বৃহস্পতিবার, ১১ Jun ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

করোনাকালে হোটেলে থাকা কতটা নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় তিন মাস ঘরে আবদ্ধ থেকে মানুষ এখন জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাইরে বের হয়ে পড়েছে। লকডাউনের কড়াকড়ি নেই বলে এক জেলা থেকে আরেক জেলায় কাজের প্রয়োজনে পাড়ি দিতে হচ্ছে অনেককে। কাজের কারণে অথবা করোনা সহ অন্য রোগে আক্রান্ত অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসার জন্য রোগী সহ ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনার মতো বড় সিটির হাসপাতালে আসছেন অনেকে। কিন্তু কাঠখড় পুড়িয়ে হাসপাতালের একটি সিট জোগাড় হলেও রোগীর স্বজনদের থাকার জন্য হোটেলই ভরসা। করোনার এই মহামারি কালে হোটেল নিশ্চয়ই নিরাপদ জায়গা হতে পারে না। হোটেলে যাওয়ার আগে ভেবে দেখুন কিছু বিষয়-

হোটেলে থাকা নিরাপদ নয়: ঢাকা সহ বড় সব সিটির হোটেলগুলো খুব ব্যস্ত থাকে সাধারণত। বিভিন্ন জেলা থেকে মানুষজন এসে অবস্থান করে হোটেলে। আর তাই করোনার এই দুর্যোগের সময় হোটেলে ভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে অনেক বেশি। সে কারণে হোটেলে যদি অবস্থান করতেই হয় তাহলে অন্যদের কাছ থেকে অন্তত ছয় ফুট দূরে থাকুন। হয়তো হোটেলের রুমে থাকলে কিছুটা নিরাপদ থাকবেন, কিন্তু হোটেলের লবি বা রেস্টুরেন্টে গেলে নিরাপদ থাকা অনেকটাই দুরুহ ব্যাপার। আরেকটি জটিল পরিস্থিতি হলো আপনি রুমটিতে প্রবেশ করার আগে অন্য যে লোক ছিলেন সেখানে, তিনি করোনা আক্রান্ত ছিলেন কি না বা ভাইরাস বহন করছিলেন কি না, তা আপনি জানেন না। তাই তিনি যে বিছানা, টয়লেট ব্যবহার করেছেন, সেখানে করোনাভাইরাস লুকিয়ে থাকতে পারে। এছাড়া রুম সার্ভিসের কারণে হোটেল বয় বা রুম পরিষ্কার করার লোক হয়তো আপনার রুমে প্রবেশ করতে পারে। যতোবারই এমন কেউ রুমে প্রবেশ করবে, আপনার সংক্রমণের আশঙ্কাও ততো বাড়বে। কারণ ওই হোটেল বয় অসুস্থ কি না, বা সে বাইরে থেকে ভাইরাস বহন করে নিয়ে এসেছে কি না আপনি জানেন না।

আপনার নিরাপত্তা আপনার হাতেই: বিশ্বের প্রায় সব দেশের বিশেষজ্ঞরাই বলছেন করোনার এই সময়ে ভ্রমণে না গিয়ে ঘরেই থাকা উচিত। যদি চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণে বা খুব জরুরি প্রয়োজনে অন্য জেলায় গিয়ে হোটেলে উঠতেই হয়, তাহলে আপনার নিরাপত্তা আপনারই হাতে, তা আগে বুঝে নিন। এটা ঠিক যে হোটেল কর্তৃপক্ষ হোটেল রুম ও চারপাশ যথাসম্ভব পরিষ্কার করবে ও জীবাণুনাশক ছিটাবে তাদের সাধ্যমতো। কিন্তু আপনাকে অবশ্যই হোটেলে প্রবেশের আগে বেশ কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত-
* সব সময় মাস্ক পরে রাখবেন, কোনো কিছু ধরার পর হ্যান্ডওয়াশ বা সাবান দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলবেন।

* আপনার সাথেই জীবাণুনাশক নিয়ে যাবেন। হোটেল রুমে প্রবেশ করেই রুমের দরজা, বাথরুমের দরজার হাতল, বেসিনের ও বাথরুমের কলের হাতল সবগুলো জীবাণুনাশক দিয়ে পরিষ্কার করে নিবেন।

* রুম থেকে বের হয়ে লিফটের মাধ্যমে রেস্টুরেন্টে বা নিচে আসা-যাওয়া করতে হলে লিফটের বাটন চাপ দেয়ার সময় খুব সতর্ক থাকবেন। সেসব বাটন চাপ দেয়ার পর ও সবার ব্যবহৃত কোনো কিছু ধরার পর সাবান দিয়ে হাত না ধুয়ে মুখে-নাকে বা চোখে হাত লাগাবেন না।

* দিনে একবারই রুম পরিষ্কারের সুযোগ দিন। এতে করে বেশি মানুষ আপনার রুমে প্রবেশ করতে পারবে না, তাই সংক্রমণের আশঙ্কাও কমবে।

* নিচে রেস্টুরেন্টে না গিয়ে আপনার রুমেই খাওয়ার চেষ্টা করুন। এতে অন্য মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

* হোটেলের স্টাফরা কিভাবে পরিচ্ছন্নতার কাজটি করছে, তা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করুন। এতে করে কর্তৃপক্ষ মহামারিকে কতোটা সিরিয়াসলি নিয়েছে, তা বুঝতে পারবেন।

* সংক্রমণের আশঙ্কা এড়াতে নতুন হোটেল বেছে নেয়াটা হয়তো ঠিক হবে না। আপনি জানেন না সেখানকার ব্যবস্থাপনা কেমন। এক্ষেত্রে সুনাম আছে বা আপনি আগে অবস্থান করে সন্তুষ্ট হয়েছেন, তেমন হোটেলই বেছে নিন।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com