বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে যেসব খাবার খাবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : কোষ্ঠকাঠিন্যের সাধারণ কারণ হলো ডায়েটে ফাইবার বা পানির অপর্যাপ্ততা। কখনো কখনো বৃহদান্ত্রের প্রতিবন্ধকতা থেকেও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। সাধারণ কারণে কোষ্ঠকাঠিন্য হলে জীবনযাপনে কিছু পরিবর্তন এনে সমস্যাটি দূর করা যায়। তাই প্রথমেই ল্যাক্সাটিভের জন্য ওষুধের দোকানে ছুটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। এখানে কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে যেসব খাবার খাওয়া উচিত তা উল্লেখ করা হলো, কিন্তু এতে কাজ না হলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন।

ফল, শাকসবজি, শিমের বিচি ও গোটা শস্য: কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে ডায়েটে বেশি করে ফল, শাকসবজি, শিমের বিচি ও গোটা শস্য অন্তর্ভুক্ত করে দেখতে পারেন মুক্তি মিলে কিনা। এসব খাবারে প্রচুর আঁশ থাকে, যা পরিপাকতন্ত্রের বর্জ্য অপসারণে চাবিকাঠি হিসেবে কাজ করে। বৃহদান্ত্রে আঁশ গমনের সময় তরল শোষিত হয়ে বর্জ্যের স্তূপ তৈরি হয় ও মল নরম থাকে। এর ফলে মলত্যাগ সহজ হয়। শাকসবজি ও ফলের খোসা, ডাঁটা ও পাতাতে আঁশের পরিমাণ বেশি। তাই আপলের খোসা ও ব্রোকলির ডাঁটা ফেলে দেবেন না। পালংশাক ও ব্রোকলির মতো ঘন সবুজ পাতার শাকসবজি ডাবল কাজ করতে পারে, কারণ এসবে আঁশের পাশাপাশি প্রচুর ম্যাগনেসিয়ামও রয়েছে। ম্যাগনেসিয়ামও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে অবদান রাখে।

আলুবোখারা: আলুবোখারা মৃদু ল্যাক্সাটিভ হিসেবে কাজ করে। এটি বৃহদান্ত্রের মধ্য দিয়ে বর্জ্য নামাতে মাংসপেশিকে উদ্দীপ্ত করে। পাঁচটি আলুবোখারাতে প্রায় ৩ গ্রাম আঁশ থাকে। আলুবোখারার জুসও কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে সমান কার্যকর। গবেষকদের মতে আলুবোখারার আঁশ ও সরবিটলের (একপ্রকার সুগার অ্যালকোহল) যৌথ ক্রিয়ায় কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

কফি ও অন্যান্য গরম পানীয়: কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগলে কফি পান করে দেখতে পারেন। এতে ভালো কাজ হয় বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এর অন্যতম কারণ হলো গরম পানীয় বর্জ্যের চলাচলে গতি আনে। সেই হিসেবে অন্যান্য গরম পানীয়ও কোষ্ঠকাঠিন্যে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে কফির ভূমিকা অন্যান্য গরম পানীয়ের চেয়ে একটু বেশি, কারণ এটি অন্ত্রের মাংসপেশিকে সংকুচিত হতে উদ্দীপ্ত করে। কিন্তু এটি দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে না, কারণ কফি পানে মূত্রত্যাগের হার বেড়ে যায়।

পানি: শুধু আঁশে সমৃদ্ধ খাবার খেলে হবে না, পর্যাপ্ত পানিও গ্রহণ করতে হবে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে আঁশের জাদুকরি কাজ সম্পন্ন হতে পানিরও প্রয়োজন রয়েছে। যথেষ্ট পানি পান না করলে আমাদের শরীর বর্জ্য থেকে পানি শুষে নেয়, যার ফলে মল শক্ত হয়ে যায় ও বের হয়ে আসতে পারে না। সাধারণ পানি পানে আগ্রহ না থাকলে এর সঙ্গে ফলের রস মিশিয়ে সুস্বাদু করে নিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, সাধারণ পানিতে স্ট্রবেরি, নাশপাতি, তরমুজ ও লেবুর রস মেশাতে পারেন।

ফ্ল্যাক্সসিড ও ইসবগুলের ভূষি: ফ্ল্যাক্সসিড ও ইসবগুলের ভুষি কোষ্ঠকাঠিন্য দূরীকরণে সহায়তা করে। ঘুমাতে যাওয়ার পূর্বে এক মগ (২৫০ মিলিলিটার) গরম দুধে এক চা-চামচ ফ্ল্যাক্সসিডের গুঁড়া মিশিয়ে পান করুন। সকালে সিরিয়ালে বা ফলের স্মুদিতে ২ টেবিল চামচ ফ্ল্যাক্সসিডের গুঁড়া ছিটাতে পারেন। রাতে ঘুমানোর আগে এক মগ পানিতে ইসবগুলের ভুষি মিশিয়েও পান করতে পারেন। নিয়মিত ইসবগুলের ভুষি খেলে সাধারণ কারণে সৃষ্ট কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ হবে।

ইউরোপিয়ান-স্টাইল সালাদ: ইউরোপে অনেকে খাবার খাওয়ার পর সালাদ খেয়ে থাকেন। মূলত কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে খাবার খাওয়ার পর আঁশ সমৃদ্ধ সালাদ খাওয়া হয়। এই সালাদ পরিপাকতন্ত্রে অন্যান্য খাবারের বর্জ্য গমনে সহায়তা করে। খাবার খাওয়ার এক ঘণ্টা আগে বা পরে ফল খেলেও উপকার পাওয়া যেতে পারে।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com