শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৮:০৩ অপরাহ্ন
সন্তানসম্ভবা অবস্থায় এসএসসি পরীক্ষা শুরু করেন শায়লা আক্তার। মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১৫ মিনিট আগে হাসপাতালে কন্যা সন্তান জন্ম দেন তিনি। এরপরই ছুটে যান কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে।
নির্বিঘ্নে পরীক্ষা দিয়ে আবার হাসপাতালে নবজাতকের কাছে ছুটে আসেন। তার এমন অদম্য ইচ্ছে শক্তি দেখে শিক্ষক ও সহপাঠীরা অভিভূত ও আনন্দিত। আর ফুটফুটে কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়ায় খুশি পরিবারের সদস্যরা। শায়লা শরীয়তপুর পৌরসভার নীলকান্দি এলাকার সবুজ মিয়ার স্ত্রী।
শায়লার পরিবার সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌর এলাকার আংগারীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী শায়লা আক্তার। তিনি পাশের আংগারীয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।
গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে নীলকান্দি এলাকার সবুজ মিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় শায়লা আক্তারের। পরে তিনি সন্তানসম্ভবা হন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হয়। ওই অবস্থায় তিনি পরীক্ষা দিতে থাকেন। মঙ্গলবার ছিল তার ভূগোল পরীক্ষা। সকালে প্রসব বেদনা উঠলে তাকে জেলা সদরের রূপসী বাংলা হাসপাতালে ভর্তি করেন স্বজনেরা। এরপর ১০টা ৪৫ মিনিটে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। বেলা ১১টার সময় পরীক্ষা শুরু হয়ে যায়। সুস্থভাবে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর ছুটে যান পরীক্ষাকেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিতে।
শায়লা বলেন, সন্তান পেটে নিয়েই আটটি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি। মঙ্গলবার লিখিত পরীক্ষার শেষ দিনে কোল আলো করে সন্তান এসেছে। আমি আল্লাহর কাছে কৃতজ্ঞ। তিনি নির্বিঘ্নে আমার কোলে সন্তান দিয়েছেন। সুন্দরভাবে পরীক্ষা দিতে পারায় শিক্ষক ও চিকিৎসকদের প্রতি কৃতজ্ঞ। আমি সন্তান লালন-পালনের পাশাপাশি পড়ালেখা চালিয়ে যাব।
শায়লার স্বামী সবুজ মিয়া বলেন, শায়লা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবে তা কল্পনাও করতে পারিনি। সন্তান জন্ম নেয়ার পরপরই সে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য উতলা হয়ে ওঠে। স্বজনদের কাছে সন্তান রেখে তাকে নিয়ে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাই।
আংগারীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্র সচিব আনোয়ার কামাল বলেন, একজন শিক্ষার্থীর কতটা অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে প্রসব বেদনা উপেক্ষা করে পরীক্ষায় বসতে পারে! আমরা বিশ্বাসই করতে পারিনি সে ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পারবে। তার পরীক্ষায় অংশ নেয়ার ব্যবস্থা করে একজন নারী চিকিৎসক উপস্থিত রেখেছিলাম। সুস্থ দেহে পরীক্ষা শেষ করে সন্তানের কাছে ফিরে যাওয়ায় আমরা অনেক খুশি হয়েছি।
আংগারীয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, শায়লা আমাদের বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী। সন্তানসম্ভবা অবস্থায় সে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে পরীক্ষায় অংশ নেয়ায় আমরা গর্বিত, আনন্দিত।