বুধবার, ১০ Jun ২০২৬, ১০:৫১ পূর্বাহ্ন

শিরোনামঃ
ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ সুদানে জাতিসংঘের ঘাঁটিতে হামলা, ৬ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী নিহত জাপানে জোট সরকার গড়তে রাজি এলডিপি, ইশিন হামাস যুদ্ধ বিরতির লঙ্ঘন ঘটিয়েছে অভিযোগ করে গাজায় ইসরায়েলের হামলা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ট্রাম্পবিরোধী বিক্ষোভে লাখো মানুষের ঢল

মাটির কাপ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : প্রতিটি দেশেরই নিজস্ব শিল্প ও সংস্কৃতি রয়েছে। একটি দেশ তার শিল্প ও সংস্কৃতির পরিচয়েই বিশ্ব দরবারে পরিচিত হয়। বিলীয়মান মাটিরশিল্প আমাদের সভ্যতার পরিচয় বহন করছে। ধারণা করা হয়, মাটির শিল্পের বয়স আনুমানিক দশ হাজার বছর। সুপ্রাচীনকাল থেকে পরম্পরাগতভাবে গড়ে ওঠা গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী মাটিরশিল্প আজ বিলুপ্তির পথে। একদা গ্রামের সুনিপুণ কারিগরের হাতে তৈরি মাটির জিনিসের কদর ছিল সবচেয়ে বেশি। পরিবেশবান্ধব এ শিল্প শোভা পেত প্রতিটি বাড়িতে। গ্রীষ্মকালে মাটির কলসির পানি দূর করে দিত সব ক্লান্তিকে।

কিন্তু আধুনিকতার ছোঁয়ায় তা আজ হারিয়ে গেছে। আমাদের দেশে মৃৎশিল্পের ব্যবহার সেই অনাদিকাল থেকে। মাটির তৈরি শিশুদের খেলনাসামগ্রীসহ হাজারও তৈজসপত্র তৈরি হতো। এক সময় মাটির তৈরি তৈজসপত্র, মাটিরগহনা, শখেরহাঁড়ি, টেরাকোটা সামগ্রী উপহার দিলে মানুষ খুশি হতো।

অনন্যসাধারণ মাটিরশিল্প আজ ধ্বংসের পথে। আমাদের হাজার বছরের ঐতিহ্য-সংস্কৃতি, পরিবেশ/ প্রতিবেশ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতেই করোনাভাইরাসের অজুহাতে দেশব্যাপী ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ পরিহার করে মাটির কাপ ব্যবহারে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

আধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি প্লাস্টিক, অ্যালোমিনিয়াম, মেলামাইন ও স্টিলের জিনিসপত্র তৈরি হওয়ায় এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে টিকতে পারছে না মাটির তৈজসপত্র। বারবার ফুটতে ফুটতে স্বাদ হারিয়ে ফেলা চা সুস্বাদু হয়ে ওঠে মাটির কাপে। মাটির গন্ধ মাখা চায়ের কাপের প্রতিটি চুমুক যেন মন ও শরীরে আমেজের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। আজ এ করোনাভাইরাসের ক্রান্তিকালে জনস্বার্থে মাটির কাপে চা খাওয়ার পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাটির কাপে চা খেলে শরীরের কোনো ক্ষতি হয় না। কিন্তু প্লাস্টিকের কাপে গরম পানীয় খাওয়া একেবারেই ঠিক নয়। গরমের সংস্পর্শে আসার পর প্লাস্টিকের শরীরে থাকা একাধিক কেমিক্যাল গরম হতে শুরু করে। পানীয়তে মিশতে থাকা এসব কেমিক্যাল শরীরের পক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকর। এসব রাসায়নিকের কারণে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে মাটির কাপে চা খেলে এমন কোনো আশঙ্কাই থাকে না। তাই নিশ্চিন্তে মাটির কাপে চা পান করা যায়।

প্লাস্টিকের কাপ বানাতে যে উপাদান ব্যবহৃত হয়, সেগুলো বেশি মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে ক্লান্তি, হরমোনাল ইমব্যালেন্স, মস্তিষ্কের কর্ম ক্ষমতা কমে যাওয়াসহ একাধিক রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই এ বিষয়ে করোনাভাইরাসের সময়েই সাবধান হওয়া জরুরি।

পরিবেশবান্ধব মাটির পাত্রে চা খাওয়ার পর তা এদিক-সেদিক ফেলে দিলেও তাতে পরিবেশের কোনো ক্ষতি হয় না। কারণ তা ধীরে ধীরে মাটির সঙ্গে মিশে যায়। ফলে প্রাকৃতিক উপাদান দিয়ে তৈরি জিনিস প্রকৃতির কোলেই মিশে যায়। পক্ষান্তরে প্লাস্টিকের ‘ওয়ান টাইম’ চায়ের কাপ যত্রতত্র ফেলে দিলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করতে শুরু করে। যার মারাত্মক প্রভাব পড়ে জনস্বাস্থ্যের ওপর।

মাটির কাপ ব্যবহারে কোনো সংক্রমণের আশঙ্কা থাকে না। মাটির কাপের গুণের শেষ নেই। গবেষণা বলছে, মাটির কাপ বা পাত্র প্রকৃতিতে তৈরি। এতে কিছু পান করলে তা শরীরে প্রবেশ করা মাত্র এসিডের মাত্রা কমাতে শুরু করে। ফলে শরীর সার্বিকভাবে চাঙা হয়ে ওঠে। তাই যারা গ্যাস-অম্বলে ভুগে থাকেন তাদের মাটির গ্লাসে পানি খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com