শনিবার, ২৭ Jun ২০২৬, ১১:৪৫ অপরাহ্ন
চলতি মৌসুমে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬হাজার ৯৯৫ হেক্টর বেশি জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।এ অঞ্চলে পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।এ ৬ জেলায় ১লাখ ৬২হাজার ৩৮৭ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ১লাখ ৬৯হাজার ৩৮২ হেক্টর জমিতে।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অধীন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলা হচ্ছে-যশোর, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা,কুষ্টিয়া, মেহেরপুর ও মাগুরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, যশোর কৃষি জোনের আওতায় ৬ জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩শ’৮২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।আবাদকৃত জমিতে ২০লাখ ৩২ হাজার বেল পাট উৎপাদনের সম্ভাবনা বয়েছে।আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর পাটের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।পাট ও পাটখড়ির চাহিদা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরাও পাট চাষে ঝুঁকে পড়ছেন। প্রতি বছর পাট চাষ করে লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।অনেক প্রান্তিক ও বর্গাচাষি অর্থকরী এ ফসল চাষে দিন দিন ঝুঁকে পড়ছেন বলে আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে। লাভজনক হওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকদের মাঝে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পাট চাষ।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ৬ জেলায় মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩শ’৮২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে যশোর জেলায় পাটের আবাদ হয়েছে ২৪হাজার ৮শ’ ৮০হেক্টর জমিতে।এ জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ বেল পাট। ঝিনাইদহে পাটের আবাদ হয়েছে ২৩হাজার ৫শ’ ৯০হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৮৩ হাজার ৮০ বেল পাট। মাগুরায় পাটের আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৯শ’৩০ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪লাখ ৪৩ হাজার ১৬০ বেল পাট।কুষ্টিয়ায় পাটের আবাদ হয়েছে ৪১ হাজার ৬শ’৭৩ হেক্টরে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫লাখ ৭৬ হাজার বেল পাট। চুয়াডাঙ্গায় পাটের আবাদ হয়েছে ২০হাজার ৭শ’ ২৯ হেক্টরে।উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৪৮হাজার ৭শ’৪৮ বেল পাট এবং মেহেরপুর জেলায় ২১ হাজার ৫শ’৮০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২লাখ ৫৮ হাজার ৯৬০ বেল পাট। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,যশোর সদর উপজেলার, বাঘারপাড়া উপজেলার এবং মাগুরা সদর উপজেলার মাঠের পর মাঠ শুধু পাটের ক্ষেত।কোথাও কোথাও চাষিরা ক্ষেত থেকে পাট কাটা শুরু করেছেন।সোনালী আঁশ পাট চাষে অর্থনৈতিক সচ্ছলতার স্বপ্নে বিভোর কৃষাণ-কৃষাণীরা।
যশোর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক ড.মো: এখলাছ উদ্দিন জানান,পাট চাষের মৌসুমের শুরু থেকে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পাট চাষিী উদ্বুদ্ধকরণ,পরামর্শ,মাঠ দিবস,উঠান বৈঠক,নতুন নতুন জাতের বীজ সরবরাহ ও প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।গত কয়েক বছর বাজারে পাটের দাম সন্তোষজনক থাকায় এ অঞ্চলে পাটের চাষ দিন দিন বাড়ছে। যশোর, খুলনাসহ বিভিন্ন জুট মিলে পাটের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা পাট চাষে ঝুঁকছেন বলে তিনি জানান।