বুধবার, ০৮ Jul ২০২৬, ১১:০৩ অপরাহ্ন

সিনেমা হল খুলছে: বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে

বিনোদন ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : করোনা মহামারির কারণে চলতি বছরের মার্চ থেকে সিনেমা হল বন্ধ রয়েছে। চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের দাবির মুখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খোলার অনুমতি দিয়েছে সরকার। আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে দেশের সব প্রেক্ষাগৃহ খুলে দেওয়া হবে। কিন্তু প্রেক্ষাগৃহে কোন সিনেমা চলবে তা এখনো নিশ্চিত নন হল মালিকরা। প্রযোজকরা নতুন সিনেমা মুক্তি দিতে কতটা প্রস্তুত তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। এদিকে নির্মাতারা এই পরিস্থিতিতে নতুন সিনেমা মুক্তি দিতে আগ্রহী নন।

একদিকে সিনেমা হল খুলে দেওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে বেশ কিছু বিষয় নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। এসব বিষয়ে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু কী ভাবছেন তা জানতে কথা হয় তার সঙ্গে।

খোরশেদ আলম খসরু রাইজিংবিডিকে বলেন—আমরা তো সিনেমা মুক্তি দিতেই চাচ্ছি। কিন্তু লোকসান করে তো কেউ সিনেমা মুক্তি দেবে না। এক সিট ফাঁকা রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিনেমা হল চলবে। এতে স্বাভাবিকভাবে দর্শক কম হবে। হল মালিকরা এখন প্রযোজকদের চাহিদামতো রেট দিলে অবশ্যই প্রযোজক সিনেমা মুক্তি দেবেন। আমার মনে হয় এই মুহূর্তে বড় বাজেটের সিনেমা মুক্তি দেওয়া উচিত। দর্শক হলে ফেরাতে হলে ‘মিশন এক্সট্রিম’-এর মতো সিনেমা মুক্তি দিতে হবে।

আগামী ১৬ অক্টোবর সিনেমা হল খোলার কথা রয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত পরিবেশক সমিতিতে একটি সিনেমার নামও নিবন্ধন করা হয়নি। যার ফলে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি কোন সিনেমা মুক্তির মধ্য দিয়ে আবার সিনেমা হল সরব হয়ে ওঠবে। তবে পুরোনো সিনেমা মুক্তি না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন খোরশেদ আলম খসরু। তার ভাষায়—কেউ ৩ কোটি টাকা খরচ করে ৫০ হাজার টাকায় হলে সিনেমা দেবে? বিষয়টি নিয়ে বারবার গলা ফাটিয়েছি। কিন্তু কেউ কর্ণপাত করেননি। হল মালিক আর প্রযোজকরা একসঙ্গে বসেন। করোনাকালে পুরোনো সিনেমা প্রদর্শন করলে তা হবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।

সরকারি প্রণোদনার বিষয়টি উল্লেখ করে খোরশেদ আলম খসরু বলেন—মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রণোদনা দিচ্ছেন। আমাদের সিনেমার জন্য কিছু দিলে হলমালিক ও প্রযোজকরা টিকে থাকতো। হল মালিকরা কীভাবে টাকা দেবে? আর টাকা না দিলে প্রযোজক কীভাবে সিনেমা ছাড়বে? সমন্বয়ের জন্য আমরা দুইবার চিঠি দিয়েছিলাম হল মালিক সমিতির প্রশাসককে। কিন্তু সবচেয়ে দুঃখজনক হলো তারা আমাদের চিঠির তোয়াক্কা করেননি, এমনকি উত্তর পর্যন্তও দেননি।

মধুমিতা হলের মালিক ও সাবেক হল মালিক সমিতির সভাপতি ইফতেখার নওশাদ কী ভাবছেন, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন—আমরা নতুন সিনেমা হলে চালাতে চাই। আর নতুন সিনেমা মুক্তি না দিলে হল খুলে লাভ কি? আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি নতুন সিনেমা মুক্তি না পেলে মধুমিতা হল খুলবে না। প্রযোজকরা এখন সিনেমা মুক্তি দিবে না কেন! বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে? দেশের প্রযোজক সিনেমা মুক্তি না দিলে আমদানি করে সিনেমা আনতে হবে।

সিনেমা মুক্তির বিষয়ে প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরুর ভাবনার সঙ্গে একমত নন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির মহাসচিব বদিউল আলম খোকন। তিনি বলেন—স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিনেমা হল খুলবে। একটি করে সিট ফাঁকা রাখতে হবে। এখন হল মালিক যদি প্রশ্ন করেন আমার খালি সিটের টাকা কে দেবে? বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার কথা বলেছি। সরকারকে বলেছিলাম, এখন সিনেমার সব ট্যাক্স মওকুফ করে দিতে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পুনরায় ট্যাক্স চালু করবেন। মূল বিষয় হলো হল মালিকদের কিছু প্রণোদনা দিলে আর একটু ভালো হতো। এই পরিস্থিতিতে আমি আমার বিগ বাজেটের সিনেমা মুক্তি দেব না। নরমাল পরিস্থিতি তৈরি হলে আমার ভালো সিনেমা মুক্তি দেব। এখন পুরোনো সিনেমা মুক্তি দেব।

এদিকে হল খোলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন দেশের সিনেমা হল মালিকরা। ছুটিতে থাকা কর্মীদের আবার কাজে ফেরাতে চাচ্ছেন। কিন্তু নতুন সিনেমা মুক্তি না পেলে তাদের বেতন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে মনে করছেন অধিকাংশ হল মালিক।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com