বুধবার, ১৫ Jul ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিংয়ের আগমনের পর থেকে চীন দেশটির পূর্ব-পশ্চিমে এবং অন্যান্য রাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বেশি আগ্রাসি হয়ে উঠেছে। দ্বিতীয় অটল বিহারি বাজপেয়ী স্মারক বক্তৃতার সময় অস্ট্রেলিয়ার লোই ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক ডা. মাইকেল ফুলিলোভ এ কথা বলেন। সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস এ খবর জানিয়েছে।
ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে দীর্ঘ সময়ের জন্য দ্বিমেরু প্রতিযোগিতার দিকে যাচ্ছে বিশ্ব, উল্লেখ করে পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ ডা. মাইকেল ফুলিলোভ বলেন, চীনের অর্থনৈতিক উত্থান অভূতপূর্ব, কিন্তু ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান এশিয়ার সাফল্যের গল্পের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ডা. মাইকেল ফুলিলোভ বলেন, উদীয়মান এশিয়া হলো বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অংশ, যা বিশ্ব অর্থনীতির মাত্র এক-তৃতীয়াংশের প্রতিনিধিত্ব করেও বিশ্বব্যাপী প্রবৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি অবদান রাখে।
‘অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ইন্দো-প্যাসিফিক : কৌশলগত কল্পনার প্রয়োজন’ শীর্ষক স্মারক বক্তৃতায় ফুলিলোভ বলেন, ‘এশিয়ার অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক হলেও নিরাপত্তার দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক নয়।’
ডা. মাইকেল ফুলিলোভ সতর্ক করেন, বিশ্ব ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিমেরু প্রতিযোগিতার দীর্ঘ সময়ের দিকে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই গত এক দশকে ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরে উদ্বেগজনক আচরণ দেখিয়েছে।
ভূ-রাজনীতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সময় মার্কিন নীতির প্রভাবের নিন্দা করে ফুলিলোভ বলেন, গত এক দশকে ওয়াশিংটনের আন্তর্জাতিক অবস্থান পরিবর্তনযোগ্য হলেও বেইজিংয়ের অবস্থান স্থিতিশীল এবং ক্রমবর্ধমানভাবে তা উদ্বেগজনক।
ডা. মাইকেল ফুলিলোভ আরও বলেন, ২০১২ সালে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ক্ষমতায় আসার পর চীন পূর্ব ও পশ্চিমের সীমান্তে এবং অন্যান্য দেশের সঙ্গে তার সম্পর্কের ক্ষেত্রে অনেক বেশি আগ্রাসি হয়ে উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ অস্ট্রেলিয়া।’
ডা. মাইকেল ফুলিলোভ আরও বলেন, বেইজিংয়ের সঙ্গে ক্যানবেরার সম্পর্কের পতনের মূল কারণ হলো ‘চীন বদলে গেছে।’ দেশটির ‘বৈদেশিক নীতি কঠোর’ হয়েছে। চীনের অভ্যন্তরে মানুষের ওপর কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে। সমালোচনা গ্রহণ করার শক্তি চীন হারিয়ে ফেলেছে।
অটল বিহারি বাজপেয়ির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে গত শনিবার দ্বিতীয় অটল বিহারি বাজপেয়ি বক্তৃতার আয়োজন করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
