সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
মঙ্গলবার (১৮ মে) বিকাল পৌনে ৪টায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কারাগারে আনা হয়। এসময় কারাফটকে রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু, রোজিনা ইসলামের বোন সাবিনা আক্তারসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
রোজিনার শারীরিক অবস্থা ভালো নয় জানিয়ে স্বামী মনিরুল ইসলাম মিঠু বলেন, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে তার সঙ্গে সর্বশেষ কথা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিচ্ছে বলে তিনি জানান।
সোমবার (১৭ মে) পেশাগত দায়িত্ব পালনকারে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঁচ ঘণ্টা আটকে রেখে হেনস্তা করা হয় রোজিনাকে। পরে তার বিরুদ্ধে অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে মামলা দায়ের পর মঙ্গলবার আদালতে পাঠানো হয়। পরে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নিদের্শ দেন আদালত।
এ ব্যাপারে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগারের জেল সুপার হোসনে আরা বিথীর সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে কারা ফটকে দায়িত্বে থাকা কারারক্ষী আবদল হান্নান রোজিনা ইসলামকে কাশিমপুর কারাগারে আনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে, রোজিনাকে হেনস্তা ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে গাজীপুরে মানববন্ধন করে মুক্তির দাবি করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। মঙ্গলবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সামনে মুখে কালো কাপড় বেঁধে মানবপ্রাচীর তৈরি করে এসব কর্মসূচি পালন করে সংবাদকর্মীরা। এসময় বক্তব্য রাখেন প্রথম আলোর শ্রীপুর প্রতিনিধি সাদেক মৃধা, সমকালের ইজাজ আহমেদ মিলন, সময় টিভির রাজীবুল হাসান প্রমুখ।
কর্মসূচি চলাকালে পেশাদার একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিককে অবরুদ্ধ রাখা ও গ্রেপ্তারের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানান বক্তারা। তারা অবিলম্বে রোজিনার মুক্তির দাবি করেন।
প্রসঙ্গত, সোমবার বিকেলে পেশাগত কাজে সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যান রোজিনা ইসলাম। সেখানে কিছু নথির ছবি তোলার অভিযোগে একটি কক্ষে তাকে আটকে রাখা হয় এবং তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়া হয়। ঘটনার এক পর্যায়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন রোজিনা। খবর পেয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভবনে যান। রোজিনাকে আটকে রাখার কারণ জানতে চান। পরে রাতে ৯টার দিকে রোজিনাকে নিয়ে যাওয়া হয় শাহবাগ থানায়।
রাষ্ট্রীয় নথিপত্র সংগ্রহ ও ছবি তোলার অভিযোগে প্রথম আলোর প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সোমবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলা হয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ তিনটি ধারায় অভিযোগ এনে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।