে বাবুলের কথিত প্রেমিকা গায়ত্রী অমর সিং সাথেও তারা যোগাযোগ করবেন। বনজ কুমার মজুমদার আরো জানান, ‘আমরা তার গৃহকর্মী যে এখানে বাংলাদেশে ছিলো তার সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। দেখি তিনি আমাদের কতটুকু সহযোগিতা করে। তিনি এখন বাংলাদেশে নেই, আমরা এদিকটাও দেখছি। তিনি কতটুকু জড়িত, বাবুল আক্তার কি বলে, তিনি বাবুলের কথায় প্ররোচিত হয়েছিলেন কি-না। তার ভূমিকা কতটুকু ছিলো। তদন্তে সেগুলো আসবে।’
মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনে সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে আবারো রিমাণ্ডে আনা হতে পারে বলেও জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে বহুল আলোচিত মাহমুদা খানম মিতু হত্যাকাণ্ডের পাঁচ বছর পর মিতুর স্বামী সাবেক পুলিশ সুপার বাবুল আক্তারকে আটক করে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।