বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২২, ০৭:৪৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
জুনে এসএসসি, আগস্টে এইচএসসি নিতে চায় বোর্ড দেশে বুস্টার ডোজ পেয়েছেন প্রায় সাড়ে সাত লাখ অনশন ও আন্দোলন ভিন্ন ব্যাপার: জাফর ইকবাল বাংলাদেশ যখন উন্নত দেশ হওয়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, ঠিক তখনই আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে : সরকারি দল বুয়েট ছাত্র আবরার হত্যা মামলা : মৃত্যুদন্ডাদেশপ্রাপ্ত ১৭ আসামির জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বললেন পেরেরা ফ্রান্সে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের নতুন রেকর্ড নেদারল্যান্ডসকে হোয়াইটওয়াশ করলো আফগানিস্তান টিকা আবিষ্কার ও ব্যবহারের অনুমতির আগেই সরকার টিকা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় : প্রধানমন্ত্রী রাজনীতি ও নির্বাচন নিয়ে বিএনপির সুনির্দিষ্ট কোনো রূপরেখা নেই : ওবায়দুল কাদের

আমতলীতে অবৈধ ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে কাঠ, ক্ষতি ফসলি জমির

সরকারের ইটভাটা নিয়ন্ত্রণ আইন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই বরগুনার আমতলীতে চলতে বেশ কয়েকটি ইটভাটা। এ সকল ইটভাটায় ড্রাম চিমনির মাধ্যমে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করে পোড়ানো হচ্ছে কাঠ। নষ্ট করা হচ্ছে ফসলি জমি আর উজাড় করা হচ্ছে বন।

বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্র থেকে জানা যায়, জেলায় বৈধ ইটভাটার সংখ্যা রয়েছে ৪২টি। এর মধ্যে আমতলী উপজেলায় আটটি ড্রাম চিমনির ইটভাটা রয়েছে। এসব ভাটার মালিকরা জানান, ড্রাম চিমনি ইটভাটার বৈধতা না থাকলেও এতে পরিবেশ ও ফসলি জমির কোনো ক্ষতি সাধিত হয় না। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর এ সকল অবৈধ ড্রাম চিমনির ইটভাটায় পরিবেশ ও ফসলি জমির ক্ষতি হলেও এগুলো বন্ধে প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

সরেজমিনে আমতলী উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের তালুকদার বাজার এলাকায় এইচআরটি নামক একটি ড্রাম চিমনির ইটভাটা কাঠ পুড়িয়ে চালানো হচ্ছে। ওই ইটভাটার পূর্ব পাশেই বড় একটি পুরনো বাজার ও উত্তর পাশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং একটি দাখিল মাদরাসা রয়েছে। কুকুয়া ইউনিয়নের রায়বালা গ্রামে ৮০০ শতাংশ ফসলি জমির মধ্যে গড়ে উঠেছে আল্লাহর দান নামে একটি ড্রাম চিমনি ইটভাটা। অভিযোগ রয়েছে, ওই ভাটার মালিক স্থানীয় অসহায় গরিব ও নিরীহ মানুষের জমি জোরপূর্বক দখল করে ওই ইটভাটা গড়ে তুলেছেন। একই এলাকায় অবস্থিত এমএমবি নামে আরো একটি ড্রাম চিমনি ইটভাটার চারদিকে ফসলি জমি রয়েছে। এ ছাড়া হাজার টাকা বাঁধ এলাকায় ফাইভ স্টার, কুকুয়া কুতুবপুর এলাকায় আরএনকেএস, চাওড়া মোস্তফাপুর এলাকায় এমএসবি, মহিষডাঙ্গা এলাকায় এমসিকে ব্রিকস নামে ড্রাম চিমনির ইটভাটায় গত বছরের ন্যায় এ বছরও কাঠ দিয়ে ইট পোড়ানো শুরু হয়েছে।

অথচ পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে হাইব্রিট হফম্যান, জিগজ্যাগ, ভার্টিক্যাল শ্যাফট কিলন অথবা পরীক্ষিত পরিবেশবান্ধব ইটভাটা করার কথা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা থাকলেও এসব নীতিমালা কোনোভাবেই মানছেন না ওই ড্রাম চিমনি ইটভাটার মালিকরা।

ড্রাম চিমনি ইটভাটার মালিক সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি ইটভাটায় প্রতিদিন গড়ে অন্তত ৪০০ মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এতে একেকটি ইটভাটায় মাসে ২৪ হাজার মণ কাঠের প্রয়োজন হয়। সে হিসাব অনুযায়ী আমতলী উপজেলার আটটি বাংলা ড্রাম চিমনি ইটভাটায় মাসে এক লাখ ৯২ হাজার মণ কাঠ পোড়ানো হয়। এতে যেমন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে তেমনি উজাড় করা হচ্ছে বন।

ভয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রায়বালা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আমাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে আল্লাহর দান নামে ওই ড্রাম চিমনি ইটভাটা করা হয়েছে। ওই ভাটার কাঠ ও টায়ার পোড়ানোর ধোঁয়ায় আমাদের বাড়িতে বসবাস করতে পারছি না।’

একাধিক ড্রাম চিমনি ইটভাটার মালিকরা দাবি করেন, কাঠ পুড়ে ইট তৈরিতে ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিবেশের ওপর তেমন কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে না। বিনা অনুমতিতে কিভাবে ভাটা চালাচ্ছেন এর উত্তরে মুচকি হাসি দিয়ে তাঁরা বলেন, বুঝেন তো সবই। এই ভাটার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষমতা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই। তাই প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই আমরা ড্রাম চিমনির ইটভাটা পরিচালনা করছি। তবে আগামী বছর তাঁরা অনুমতি না নিয়ে আর ভাটা চালাবেন না বলে জানান।

অন্য একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, প্রতিটি ড্রাম চিমনি ইটভাটায় প্রতি সিজনে ১৫ থেকে ১৭ লাখ ইট পোড়ানো হয়। এসব মাটির অধিকাংশ ফসলি জমিতে পুকুর কেটে ও ধানি জমির টপ সয়েল কেটে আনা হয়। তাই দিন দিন ফসলি জমিও কমে যাচ্ছে।

চাওড়া ইউনিয়নের বিশিষ্ট সমাজসেবক ও উপজেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক আলহাজ মো. আনোয়ার হোসেন ফকির বলেন, যেভাবে বৈধ অবৈধ ইটভাটায় ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। এতে আগামী ১০ বছরে চাষকৃত ফসলি জমি কমে অর্ধেকে নেমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর বরিশাল কার্যালয়ের পরিচালক মো. হালিম মিয়া মুঠোফোনে বলেন, আমতলী উপজেলায় আটটি ড্রাম চিমনির ইটভাটায় কাঠ পুড়ে, পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো অবস্থাতেই ওই ভাটা চালাতে দেওয়া হবে না। যদি কোনো ভাটা মালিক চালায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান মুঠোফোনে বলেন, যে সকল ইটভাটা পরিচালনার কোনো বৈধ অনুমতি নেই তাদের ভাটা চালাতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে ওই সকল অবৈধ ভাটার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে জেল-জরিমানা করে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com