মঙ্গলবার, ৩০ Jun ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে ইউক্রেনের একটি বড় আকারের ড্রোন হামলা তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ধ্বংস করেছে। ইউক্রেনের মোট ৪২টি ড্রোন একে একে ক্রিমিয়ার দিকে ধেয়ে আসলে তা সরাসরি ধ্বংস ও আটকে দিয়ে এ হামলাচেষ্টা ব্যর্থ করে দেয় রুশ বাহিনী।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকালের রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, ক্রিমিয়ায় রাতের আঁধারে ইউক্রেনের এসব ড্রোন হামলা চালাতে আসলে তাদের বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী ৯টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে। সেই সঙ্গে আরও ৩৩টি ড্রোন ‘লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ইলেকট্রনিক ওয়্যারফেয়ার দিয়ে আটকে ও সরাসরি ধ্বংস করা হয়েছে।’
তবে এতে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহাতের ঘটনা ঘটেছে কিনা এ সময় তা জানায় নি রুশ মন্ত্রণালয়। তারা আরও বলেছে যে, এ সময় মস্কোর সীমান্তবর্তী কালুগা অঞ্চলের ওপর দিয়ে ইউক্রেন থেকে উৎক্ষেপণ করা একটি ক্ষেপণাস্ত্রও গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে ক্রিমিয়ার বন্দর নগরী সেবাস্তোপলে মস্কোর নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ ম্যাসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামে বলেছেন যে, বেশ কিছু ড্রোনকে খেরসনের সমুদ্রতীরবর্তী অংশে ধ্বংস করা হয়েছে। এই অঞ্চলটি সেবাস্তোপলের উপকন্ঠে অবস্থিত। কৃষ্ণ সাগর সংলগ্ন এই এলাকাতেই রাশিয়ার সমুদ্র নৌবহর রয়েছে।
গভর্নর মিখাইল বলেছেন, ‘ক্রিমিয়ার সমস্ত বাহিনী ও সেবা সংস্থাগুলোর যুদ্ধের প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে।’তবে ধ্বংস করা এই ড্রোনগুলো প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের উল্লেখ করা ওই ৪২টি ড্রোনের অংশ কি না তা জানা যায় নি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে অভিযান চালিয়ে ইউক্রেনের কাছ থেকে ক্রিমিয়া দ্বীপ দখল করে নেয় রাশিয়া। এর আট বছর পর ২০২২ সালে ইউক্রেনে আবারও সামরিক অভিযান শুরু করে মস্কো। এর পর থেকেই অঞ্চলটি ইউক্রেনের হামলার শিকার হতে শুরু করে। তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের হামলা ও হামলার চেষ্টা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। সেই সঙ্গে বারবার ক্রিমিয়াকে নিজেদের দখলে ফিরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে আসছে কিয়েভ। বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) ইউক্রেন দাবি করেছে যে, তার বাহিনী ‘বিশেষ অভিযান’ চলাকালীন রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়ায় ইউক্রেনের পতাকা উড়িয়েছে।