মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

ভাতা বিতরণে স্বচ্ছতা এনেছে ‘নগদ’

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা উপবৃত্তিসহ সরকারি বিভিন্ন আর্থিক সহায়তা ডাক বিভাগের মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ‘নগদ’ সরাসরি উপকারভোগীদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার প্রদান এবং করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের আর্থিক সহায়তাসহ সব প্রকার অর্থ বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এগিয়ে রয়েছে ‘নগদ’। এখন আর উপকারভোগীদের ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। কোনো ধরনের খরচ ছাড়াই যেকোনো নগদ এজেন্ট থেকে সহজেই ভাতার টাকা তুলতে পারছে।

‘নগদ’-এর তথ্য থেকে জানা যায়, ‘চলতি বছরে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় এমএফএস অপারেটরদের মাধ্যমে পাঁচ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা বিতরণ করেছে, যেখানে মোট ৭৫ শতাংশ ভাতা স্বচ্ছতার সঙ্গে বিতরণ করেছে নগদ।’ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, করোনার সময় দূরত্ব বজায় রেখে সরকারি সহায়তা বিতরণে এই পদ্ধতি খুবই কাজে লেগেছে। শতভাগ স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হয়েছে। সরকারি এই ভাতা ক্যাশ আউট করতে উপকারভোগীকে অতিরিক্ত কোনো অর্থ খরচ করতে হয় না। নগদ ক্যাশ আউটের পুরো চার্জ যুক্ত করে সুবিধাভোগীকে পাঠাচ্ছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে টাঙ্গাইল জেলার সদর ও দেলদুয়ার উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে নগদের মাধ্যমে ভাতা পাওয়া উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভাতার টাকা তুলতে আগে উপকারভোগীদের ব্যাংকে গিয়ে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে টাকা তুলতে হতো। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে অনেকেই অসুস্থ হয়ে যেত। এখন এসব সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে নগদ। কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়াই টাকা নিজের মোবাইলে পাচ্ছে এবং নগদের এজেন্ট থেকে খুব সহজেই তুলতে পারছে।

প্রতিবন্ধীর ভাতা পাচ্ছেন মো. সাহজাদা। তাঁর গ্রামের বাড়ি দেলদুয়ার উপজেলার মৌলবীপাড়া। তিনি বলেন, ‘নগদ আমাদের লেনদেন অনেক সহজ করে দিয়েছে। এখন ভাতা পেতে ও তুলতে আমার কোনো সমস্যা হয় না। আগে ভাতা তুলতে গেলে সমস্যার শেষ ছিল না। আমি অচল মানুষ তার পরও দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো।’ বিধবা ভাতা পান মাদারকুল গ্রামের লাল বানু। তিনি বলেন, ‘আগে ভাতার টাকার জন্য ব্যাংকে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। নগদের মাধ্যমে এখন আমার মেয়ের মোবাইলেই টাকা আসতেছে। তুলতেও কোনো ঝামেলা নেই।’

টাঙ্গাইল সদরের করটিয়া গ্রামের মিস্ত খাতুন বয়স্ক ভাতা পাচ্ছেন। তিনি বলেন, ‘নগদের মাধ্যমে টাকা তোলা অনেক সহজ। আগে ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা তুলতে অনেক কষ্ট হতো, তাই অনেকে কষ্টের ভয়ে টাকা তুলতে যেত না।’

টাঙ্গাইল জেলার দেলদুয়ার উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোবারক হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দেলদুয়ার উপজেলায় ১৩ হাজার ৬০০ উপকারভোগীকে টাকা পৌঁছে দিচ্ছে ডাক বিভাগের মোবাইল ব্যাংকিং সেবা নগদ। ফলে ভাতার টাকা সরাসরি উপকারভোগীর হাতে পৌঁছে যাচ্ছে। তিন মাস পর পর ভাতার টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও ঝামেলার কারণে ব্যাংক কর্মকর্তারা বছরে দুইবারের বেশি ভাতার টাকা দিতেন না। এই উপজেলায় নগদের প্রায় সাড়ে ৩০০ এজেন্ট রয়েছে।’

টাঙ্গাইল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘টাঙ্গাইল জেলায় নগদের মাধ্যমে দুই লাখ ১১ হাজার ৮৯৩ জনকে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। এতে আমাদের কাজ অনেক সহজ হয়েছে। এ জেলার প্রতিটি উপজেলার উপকারভোগীর মোবাইলে খুব সহজেই ভাতা পৌঁছে যাচ্ছে। আসলেই নগদ একটি ম্যাজিক।’

‘নগদ’ সূত্রে জানা যায়, ‘২০২০-২১ অর্থবছরে দুই কোটি ৫০ লাখ সুবিধাভোগীর মধ্যে তিন-চারবার স্বচ্ছতার সঙ্গে আর্থিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছে নগদ। বিদ্যমান সরকারি সুরক্ষা ভাতা বিতরণ প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতেও সহায়তা করেছে নগদ। সরকার এই প্রকল্পের জন্য এমএফএস অপারেটরকে দায়িত্ব দেওয়ার মাত্র তিন মাসের মধ্যে পুরো বিতরণকাজ সম্পন্ন করেছে নগদ।’

নগদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর এ মিশুক বলেন, ‘দেশে এমএফএস সেবা ১২ বছর আগে শুরু হলেও সরকারের ফান্ড বিতরণ শুরু করেছে নগদ। শুরুতে অনেক ঝামেলা এবং মুনাফা শূন্যের কাছাকাছি হওয়ায় এটি ত্রুটিপূর্ণ ছিল। কিন্তু নগদের ভিশনে আমরা এগিয়ে গেছি। ভাতা বিতরণে অসাধু সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করে আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে প্রায় ৩৮৫ কোটি টাকা ফেরত দিয়েছি, যা দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অব্যবহৃত সরকারি ভাতার টাকা ফেরত দেওয়ার উদাহরণ তৈরি করেছে নগদ।’

এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকার ভাতাভোগী থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রণোদনা ডিজিটাল মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে দিচ্ছে। আমি মনে করি, সবই সফলতার সঙ্গেই হচ্ছে। সরকারের এটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ, বিশেষ করে গ্রামের মানুষের হাতে অতি সহজে ও সুলভে টাকা পৌঁছে দেওয়াটা অসাধারণ কাজ। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীরা বিদায় হয়েছে। আমাদের নগদ সেই সেবাটা দক্ষতার সঙ্গেই দিচ্ছে। তবে যেখানে ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে সেখানেই আমি নিজেই দেখছি এবং সেসব জায়গায় তাত্ক্ষণিকভাবে ত্রুটিগুলো সমাধান করতে বলা হয়। এখন প্রায় ত্রুটিমুক্ততার মধ্য দিয়েই নগদ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com