বুধবার, ২৮ Jul ২০২১, ০৯:৫৩ অপরাহ্ন

করোনায় কাজ হারিয়েছেন ৬২ শতাংশ মানুষ

৬২ শতাংশ মানুষ করোনা শুরু হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। যার বড় অংশ ২০২০ সালের এপ্রিল ও মে মাসে কর্মহীন হয়েছেন। পরে অনেকেই কাজে ফিরলেও আগের মতো আর চাকরি ফিরে পাননি। কর্মহীনদের মধ্যে ৮৫ শতাংশ একমাসের বেশি বেকার ছিলেন। তবে ইতিবাচক বিষয় হচ্ছে- জরিপকালে দেখা গেছে, প্রায় সবাই চাকরি ফেরত পেয়েছেন। কোনো কোনো ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের হার বেড়েছে ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায়।

জরিপে আরও দেখা গেছে, কৃষি খাতে কর্মসংস্থান বেড়েছে। এ খাতে ১৮ দশমিক ২৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে সেবা খাতে ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ কর্মসংস্থান কমেছে। আবার শিল্প খাতেও প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ।

সিপিডি বলছে, কর্মসংস্থান হলেও আয় কমেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে আয় কমেছে কৃষি খাতে। করোনার প্রভাবে ৭৮ শতাংশ মানুষ তাদের ব্যয় কমিয়ে দিয়েছেন। ৫২ শতাংশ খরচ কমাতে গিয়ে খাদ্য অভ্যাস কিছুটা পরিবর্তন করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি মানুষের ঋণের বোঝা বেড়েছে। ঋণ আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণ হয়েছে।

জরিপের তথ্য বলছে, কর্মসংস্থানে আছেন এমন ৪০ শতাংশ মানুষ করোনা সংক্রমণের আগের চেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছেন। আর ৮৬ শতাংশ বলছেন, তারা যা আয় করছেন তাতে সন্তুষ্টির জায়গায় নেই।

করোনায় আয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিম্নআয়ের মানুষের। ২৫০০ টাকা থেকে ৭৫০০ টাকা আয়ের মানুষের আয় কমেছে ২২ থেকে ২৮ শতাংশ। এর ফলে দারিদ্র্য বৃদ্ধি পেয়েছে।

এর আগে বিভিন্ন সময়ে সিপিডি জানিয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে নতুন কোরে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে এসেছেন দেশের দেড় কোটি মানুষ। অনলাইন সভায় জানানো হয়, বিভিন্ন সংস্থার গবেষণার পরও নতুন দরিদ্রদের হিসাব নিয়ে অস্বীকৃতি আছে নীতি-নির্ধারক পর্যায়ে।

এ বিষয়ে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, মহামারির প্রভাবে যারা কাজ হারিয়েছেন তাদের জন্য এবারের বাজেটে কোনো ভাতার ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হলেও, বিশেষ ভাতার অর্থ বাড়েনি। যা বর্তমান অবস্থা বিবেচনায় সামাজিক সুরক্ষা দিতে যথেষ্ট নয় বলে মনে করছে সিপিডি।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com