সোমবার, ২৯ Jun ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
গ্রেপ্তার এড়াতে ও মাইক্রোবাসে বহন করা চোলাই মদ রক্ষা করতে পুলিশের সহকারী উপ পরিদর্শককে (এএসআই) গাড়িচাপা দিয়েছেন চালক উত্তম বিশ্বাস। শনিবার চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শফি উদ্দিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা বলেন তিনি।
জিজ্ঞাসাবাদে মাইক্রোবাসটির চালক পুলিশকে জানিয়েছেন, মাইক্রোবাসে থাকা চোলাই মদ সম্পূর্ণ তার জিম্মায় নিয়ে আসা হচ্ছিল। এগুলো পুলিশের হাতে ধরা পড়লে মালিককে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার শর্ত ছিল তার। তাই গ্রেপ্তার এড়াতে ও মাদক রক্ষা করতে পুলিশ সদস্যদের চাপা দিয়ে পালিয়েছিলেন তিনি।
এ ঘটনায় উত্তম বিশ্বাসসহ তিনজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দুইদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। এর আগে শুক্রবার রাতে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এ ঘটনার মূলহোতা জাহাঙ্গীরসহ বাকি চারজনকে এখনও গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
গ্রেপ্তার তিনজন হলেন, বোয়ালখালী থানার ধোরলা গ্রামের কৃষ্ণ বিশ্বাসের ছেলে উত্তম বিশ্বাস ওরফে মো. বেলাল, একই থানার সারোয়াতলী গ্রামের মৃত জাকের হোসেনের ছেলে সামশুল আলম ও তার ছেলে মো. রাশেদ ওরফে রাসেল। এদের মধ্যে উত্তম বিশ্বাস মাইক্রোবাসটির চালক এবং সামশুল আলম ও রাশেদ মদ বিক্রেতা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাইক্রোবাসটিতে থাকা চোলাই মদের মালিক গ্রেপ্তার সামশুল আলমের বড় ছেলে মো. জাহাঙ্গীর। তার নেতৃত্বে রাঙামাটি থেকে গাড়িটি ৭৩০ লিটার চোলাই মদ নিয়ে আসছিল। ঘটনার দিন পুলিশি তল্লাশি এড়াতে মাইক্রোবাসটির সামনে-পেছনে দুইটি মোটরসাইকেল নিয়ে স্কট দিয়ে আসছিলেন তারা।
সামনের মোটরসাইকেলে ছিলেন জাহাঙ্গীর ও বাবু। পেছনের মোটরসাইকেলে ছিলেন ফারুক ও জুয়েল। পরে সামনে থাকা মোটরসাইকেলটি পাঁচলাইশ থানার এন মোহাম্মদ প্লাস্টিক কারখানার সামনে এস কে মোটরস নামে একটি গ্যারেজ থেকে জব্দ করা হয়। কিন্তু মোটরসাইকেলের আরোহীদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
চান্দগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রাজেস বড়ুয়া জানান, ঘটনার পর মাইক্রোবাসটির মালিক ও চালককে শনাক্ত করা হয়। গাড়ির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্রও জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত মাইক্রোবাস চালক ও চোলাই মদের বিক্রেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা পরস্পরের যোগসাজশে রাঙামাটি থেকে চোলাই মদ এনে বোয়ালখালী ও পটিয়া এলাকায় বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এর আগে গত ১১ জুন নগরীর চান্দগাঁও থানার কাপ্তাই রাস্তার মাথা মেহেরাজ ঘাটা এলাকায় সংকেত না মেনে পুলিশ সদস্যদের চাপা দেয় মাদকবাহী একটি মাইক্রোবাস। এতে চান্দগাঁও থানার এএসআই কাজী মো. সালাহ উদ্দীন নিহত হন। আহত হন কনস্টেবল মো. মাসুম। পরে চান্দগাঁও থানার বোর্ড স্কুলের সামনে থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় মাইক্রোবাসটি জব্দ করে পুলিশ। মাইক্রোবাস থেকে ৭৩০ লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করা হয়।