শুক্রবার, ২৬ Jun ২০২৬, ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

বুরভেস্টনিক’ ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার দাবি পুতিনের

অত্যাধুনিক পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্রের সফল পরীক্ষার দাবি করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। পারমাণবিক শক্তিসম্পন্ন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ‘চ‚ড়ান্ত সফল পরীক্ষা’ চালানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। ‘বুরভেস্টনিক’ নামের এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা আগে অনেকবার ব্যর্থ হওয়ার খবর এসেছিল। যদিও ‘বুরভেস্টনিক’ নামে পরিচিত এই ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষার বিষয়ে ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’র একটি রিপোর্টকে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন তার মুখপাত্র। তবে তিনি প্রত্যাখ্যান করার কয়েক দিনের মধ্যেই এই দাবি করলেন পুতিন।

২০১৮ সালে প্রথম এই পরীক্ষামূলক অস্ত্রের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল, যেটি তার সীমাহীন পাল্লা বা মাত্রার জন্য বিশেষভাবে প্রশংসিত। অর্থাৎ, এর মাত্রা নির্দিষ্ট করা নয়। তবে সরকারিভাবে এর সক্ষমতা সম্পর্কে কমই জানা যায়। তবে এর আগে এর পরীক্ষাগুলো ব্যর্থ হয়েছে বলে খবর বেরিয়েছিল। যদিও উপগ্রহ থেকে তোলা কিছু ছবি ছড়িয়ে পড়েছিল গত মাসে, যেখানে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, সোভিয়েত যুগে পরমাণু পরীক্ষা চালানো হতো, এমন একটি প্রত্যন্ত দ্বীপ এলাকায় রাশিয়া নতুন করে কিছু স্থাপনা নির্মাণ করছে। ওই ছবিগুলোতে দেখা যায়, বারেন্টস সাগরের উত্তরাঞ্চলে নোভায়া জেমলিয়া দ্বীপপুঞ্জে কিছু নির্মাণ কাজ চলছে।

সোচির কৃষ্ণ সাগর রিসোর্টে বৃহস্পতিবার এক সভায় পুতিন বলেন, ‘আমরা অত্যাধুনিক কৌশলগত অস্ত্রের কাজ শেষ করে এনেছি। যেটা সম্পর্কে আমি আগেই বলেছি এবং কয়েক বছর আগে ঘোষণা দিয়েছিলাম।’ সভাটি রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক মাত্রার পারমাণবিক শক্তিধর ত্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র-বুরভেস্টনিকের চ‚ড়ান্ত সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছে।’

নিউ ইয়র্ক টাইমস অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রচারণায় নিয়োজিত ‘দি নিউক্লিয়ার থ্রেট ইনিশিয়েটিভ’-কে উদ্ধৃত করে বলেছে, ২০১৭ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত এর অন্তত ১৩টি পরীক্ষা ব্যর্থ হয়েছিল। পুতিন অবশ্য বলেছেন, সারমাত নামের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের কাজও এখন প্রায় চ‚ড়ান্ত পর্যায়ে আছে। তিনি গত বছর বলেছিলেন, সারমাত নামের পরমাণু বোমা বহনকারী আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশ্বের সবচেয়ে সেরা এবং এটি বিশ্বের যে কোনো ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে পরাস্ত করতে সক্ষম। পশ্চিমা গণমাধ্যমে সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রটিকে ‘সেটান টু’ বা শয়তান দুই নামে অভিহিত করে আসছে। তবে এসব ঘোষণা সত্তে¡ও পুতিন জানিয়েছেন, রাশিয়ার ঘোষিত পরমাণু ডকট্রিন বদলানোর কোনো চিন্তা-ভাবনা নেই- অর্থাৎ আক্রমণের শিকার হলে বা কেবল বাধ্য হলেই এসব অস্ত্র ব্যবহার করা হতে পারে। তিনি বলেন, রাশিয়ার অস্তিত্ব হুমকির মুখে নয় এবং কোনো সুস্থ মানুষই রাশিয়ার বিরুদ্ধে পরমাণু আক্রমণের চিন্তা করতে পারে না।

তবে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা নিষিদ্ধ করতে করা ১৯৯৬ সালের চুক্তির অনুসমর্থন তার দেশ প্রত্যাহার করতে পারে। তার যুক্তি হলো, আমেরিকা এটিতে স্বাক্ষর করলেও এখনো র‌্যাটিফাই বা অনুসমর্থন করেনি। সে কারণে রাশিয়াও একই পথে এগোতে চায়।

ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে যা জানা যায় বুরভেস্টনিক ক্ষেপণাস্ত্র সম্পর্কে যা জানা যায়, তা হলো- এটা শুধু পরমাণু অস্ত্র বহনে সক্ষম নয়, বরং এটি নিজেই পারমাণবিক শক্তিধর, যা সামুদ্রিক পাখির মতো খুব নিচ দিয়েও উড়ে যেতে সক্ষম। ন্যাটো এই ক্ষেপণাস্ত্রের কোডনেম দিয়েছে ‘স্কাইফল’। এটি নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর চালিত, যা সলিড ফুয়েল রকেট বুস্টারের মাধ্যমে নিক্ষেপের পর সক্রিয় হওয়ার কথা।

পুতিন এর আগে বলেছিলেন, এই ক্ষেপণাস্ত্রের সমকক্ষ আর একটিও এখন পৃথিবীতে নেই এবং আগামী বহু বছরেও তা হবে না। তিনি বলেছিলেন, এটি আসলেই একটি অদ্বিতীয় অস্ত্র। এটি রাশিয়ার যুদ্ধের সক্ষমতা অনেক শক্তিশালী করবে। যারা ক্ষিপ্তভাবে উগ্র ও আগ্রাসী কথাবার্তা বলে রাশিয়াকে হুমকি দেওয়ার চেষ্টা করছে, তাদের এখন থেকে দ্বিতীয়বার চিন্তা করতে হবে।’

উল্লেখ্য, বহু বছর ধরে চলেছে ক্ষেপণাস্ত্রটি তৈরির কাজ। বেশ কবার এর উৎক্ষেপন পেছানোর পর ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার দুই মাসের মাথায় এর সফল পরীক্ষা চালানো হয়েছিল। বহু বছর চেষ্টার পর ক্ষেপণাস্ত্রটির উৎক্ষেপণ রাশিয়ার জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এর আগে এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘এটি চলার পথ পরিবর্তন করে তার লক্ষ্যে আঘাত করতে পারে। এটি উৎক্ষেপণ করতে যে যানটি সাহায্য করে সেটি শব্দের চেয়ে বেশি গতিতে চলে। এর ওয়ারহেডগুলো আলাদা লক্ষ্যে আঘাত হানতে পারে। এতে যে কয়েকটি ওয়ারহেড রয়েছে, যে গতিতে এটি যাত্রা করে, তাতে সারমাত বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী ক্ষেপণাস্ত্র। এটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দূরত্বে আঘাত হানতে সক্ষম। রাশিয়ার মিসাইল রেজিমেন্টকে নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সমৃদ্ধ করার কাজ চলমান আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com