শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৩৭ পূর্বাহ্ন
চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশে, যা গত চার প্রান্তিকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। শক্তিশালী পরিষেবা খাত ও সরকারি মূলধন ব্যয় বাড়ানোর কারণে এ প্রবৃদ্ধি এসেছে বলে মনে করা হচ্ছে। খবর নিক্কেই এশিয়া।
দ্বিতীয় প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি রয়টার্সের করা ৭ দশমিক ৭ শতাংশ পূর্বাভাসকে ছাড়িয়ে গেছে। প্রথম প্রান্তিকে অর্থাৎ জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকের প্রবৃদ্ধি ছিল ৬ দশমিক ১ শতাংশ। ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই) জুনে শুরু হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে পৌঁছতে পারে বলে প্রত্যাশা করছে। আরবিআই পুরো বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নির্ধারণ করেছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ।
চলতি আর্থিক বছরের বাজেটই ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের আগে মোদি সরকারের শেষ পূর্ণাঙ্গ বাজেট। এ বাজেটে মূলধন বিনিয়োগ ব্যয় ৩৩ শতাংশ বাড়িয়ে ১০ ট্রিলিয়ন রুপি বা ১২ হাজার ১০০ কোটি ডলার বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে টানা তিন বাজেটে মূলধন ব্যয় বাড়িয়েছে বিজেপি সরকার।
বেঙ্গালুরুভিত্তিক ড. বি আর আম্বেদকার স্কুল অব ইকোনমিক্স ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এনআর ভানুমূর্তি বলেছেন, ‘প্রাথমিক তথ্যগুলো বলছে, সরকারি বিনিয়োগের পাশাপাশি অবকাঠামো খাতে বেসরকারি বিনিয়োগও বেড়েছে। এপ্রিল-জুনের ৭ দশমিক ৮ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার নিয়ে ভারত এখন সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতির দেশগুলোর একটি। প্রতিবেশী এশিয়ান জায়ান্ট চীনের অর্থনীতি জুনে শেষ হওয়া দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।’
ভানুমূর্তি মনে করেন, প্রত্যাশা অনুযায়ী এগোচ্ছে ভারতের অর্থনীতি। চলতি আর্থিক বছরের প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বেড়েছে, বিশেষ করে দ্বিতীয় প্রান্তিকে। ধারণা করা হচ্ছে দ্বিতীয়ার্ধের প্রবৃদ্ধি প্রথমার্ধের চেয়ে বেশি হবে না। আগস্টের শুরুতে আরবিআই গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক ধাক্কা সত্ত্বেও ভারতীয় অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ছিল এবং তা শক্তিশালী আছে।’ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের পর বক্তৃতাকালে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের অর্থনীতি যৌক্তিক গতিতে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে এবং বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিতে প্রায় ১৫ শতাংশ অবদান রেখেছে।
সবজির দাম বাড়ায় মূল্যস্ফীতির উদ্বেগের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আগস্টে টানা তৃতীয়বারের মতো তার বেঞ্চমার্ক সুদের হার ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ অপরিবর্তিত রেখেছে। ৮-১০ আগস্টে অনুষ্ঠিত মুদ্রানীতি কমিটির বৈঠকের কয়েকদিন পর সরকারি তথ্যে দেখা গেছে, ভারতের খুচরা মূল্যস্ফীতি জুলাইয়ে ১৫ মাসের সর্বোচ্চ ৭ দশমিক ৪৪ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আরবিআইয়ের সহনশীলতা ব্যান্ডের উচ্চসীমা (২ থেকে ৬ শতাংশ) লঙ্ঘন করেছে।