রবিবার, ১২ Jul ২০২৬, ০৩:২৭ পূর্বাহ্ন
বিনোদন ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : গত রোজার ঈদকে উপলক্ষ করে ইন্টারনেটে প্রকাশিত তিনটি বাংলাদেশি ওয়েব সিরিজের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, নির্মাতা ও অভিনয় শিল্পীদের বিরুদ্ধে অশ্লীলতা ও দেশীয় আইন ভঙ্গের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানা গেছে।
সিরিজগুলো হচ্ছে শিহাব শাহীন পরিচালিত ‘আগস্ট-১৪’, সুমন আনোয়ার পরিচালিত ‘সদরঘাটের টাইগার’ ও ওয়াহিদ তারিক পরিচালিত ‘বুমেরাং’। সিরিজগুলোতে অভিনয় করেছেন শহীদুজ্জামান সেলিম, আজাদ আবুল কালাম, মৌটুসী বিশ্বাস, শ্যামল মওলা, হিল্লোল, ইমি, অর্ষা, তাসনুভা তিশা, ফারহানা হামিদ, আবু হুরায়রা, শতাব্দী ওয়াদুদ, মনিরা মিঠু, শাওন, তানভীর প্রমুখ।
‘১৪ আগস্ট’-এর গল্পে তুশির বন্ধুদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক, বাসায় একা নীল সিনেমা দেখার উত্তেজনাসহ নানা কুরুচিপূর্ণ দৃশ্য রয়েছে। এ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনুভা তিশা। ‘বুমেরাং’-এ আদনান ফারুক হিল্লোল ও নাজিয়া হক অর্ষার বিছানায় যৌন উত্তেজক দৃশ্য সিরিজটিকে বিতর্কিত করেছে। অন্যদিকে ‘সদরঘাটের টাইগার’ সিরিজে নামভূমিকায় অভিনয় করেন শ্যামল মাওলা। তার বিপরীতে লাইলী চরিত্রে ফারহানা হামিদ। এ সিরিজটির অধিকাংশ সংলাপে একাধিকবার অশালীন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এসব নিয়েই ছিল দর্শকের অভিযোগ। সেই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় এতটাই বিস্তৃত হয়েছে, বিষয়টি আইন আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।
বিঞ্জ নামে একটি অনলাইন প্লাটফর্মে সিরিজগুলো মুক্তি পেলেও সেগুলো পরবর্তী সময়ে ইউটিউবেও ছড়িয়ে যায়। সেই থেকে বিতর্ক আরও বাড়ে। এ বাড়াবাড়িটা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিনির্ধারকদের কানে গিয়েও পৌঁছায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে জারি হয় সতর্কতা। এসব নির্মাতাকে সতর্ক করেছেন খোদ তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘ওয়েব সিরিজ, সিনেমা বা যে কোনো কিছু নির্মাণ ও প্রচার করার ক্ষেত্রে আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হয়।
আমাদের একটি কৃষ্টি এবং সংস্কৃতি আছে, আমাদের সমাজের একটি মূল্যবোধ আছে। এটি অনেক সময় অনেকে মাথায় রাখেন না।’ তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে, এ দোহাই দিয়ে আমাদের কৃষ্টি-সংস্কৃতিকে অবজ্ঞা করে কোনো কিছু করা কখনই সমীচীন নয়। আইন অনুযায়ীও সেটি দণ্ডনীয় অপরাধ। বাংলাদেশে ২০১২ সালে প্রণীত এ সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী এ ধরনের অশ্লীলতা প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছর কারাদণ্ড।’ পাশাপাশি অশ্লীল ওয়েব সিরিজ নির্মাতা ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, ‘যেসব সার্ভিস প্রোভাইডার এ ধরনের ওয়েব সিরিজ প্রচার করার সুযোগ করে দিয়েছে, তাদের এ কাজের জন্য আদৌ কোনো লাইসেন্স আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি লাইসেন্স না থাকে, তাহলে এ অবৈধ কাজের জন্য অবশ্যই আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর লাইসেন্স থাকলেও তাদের ডোমেইন ব্যবহার করে এ ধরনের অশ্লীল জিনিস প্রচার করাও দণ্ডনীয় অপরাধ। সে বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’
সে প্রক্রিয়া শুরুও হয়ে গেছে। এরই মধ্যে দেশের দুই বেসরকারি মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোন ও রবি নিজেদের প্লাটফরম এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েব সিরিজের নামে সেন্সরবিহীন কুরুচিপূর্ণ ভিডিও কনটেন্ট ওয়েবে আপলোড ও প্রচার করায় কোম্পানি দুটির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে সরকার। সম্প্রতি তথ্য অধিদফতর থেকে কোম্পানি দুটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর পৃথক চিঠি জারি করা হয়। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ‘সেন্সরবিহীন, নগ্ন ও অশালীন দৃশ্য, কাহিনী ও সংলাপসংবলিত ভিডিও কনটেন্ট প্রচার দেশের প্রচলিত আইন পরিপন্থী। এ ধরনের ভিডিও কনটেন্ট আপনার প্লাটফরম এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ওয়েবে আপলোড এবং প্রচার করার জন্য আপনার প্রতিষ্ঠান সরকারের কোনো রেজিস্ট্রেশন বা লাইসেন্সপ্রাপ্ত কিনা এবং থাকলে তা কী, সেটি সরকারের জানা প্রয়োজন।’
শুধু নেটওয়ার্ক অপারেটরই নয়, সিরিজগুলোর নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদেরও সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়। সূত্র জানিয়েছে, এসব নির্মাতা ও অভিনয়শিল্পীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে বিতর্কের মুখে এরই মধ্যে বিঞ্জ অ্যাপ থেকে ‘বুমেরাং’ ও ‘সদরঘাটের টাইগার’ সরিয়ে নিয়েছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রেড ডট ডিজিটাল লিমিটেড। কিছু দৃশ্য সংশোধন করে ‘আগস্ট ১৪’ অ্যাপে রাখা হয়েছে।
নগরকন্ঠ.কম/এআর