রবিবার, ১৯ Jul ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ন
বরিশাল রেঞ্জের আওতাধীন ছয় জেলার বিভিন্ন গ্রাম ও পাড়ায় শান্তি রক্ষা ও অপরাধ কমাতে বিট পুলিশিং কার্যকর ভূমিকা রাখছে। বিট পুলিশিংয়ের ফলে চুরি-ডাকাতি, খুনখারাবি, নৃশংসতা, বর্বরতা ও নির্মমতার ঘটনা কমে যাওয়ায় গ্রামের চিত্র ক্রমেই পাল্টে যাচ্ছে।
২০১৭ সালের শেষ দিকে বরিশাল রেঞ্জে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়। ওই থেকেই এ কার্যক্রমের মাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে ব্যাপক সফলতা পায় বরিশাল রেঞ্জ পুলিশ।
বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার ওয়ার্ডে বিট পুলিশিং কমিটি রয়েছে। প্রতিটি কমিটির জন্য সংশ্লিষ্ট থানার একজন উপপরিদর্শক (এসআই) দায়িত্ব পালন করছেন। গ্রামে কোনো সমস্যা দেখা দিলে বিট পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা এসআইকে খবর দেওয়া হয়। তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এ ছাড়া মাসে কমপক্ষে চারবার দায়িত্বরত এসআই কমিটির লোকজনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনায় বসেন।
বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার জল্লা ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আরিফুর রহমান বলেন, বিট পুলিশিংয়ের গতিশীল কার্যক্রমে লোকজন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হচ্ছেন। অপরাধ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। এলাকায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধপ্রবণতা কমেছে।
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি পৌরসভার বাসিন্দা মো. হাসান ফকির বলেন, “বিট পুলিশিংয়ের কার্যক্রম থাকায় গ্রামের সামাজিক পরিবেশ পাল্টে গেছে। অপরাধপ্রবণতা কমেছে। গ্রামে গ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এ ধারা অব্যাহত রাখতে হলে বিট পুলিশিং কার্যক্রমকে আরো এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।”
পটুয়াখালী জেলার মির্জাগঞ্জ উপজেলার দেউলী সুবিদখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “সেবা নিতে এখন আর থানায় যেতে হচ্ছে না। বিট পুলিশিং কার্যক্রমের ফলে থানা-পুলিশের ওপর চাপ অনেকটাই কমে গেছে। ছোট ছোট অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি হয়ে যাচ্ছে।”
বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “পুলিশ সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ আর পুলিশ হলো জনগণের সেবক। পুলিশের দায়িত্ব নিরাপত্তা দেওয়া। নিরাপদ দেশ গড়ার জন্য নিরাপত্তা দেওয়া একা পুলিশ বাহিনীর পক্ষে সম্ভব না। সমাজের সব শ্রেণির মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ দমনে তথ্য দিয়ে পুলিশকে যদি সহযোগিতা করে তবে নিরাপদ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।”
শফিকুল ইসলাম আরো বলেন, ‘জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিট পুলিশিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিট পুলিশ কর্মকর্তার দায়িত্ব হলো তার এলাকার সবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং তাদের জননিরাপত্তাবিষয়ক কোনো সমস্যা আছে কি না, সে সম্পর্কে অবগত হওয়া। পুলিশ ও জনতা ঐক্যবদ্ধ হলে মাদক, চাঁদাবাজি, ইভটিজিং এবং সন্ত্রাস কোনো কিছুই থাকবে না।”