শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ০৪:২০ পূর্বাহ্ন
বিনোদন ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : মাদকের ভয়ঙ্কর ছোবল থেকে রক্ষা পাচ্ছেন না বলিউডবাসীরাও। বিশেষ করে এ ইন্ডাস্ট্রির প্রথম সারির অনেক তারকা মাদক নেন। সম্প্রতি এমনই এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বলিউড অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘নারকোটিক্স ব্যুরো কন্ট্রোল যদি বলিউডে ঢোকে তাহলে প্রথম সারির সব তারকা জেলের ভেতর থাকবেন। সবার রক্ত পরীক্ষা করা গেলেই বিস্ফোরক তথ্য বেরিয়ে আসবে। আশা করছি, স্বচ্ছ ভারত মিশনে প্রধানমন্ত্রী বলিউডের এ আবর্জনাও দূর করবেন।’
তিনি যে একেবারে মিথ্যা বলেছেন- তা-ও নয়। সম্প্রতি সুশান্ত সিং রাজপুতের মামলায় মাদকের সংযোগ যোগ পাওয়ার পর থেকেই সিবিআইয়ের তদন্তেও এ রকম কিছু উঠে এসেছে। সিবিআই অবশ্য নাম প্রকাশ করেনি। তবে তারা ইঙ্গিত দিয়েছেন, বলিউডে মাদকের ব্যবহার হরহামেশাই হচ্ছে। সেটি কী ধরনের মাদক- এ বিষয়টিও অবশ্য পরিষ্কার করেনি তদন্ত সংস্থাটি।
বিশ্বজুড়ে ‘হ্যাশট্যাগ মি-টু’ আন্দোলন শুরু হওয়ার পর থেকে বলিউডের অভিনেতা-অভিনেত্রী, পরিচালক ও নির্মাতাদের নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে এমনিতেই আলোচিত এবং সমালোচিত কঙ্গনা। তিনি দাবিও করেছেন, ছবিতে ভালো চরিত্র পেতে তাকে কিছু প্রযোজক বিছানায় যাওয়ার কথাও বলেছেন। যেটিকে ‘কাস্টিং কাউচ’ বলা হয়। এবার মাদকের বিষয়টি তিনি উল্লেখ করেছেন সুশান্ত সিংয়ের মামলায় মাদক সম্পৃক্ততার খবর শোনার পর।
সিবিআই তদন্তে জানা গেছে, সুশান্তের প্রেমিকা চক্রবর্তী নিষিদ্ধ ড্রাগ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এমনকি তিনি নিজেও ড্রাগ নিতেন। রিয়া চক্রবর্তীর হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট তদন্ত করে জানা গেছে, রিয়া ও তার ভাই সৌভিক চক্রবর্তী এবং স্যামুয়েল মিরান্ডাসহ বেশ কয়েকজন ড্রাগ নিয়ে কথাবার্তা বলেছেন। তার মধ্যে রয়েছে- গাঁজা, চরস ও এমডিএমএ। এ তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই রিয়ার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করেছে এনসিবি।
সিবিআইয়ের ধারণা, সুশান্ত সিং রাজপুতকেও ড্রাগ দেয়া হয়েছিল এবং সেটি ছিল মারিজুয়ানা বা গাঁজা। এ ড্রাগ ছেড়ে দেয়ার পণও তিনি করেছিলেন। কিন্তু সে সময় আর পাননি। তাই ভারতীয় নারকোটিক্স ব্যুরো কন্ট্রোল ফৌজদারি মামলা করেছে রিয়ার বিরুদ্ধে।
খবরটি প্রকাশের পরই অন্যদের মাদক নেয়ার বিষয়েও মুখ খুলেছেন কঙ্গনা রানাউত। টুইট করার পর তার এ মন্তব্য মুহূর্তে ভাইরাল হয়। যদিও রিয়ার এমন টুইটকে ভালো চোখে দেখেননি বলিউডে প্রখ্যাত অনেক তারকা। কেউ কেউ বলেছেন, কঙ্গনা আসলে মানসিক অবসাদে ভুগছেন। তার চিকিৎসা প্রয়োজন।
আবারও কেউ কেউ ড্রাগ নেয়ার বিষয়ে কঙ্গনার দিকেও আঙুল তুলেছেন। তার বিষয়েও তদন্ত করার জন্য সিবিআইয়ের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।
নগর কন্ঠ.কম/এআর